25/05/2026
#আরাফাতের দিন (৯ জিলহজ) ইসলামে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ, বরকতময় এবং মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। বছরের সব দিনগুলোর মধ্যে এই দিনটিকে শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়।
নিচে আরাফার দিনের প্রধান প্রধান ফজিলতগুলো তুলে ধরা হলো:
১. গুনাহ মাফ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দিন
আরাফার দিন আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের সবচেয়ে বেশি জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
আরাফার দিনের চেয়ে অন্য কোনো দিন আল্লাহ তাআলা এত বেশি বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না। তিনি এই দিনে বান্দাদের খুব নিকটবর্তী হন এবং ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করে বলেন, ‘আমার এই বান্দারা কী চায়?’" (সহীহ মুসলিম)
২. এক বছর আগের ও এক বছর পরের গুনাহ মাফ (রোজা রাখার ফজিলত)
যারা হজে যাননি, তাদের জন্য আরাফার দিনে রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এই একটি রোজার বিনিময়ে আল্লাহ দুই বছরের গুনাহ মাফ করে দেন।
মহানবী (সা.) বলেছেন:আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে, তিনি এর দ্বারা বিগত এক বছর এবং আগামী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।" (সহীহ মুসলিম)
৩. ইসলাম পূর্ণতা পাওয়ার দিন
এই পবিত্র দিনেই আল্লাহ তাআলা দ্বীন ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইহুদিরা উমর (রা.)-কে বলেছিলেন, "আপনাদের কিতাবে একটি আয়াত আছে, তা যদি আমাদের ওপর নাজিল হতো, তবে আমরা সেই দিনটিকে ঈদ হিসেবে উদযাপন করতাম।" আয়াতটি হলো:আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।" (সূরা মায়িদাহ, আয়াত: ৩)
হযরত উমর (রা.) জবাবে বললেন, "আমরা অবশ্যই জানি কোন দিন এবং কোন স্থানে এই আয়াত নাজিল হয়েছিল। এটি আরাফার মাঠে জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর নাজিল হয়েছিল।" সুবহানাল্লাহ
৪. দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ দিন
আরাফার দিনটি দোয়ার জন্য বছরের সবচেয়ে সেরা সময়।
এই দিনে করা দোয়া আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না বললেই চলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:সবচেয়ে উত্তম দোয়া হলো আরাফা দিবসের দোয়া।" (সুনানে তিরমিযী)
৫. শয়তানের চরম অপমান ও লাঞ্ছনার দিন
আল্লাহ তাআলা এই দিনে অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করেন এবং দয়া ও রহমত বর্ষণ করেন। বান্দাদের এই ক্ষমা পাওয়া দেখে শয়তান চরম হতাশ ও অপমানিত বোধ করে। হাদিসে এসেছে, আরাফার দিন ছাড়া অন্য কোনো দিন শয়তানকে এত বেশি লজ্জিত, বিতাড়িত, অপমানিত ও রাগান্বিত দেখা যায় না।
আরাফার দিনের করণীয়:
যারা হজে যেতে পারেননি, তাদের জন্য এই দিনের শ্রেষ্ঠ আমল হলো ১-রোজা রাখা, ২-যদি সম্ভব হয়), বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করা, ৩-তাকবীরে তাশরীক (আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ) পাঠ করা ,তাকবিরে তাশরীক এর সময়কাল
• শুরু: ৯ জিলহজ (আরাফাহর দিন) ফজর নামাযের পর থেকে।
• শেষ: ১৩ জিলহজ আসর নামাযের পর পর্যন্ত।
এবং বিশেষ করে আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টুকু দোয়ার মধ্যে কাটানো।
হজ ২০২৭ এর বুকিং চলমান বুকিং দিতে যোগাযোগ করুন- 01690087157