18/02/2016
মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ১৯৭১ সালের দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক আজাদ, দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক আজাদী পত্রিকায় প্রকাশিত বেশকিছু খবরের কাটিং জমা দেয়া হয়েছে ডকুমেন্ট আকারে। এসব খবরে মীর কাসেম আলীর বিভিন্ন বক্তব্য বিবৃতি এবং নাম উল্লেখ রয়েছে।
আজ বুধবার আপিল শুনানিতে মীর কাসেম আলীর পক্ষে আইনজীবী এসএম শাহজাহান রাষ্ট্রপক্ষের জমা দেয়া ওইসব পেপারকাটিং উপস্থাপন করে দেখান যে, ঘটনার সময় মীর কাসেম আলী চট্টগ্রামে ছিলেন না। তিনি তখন ঢাকায় ছিলেন।
মীর কাসেম আলীকে যে ১০টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তার প্রত্যেকটি অপরাধ ১৯৭১ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে চার্জে। অথচ ১৯৭১ সালে প্রকাশিত বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার সংবাদে দেখা যায় মীর কাসেম আলী ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের জমা দেয়া বিভিন্ন পত্রিকার খবরে দেখা যায় মীর কাসেম আলী ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকার বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন ছাত্রসমাবেশে বক্তব্য রাখেন। ৮ নভেম্বর থেকে বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিতভাবে মীর কাসেম আলীর নাম, বক্তব্য, বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। রাষ্ট্রপক্ষের জমা দেয়া ডকুমেন্টই তার সাক্ষ্য বহন করছে।
দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার খবরেও বলা হয়েছে মীর কাসেম আলী ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গনে ছাত্র সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন। কাজেই মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে ডালিম হোটেলকেন্দ্রিক অপরহণ, নির্যাতন এবং হত্যার যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার সাথে তার কোনোরকম সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান।
অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, মীর কাসেম আলী ১৯৭১ সালের ৬ নভেম্বর ইসলামী ছাত্রসংঘের পূর্ব পাকিস্তান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তার আগ পর্যন্ত তিনি ছাত্রসংঘের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ছিলেন। কিন্তু ৬ নভেম্বর তিনি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবার পরপরই ঢাকায় চলে আসেন। তার প্রমাণ রয়েছে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদী পত্রিকায় যা রাষ্ট্রপক্ষই জমা দিয়েছে। দৈনিক আজাদী পত্রিকায় ৬ নভেম্বরের আগ পর্যন্ত প্রকাশিত খবরে চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি হিসেবে মীর কাসেমের নাম ছাপা হয়েছে। কিন্তু ৬ নভেম্বরের পর প্রকাশিত খবরে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রসংঘ সভাপতি হিসেবে আবু তাহেরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের এ ডকুমেন্ট থেকেও প্রমাণিত যে, মীর কাসেম আলী ডালিম হোটেলের ঘটনার সময় চট্টগ্রামে ছিলেন না।
অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, সবচেয়ে বড়কথা হলো মীর কাসেম আলী ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে চট্টগ্রামে গেছেন বা ছিলেন সে মর্মে একটি ডকুমেন্টও দেখাতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। তদন্ত কর্মকর্তাও ট্রাইব্যুনালে এটা স্বীকার করেছেন যে, তাদের কাছে এ মর্মে কোনো ডকুমেন্ট নেই।
অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, মীর কাসেম আলী ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ১৯৭২ সালের মার্চ পর্যন্ত ঢাকায় আগামাসী লেনে তার বোনের বাসায় অবস্থান করেন ছাত্রসংঘের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়ার কারণে। এসময়ে তিনি কখনো চট্টগ্রামে যাননি এবং তিনি কখনো আলবদর সদস্যও ছিলেন না। রাষ্ট্রপক্ষও তাকে আলবদর সদস্য বলেনি।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ শুনানি গ্রহণ করেন।
আজ মীর কাসেম আলীর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। এরপর শুনানী আগামি ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। আগামি ২৩ ফেব্রুয়ারি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যুক্তি উপস্থাপনের পর মীর কাসেম আলীর পক্ষে সপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন এক ঘণ্টা সময় পাবেন পাল্টা যুক্তি পেশের জন্য।
রাষ্ট্রপক্ষের ডকুমেন্টে রয়েছে মীর কাসেম ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন
বদর দিবস উপলক্ষে ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর ঢাকার বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গনে তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মীর কাসেম আলী। পরের দিন ৮ নভেম্বর দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক পাকিস্তানসহ সেসময়কার বিভিন্ন পত্রিকায় সে খবর প্রকাশিত হয়। খবরে মীর কাসেম আলীর নাম, বক্তব্য ছাপা হয়।
৮/১১/১৯৭১ সালে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার শিরোনাম ছিল ‘বদর দিবসের সমাবেশে ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতির ভাষণ।’ প্রতিবেদনে লেখা হয় ‘আলবদর দিবস উপলক্ষে গতকাল (রবিবার) বিকালে বায়তুল মোকাররম প্রাংগনে ইসলামী ছাত্র সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে পাকিস্তানের সংহতি ও অখণ্ডতা রক্ষায় জনগণের দৃঢ় সংকল্পের পুনরুক্তি করা হয়।’
সমাবেশে যারা বক্তব্য রাখেন তাদের নামের তালিকায় মীর কাসেম আলীর নাম রয়েছে ইসলামী ছাত্রসংঘের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে।
তাছাড়া দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকায় ৮/১১/১৯৭১ তারিখে ‘বদর দিবস পালিত’ শিরোনামে বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত সমাবেশের খবর ছাপা হয় এবং তাতেও মীর কাসেম আলীর নাম ও বক্তব্য ছাপা রয়েছে।
১৯৭১ সালে ১১ নভেম্বর ছাত্রসংঘের সভাপতি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সেক্রেটারি জেনারেল মীর কাসেম আলীর যুক্ত বিবৃতি প্রকাশিত হয় জুমাআতুল বিদা দিবস পালনের আহবান জানিয়ে। ঢাকা থেকে এ বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত আরেকটি ছাত্রসমাবেশে বক্তব্য রাখেন মীর কাসেম আলী।
১১ ডিসেম্বর দৈনিক আজাদের শিরোনাম হলো- ‘হিন্দুস্তানী হামলার বিরুদ্ধে গণসমাবেশ।’ এ খবরেও মীর কাসেম আলীর বক্তব্য ছাপা হয়।
১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর দৈনিক আজাদসহ আরো কয়েকটি পত্রিকায় ইসলামী ছাত্রসংঘের একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত বিবৃতির শিরোনাম ছিল ‘ছাত্র সমাজের প্রতি ডাক-হিন্দুস্তানী হামলার বিরুদ্ধে গণসমাবেশ’। খবরে বিবৃতি প্রদানকারী হিসেবে ছাত্রসংঘের সভাপতি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক মীর কাসেম আলীর নাম রয়েছে।
দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায়ও এ বিবৃতি প্রকাশিত হয় এবং তাতে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে ঢাকা থেকে তারা এ বিবৃতি দিয়েছেন।
৭ নভেম্বর দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার একটি শিরোনাম হলো ‘ইসলামী ছাত্রসংঘের প্রাদেশিক কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের নাম ঘোষণা’। ছাত্রসংঘের সভাপতি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ১৯৭১-৭২ সেশনের জন্য কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন মর্মে খবরে উল্লেখ করা হয়। খবরে বলা হয়, ৭ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টায় প্রাদেশিক কার্যকরী পরিষদের এক জরুরি সভা আহবান করা হয়েছে এবং তাতে সব সদস্যকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান রাষ্ট্রপক্ষের জমা দেয়া এসব ডকুমেন্ট উপস্থাপন করে বলেন, এ থেকে প্রমাণিত এবং খুবই স্পষ্ট যে, ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মীর কাসেম আলী ঢাকায় ছিলেন, চট্টগ্রামে নয়।
ওই সময়ে মীর কাসেম আলী চট্টগ্রামে অবস্থান করেছেন বা গেছেন এরকম একটি ডকুমেন্টও দেখাতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ।
আদালত জানতে চান মীর কাসেম আলী ঢাকায় থাকলেও চট্টগ্রামে যে কখনো যাননি তা কি করে বলা যায়। কারণ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় যেতেন। তাছাড়া ঢাকার বাইরে থেকেও বিবৃতি প্রদান করা যায়।
অ্যটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও বলেন, ২৩ নভেম্বর ঢাকায় থাকলেও ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রামে গিয়ে অপহরনের সাথে যুক্ত হওয়া সম্ভব।
তখন অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান রাষ্ট্রপক্ষের ৮নং সাক্ষীর জবানবন্দী পড়ে শোনান যেখানে সাক্ষী বলেছেন, ‘১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে পাকিস্তানের মৌরিপুর এয়ারবেজ থেকে পালিয়ে আসি, ... ... ... আমি পাকিস্তান থেকে সম্ভবত পি.আই.এ- এর বিমান যোগে ঢাকায় পালিয়ে এসেছিলাম। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য আমি সড়কপথ, নৌপথ, রেলপথ ব্যবহার করেছিলাম। ওই সময় সড়কপথ ও রেলপথ বিধ্বস্ত ছিল তবে নৌপথ বিধ্বস্ত ছিল না। আমি ঢাকা থেকে প্রথমে সদরঘাট হয়ে নৌপথে চাঁদপুরে পৌছি।’
অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, এটা সবারই জানা কথা যে, তখন যুদ্ধের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা কিরকম বিপর্যন্ত ছিল। চাইলেই কেউ হুটহাট করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যেতে পারতেন না। ২৩ তারিখ ঢাকায় বক্তব্য দিয় ২৪ তারিখ চট্টগ্রামে গিয়ে অপহরণ ঘটনায় যুক্ত হওয়াটা কতটা বাস্তবসম্মত তা আপনারা বিবেচনা করবেন।
চট্টগ্রামের আজাদী পত্রিকার খবরে যা রয়েছে
এস এম শাহজাহান বলেন, মীর কাসেম আলী যে ৭ নভেম্বরের পর কখনো চট্টগ্রামে ছিলেন না এবং যানওনি তার প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষের আরো কিছু ডকুমেন্টে রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের আজাদী পত্রিকার যেসব খবর জমা দিয়েছে তাতে দেখা যায় মীর কাসেম আলী ৭ নভেম্বরের আগে চট্টগ্রামে ছিলেন। মীর কাসেম আলী ৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবার আগ পর্যন্ত ইসলামী ছাত্রসংঘের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ছিলেন। সেই হিসেবে তিনি সেখানে যেসব অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন তা সেখানকার স্থানীয় পত্রিকায় তখন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রামের স্থানীয় কোনো পত্রিকায় ৭ নভেম্বরের পর মীর কাসেম আলীর নাম আর দেখা যায় না। এ থেকে প্রমাণিত যে, মীর কাসেম আলী ৭ নভেম্বরের পর চট্টগ্রামে ছিলেন না।
যেমন ১/৮/১৯৭১ তারিখে দৈনিক আজাদী পত্রিকায় লেখা হয় মুসলিম ইনস্টিটিউ হলে মীর কাসেম আলী সভা আহবান করেছেন।
১৪/৮/১৯৭১ তারিখে দৈনিক আজাদী পত্রিকায় মাওলানা মাদানীর মৃত্যু উপলক্ষে ছাত্রসংঘের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মীর কাসেম আলীর শোকবার্তা প্রকাশিত হয়েছে।
২/৯/১৯৭১ তারিখে দৈনিক আজাদী পত্রিকায় ছাত্রসংঘের চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি মীর কাসেম আলী প্রতিরক্ষা দিবস পালন উপলক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন।
৮/৯/১৯৭১ তারিখে দৈনিক আজাদী পত্রিকার খবরে লেখা হয়েছে প্রতিরক্ষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ছাত্রসংঘের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মীর কাসেম আলী।
৬ নভেম্বর মীর কাসেম আলী ছাত্রসংঘের কেন্দ্রীয় সাধারণ সাম্পাদক নির্বাচিত হবার পর ঢাকা চলে আসেন। তাই ৬ নভেম্বরের পর দৈনিক আজাদী পত্রিকায় মীর কাসেম আলীর নাম আর দেখা যায় না। বরং চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রসংঘের সভাপতি হিসেবে দৈনিক আজাদী পত্রিকায় আবু তাহের নামে একজনের নাম বারবার দেখা গেছে।
যেমন ৭/১১/১৯৭১ এবং ৫/১২/১৯৭১ তারিখে দৈনিক আজাদী পত্রিকায় মোহাম্মদ আবু তাহেরর নাম প্রকাশিত হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রসংঘের সভাপতি হিসেবে।
দৈনিক আজাদীর এ খবর থেকে এটা স্পষ্ট যে, ৭ নভেম্বর মীর কাসেম আলী চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন না এবং চট্টগ্রামেও অবস্থান করেননি।
৬ নভেম্বর মীর কাসেম আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর ঢাকার আগামাসী লেনে তিনি তার বোনের বাসায় বসবাস শুরু করেন। যা তার বোন ট্রাইব্যুনালে এসে বলে গেছেন তার জবানবন্দীতে।
মীর কাসেম আলী ঘটনার সময় চট্টগ্রামে ছিলেন এরকম কোনো ডকুমেন্ট নেই রাষ্ট্রপক্ষের
মীর কাসেম আলী ১৯৭১ সালের ৬ অথবা ৭ নভেম্বরের পর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে কখনো গেছেন বা অবস্থান করেছেন এরকম একটি ডকুমেন্টও দেখাতে পারেনি। তদন্ত কর্মকর্তা ২৪ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে বলেছেন, ‘১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বরের পরে মীর কাশেম আলী চট্টগ্রামে ছিলেন মর্মে কোন পত্রিকার কাটিং আছে কি না তা আমার এই মুহূর্তে স্মরণ নেই। তবে এ মর্মে অন্য কোনো দালিলিক প্রমাণ আমি সংগ্রহ করিনি।’ উৎসঃ নয়াদিগন্ত