26/10/2025
যারা চেয়েছিলো আমাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ কাঁচের ন্যায় ছড়িয়ে দিতে নির্জনতার প্রান্তরে,
যারা ভেবেছিলো আমার অস্তিত্ব ভাঙবে নীচু স্বরে নত হয়ে পড়া বৃষ্টির মতো,
তাদের জন্য এই শোকসংবাদ,
যারা বিশ্বাস করেছিলো, আমি হোঁচট খেয়ে কাদামাটির বিষাক্ত নিস্তব্ধতায় চিরকাল মুখ থুবড়ে থাকবো,
তাদের উদ্দেশেই আমার এই প্রত্যাঘাত।
যারা ভেবেছিলে, আমাকে ছিঁড়ে ছাই করে হাওয়ার হাতে সঁপে দিলে আমি বিলীন হবো দিকহীন শুন্যতার অন্তঃপুরে। ভেবেছিলো বিষাদের অতল গহ্বরে টেনে নামিয়ে দেবে আমাকে, যেখানে ঘোর অন্ধকারে ডুবে থাকে পরিত্যক্ত আত্মার বিলাপ।
তোমরা যারা আমার বুকের ভেতর অযুত রাত্রির ক্ষত এঁকে দিয়ে চেয়েছিলে সেখানে জন্ম নিক শ্যাওলা-জমা পঙ্কিল নীরবতা।
তোমাদের সেই অগ্নিকুণ্ডেই আমি গড়েছি আমার পুনর্জন্মের ছাঁচ!! তোমাদের সেই দহনই আমাকে শিখিয়েছে, নতুন করে বাঁচতে।
তোমাদের জন্য এই শোকবার্তা—
আমি এখন বাতাসের মতো মুক্ত,পাখির মতো উড়ি সীমাহীন নীল আকাশে,
আমাকে ছিঁড়ে দিলে আমি আরো উচ্চতার নীলান্তে ডানা মেলি।
আমাকে বন্দী করতে চাইলেও আমি জলের মতো স্রোতবেগে ছিটকে যাই!
কারণ আমি জানি, কখনো শান্ত তরঙ্গের গর্ভে গোপন থাকে মহাপ্লাবনের শক্তি।
আমি জানি, ছড়িয়ে থাকা কাঁচের প্রতিটি টুকরো একদিন ধারালো প্রতিশোধে রূপ নেয়।
যে মানুষ দুঃখের স্থপতি, সে জানুক— আমি এখন দীপ্তিময় আনন্দের কারিগর।
শ্যাওলা-ঢাকা পুকুরের নিঃশেষে আমি এখন রোদের অক্ষরে লিখি নতুন জাগরণের কবিতা।
বিদায়ের পাণ্ডুলিপিতেও আমি ইচ্ছে করলে ফিরতি অধ্যায় লিখে ফেলি।
আমি এখন ছাইয়ের গর্ভে জেগে ওঠা অগ্নিপাখি।
ইচ্ছে করলেই ফিরে আসতে পারি তোমাদের অন্তঃপুরে।
যে ফিরে আসা বিগত যে কোনো দিনের চেয়ে দীপ্ত!!