21/05/2026
AIMA হাজার হাজার আদালতের রায়ের কারণে অভ্যন্তরীণ সংকটে
ইন্টিগ্রেশন, মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম এজেন্সি (AIMA)-এর ওপর পরিচালনাগত চাপ ভয়াবহ ভাঙনের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
“সম্পূর্ণ আতঙ্ক”
সুপ্রিম অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কোর্টের (STA) সভাপতি জর্জে আরাগাঁও সেইয়া জানিয়েছেন যে প্রতিষ্ঠানটি এখন “সম্পূর্ণ আতঙ্কের” মধ্যে রয়েছে। বিপুল সংখ্যক বিচারিক সিদ্ধান্তের চাপে সংস্থার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
প্রশাসনিক আদালতগুলো যখন ঝুলে থাকা অভিবাসনসংক্রান্ত মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ অভিযান চালায়, তখন মাত্র দেড় মাসে AIMA-র কাছে ১২ হাজারের বেশি আদেশ এবং প্রায় ৭ হাজার রায় পৌঁছে যায়। এই বিপুল চাপ সংস্থার সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাকে ভেঙে দিয়েছে এবং তীব্র বিশৃঙ্খলা ও জনবল সংকট সৃষ্টি করেছে।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মকাল থেকে প্রশাসনিক বিচারব্যবস্থার এই সংকট আরও গভীর হয়েছে, কারণ এখন প্রতিদিন শত শত বিদেশি নাগরিক তাদের বৈধতা নিশ্চিত করতে আদালতে মামলা করছেন।
অবিলম্বে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন
বর্তমানে মামলার সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজারে পৌঁছেছে, যা জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বিচার বিভাগ অতিরিক্ত সময় কাজ করা ২৮ জন বিচারকের একটি বিশেষ দল গঠন করেছে।
যদিও এই চাপ AIMA-র কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে, STA-র প্রধান জানিয়েছেন যে আদালতগুলো দ্রুতগতিতে কাজ চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থা নাগরিকদের মামলাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখতে পারে না।
জনবল বৃদ্ধির দাবি
সমাধান হিসেবে STA-র সভাপতি মানবসম্পদ ও তথ্যপ্রযুক্তি (IT) খাতে ব্যাপক জনবল বৃদ্ধির জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি আদালতের নোটিশ ও জনসেবার কাজ পরিচালনার জন্য বিশেষ কর্মীবাহিনী গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
জর্জে আরাগাঁও সেইয়া আরও বলেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আরও নমনীয়তা আনতে আইন সংশোধন প্রয়োজন। এর মাধ্যমে যেসব অভিবাসীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই, তারা যেন বৈধভাবে দেশে থাকতে পারেন এবং তাদের প্রক্রিয়াধীন বিষয়গুলো সমাধান করতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি চান, আবেদন প্রত্যাখ্যান হলেই যেন স্বয়ংক্রিয় বহিষ্কার কার্যকর না হয়।
তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, বিদেশি নাগরিকদের জোরপূর্বক বহিষ্কার ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইনগত পরিবর্তন না আনলে, দেশটি ব্যাপক আইনি চ্যালেঞ্জ ও ইউরোপীয় আইন লঙ্ঘনের দায়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
বিচারব্যবস্থার অতিরিক্ত চাপ
অভিবাসন সংকটের পাশাপাশি প্রশাসনিক বিচারব্যবস্থা নিজস্ব জনবল সংকট ও দীর্ঘসূত্রতার সমস্যারও মুখোমুখি। ধারণা করা হচ্ছে, বকেয়া মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে ২০২৫ সালের আগের সব মামলা শেষ করার লক্ষ্য পূরণে অন্তত আরও ৬০ জন বিচারক প্রয়োজন।
বাড়ছে উদ্বেগ
সুপ্রিম কোর্ট আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত করার কৌশল এবং অপব্যবহারমূলক আপিল বৃদ্ধির বিষয়ে। ইতোমধ্যে এসবকে অসৎ উদ্দেশ্যমূলক মামলা হিসেবে শাস্তিযোগ্য করা হচ্ছে।
একই সময়ে কর-সংক্রান্ত বিচারব্যবস্থাও চাপের মধ্যে রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৯ বিলিয়ন ইউরো বড় অর্থনৈতিক মামলায় আটকে আছে। এর মধ্যে বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসংক্রান্ত মামলাও রয়েছে।
STA-র সভাপতির মতে, এই সামগ্রিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার এবং নতুন বিচারক তৈরির প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া দ্রুততর করা। তিনি বিচারক প্রশিক্ষণের সময়সীমা কমিয়ে ২ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়।
লেখক: Íris Marçal
সূত্র: The Portugal News - Portugals national newspaper in English