08/06/2025
মেয়েদের নিজের ঘর বলে কিছু নেই, এটা নিয়ে হা-হুতাশ পর্যন্তই। কিন্তু যখনই কোনো মেয়ে নিজের পরিচয় বানাতে চায়, তখন শুরুতেই তার চিন্তায় পানি ঢেলে দেওয়া হয় এই বলে যে, ও মেয়ে ও পারবে না। মেয়েরা কখনো কিছুই করতে পারে না। তারা শুধু ঘরের কাজ করতে পারে।
যেমন, একজন মা আর মেয়ের কাল্পনিক কথোপকথন:
মা: আমি সারা জীবন স্যাক্রিফাইস করে চলেছি। তর বাবা কখনো কোনো ঘরের কাজে আমাকে সাহায্য করেনি। এক থাল ভাতও কখনো নিজ থেকে বেড়ে খায়নি। মেয়েদের জীবন এমনই মা! এই জগতে ছেলে আর মেয়ের কাজ আলাদা করে দেওয়া। আমি সারা সজীবন তা-ই করেছি। তোকেও তা-ই করতে হবে।
মেয়ে: আপনি আমার গুরুজন। আপনি যা বলবেন আমি তা-ই করব।
যদি মেয়েটি তার মায়ের মতো জীবন সংসারের উদ্দেশ্যে সমর্পণ করতে রাজি না হয়, তাহলে এই সমাজের মানুষ তো দূরে থাক, নিজের পরিবারই তাকে অপদার্থ বলে মনে করবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাগলও বলতে পারে। আমরা আমাদের মস্তিষ্ককে একটা বিষয় নিয়ে অভ্যস্ত করলে সেটা আমাদের আর মস্তিষ্কের খাটনি দিয়ে করা লাগে না। তখন সেটা কোনো চিন্তা ছাড়াই করতে থাকি।
এই যে স্যাক্রিফাইস করার বিষয়টা, এটাও এমনই। এবং যখন কেউ এই প্রথা ভাংতে চায়, এই অন্যায় মেনে নিতে চায় না, তখন তার নানা রকমের বাধা-বিপত্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অনেক পুরুষ আছে, যারা পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর দাস না হয়ে নিজের মতো নিজের বেসিক লাইফস্কিলগুলো শিখে নিয়েছে। তাদের নিজেকে খুব আলাদা করে না দেখলেও নিজেকে নিয়ে স্বস্তিতে থাকা উচিত এবং গর্ব করা উচিত। কারণ, যে নিজের কাজের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল, সে নিজেকে নিয়ে অহেতুক বিপদে তো পড়বে না কখনো। একজন আত্মনির্ভরশীল মানুষ সদা সম্মানিত। পরগাছা আজীবনই একটা ঝামেলা ছিল, আছে, থাকবে।
পরিশেষে, আরেকটি কথোপকথন দিয়ে শেষ করছি। শাশুড়ি আর ছেলের কথপোকথন:
শ্বাশুড়ি: আমার বউ মা কি তোর খেয়াল রাখে? তোর খাওয়ার কোনো কষ্ট হচ্ছে না তো? বাসা বাড়ি পরিষ্কার রাখে নাকি আজকে আমি এসেছি বলে পরিষ্কার করেছিস?
ছেলে: মা আমরা তো দুজনেই চাকরি করি। ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরি, সব সময় তো রান্না করতে পারে না ও। যখন পারে না, তখন খাবার অর্ডার করে আনিয়ে খাই। আর সপ্তাহ শেষে আমরা যখন বাসায় থাকি, তখন দুজন মিলে আমাদের সংসারটাকে সাজাই। রান্না করি এক সাথে। ও যখন অসুস্থ থাকে, বাসার কাজ আমিই করি। আমি যখন অসুস্থ থাকি, তখন ও আমাকে দেখে।
মা: কী বলিস? বউ রান্না করে না! তাহলে বিয়ে করেছিস কেন? অফিস করে কি ঘরের কাজ করে না মেয়েরা!
ছেলে: মা আমি তো বিয়ে করে জীবন-সঙ্গী নিয়ে এসেছি। ঘরের চাকর তো নিয়ে আসিনি। তা-ছাড়া, এই সংসার তো আমাদের দুজনের। আমরা দুইজন তো সারা জীবন এক সাথে পার করব। নিজেরাই যদি নিজেদের সম্মান না করি, সন্তানরা তাহলে আমাদের কাছ থেকে কী শিক্ষা পাবে!
সুতরাং ছেলে ও মেয়ে উভয়ের সমান অধিকার থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু একটি নৈতিকতা নয়, বরং একটি প্রয়োজনীয়তাও। এই সমতার মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা যায়, যা লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে। এর ফলে, উভয় লিঙ্গই তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা অনুযায়ী অবদান রাখতে পারে, যা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করে। ছেলে মেয়ে যদিও কখনও সমান হয় না তবে
উভয়কেই সমান সুযোগ দেওয়া উচিত, তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করা উচিত। লিঙ্গবৈষম্য দূর করে একটি সুন্দর সমাজ তৈরি করা আমাদের শিক্ষিত সমাজের কর্তব্য।
১২/১২/২০২৪ স্থান : হারিশনগর