25/09/2026
প্রথমেই বলি আপনারা সবাই এই লেখাটি অবশ্যই পড়ুন খুব ভালো লাগবে ।।
লিখেছেন " হেমন্তের _পাখি_রা "
পারিবারিক অ্যালবাম থেকে পাওয়া অন্তত পঞ্চাশ বছর আগেকার ছবি, ৫২ নম্বর বাসস্ট্যান্ড-এর ।।
কিছু বছর আগেও রামরাজাতলার ৫২ নম্বর বাসস্ট্যান্ড ছিলো রামমন্দির এর উল্টোদিকে। আর বাসগুলো ধর্মতলা থেকে ফিরে আসার পরে গোপাল টাটের মিষ্টির দোকানের বিপরীতে যে ছোট্ট শিবমন্দির, সেখানে ঘুরে এসে স্ট্যান্ডে দাঁড়াতো। বাসস্ট্যান্ডের উল্টোদিকে ছিলো দেবশরণ এর হোটেল, তার পাশে পরপর অন্নপূর্ণা স্টোর্স, শামুদার রঙের দোকান, রামকৃষ্ণ স্টোর্স এবং বীণাপানি স্টোর্স। বীণাপানি আর বর্তমানে কালীমাতা স্টোর্স যেখানে সেই দুই দোকানের মাঝে ছিলো সরু গলি। সেখানে দুজন নাপিত বসতো ইটালিয়ান সেলুন খুলে। আর ছিলো দুজন মুচি। কালীমাতা স্টোর্স ছিলো সরু একফালি দোকান। লুজ মাখন বিক্রি হতো বলে, মাখনওয়ালার দোকান নামেও পরিচিত ছিলো সেই দোকান। আর তার পাশে ছিলো মাটির হাঁড়ি কলসি, প্রতিমা ইত্যাদির দোকান। এখন সেটা আর নেই। বহুবছর হলো ফ্ল্যাটবাড়ী তৈরি হয়েছে এবং মূলত কালীমাতা স্টোর্স, হলদিরামের দোকান (অনেক পরে চালু হয়েছে ) আর ফার্স্ট ফ্লোরে যুব কম্পিউটার চলে এই ফ্ল্যাট বাড়িতে। বাকি অনেক দোকান চালু হয়ে আবার বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক ফ্ল্যাট বিক্রি হয়ে, রি-সেল হয়েছে, বেশ কিছু এখনও অবিক্রীত রয়েই গেছে ।।
বাসস্ট্যান্ডের পিছনে ছিলো কয়েকটা সাধারণ পাইস হোটেল যেগুলির মধ্যে দু একটি এখনও অস্তিত্ব বজায় রেখেছে। আর পরবর্তীতে গড়ে উঠেছিল হাওড়া ইলেকট্রনিক্স আর একটা বেডিং স্টোর্স। এখন গোপাল টাটের মিষ্টির দোকান আর নেই বহুবছর হলো। পাশের ইলেকট্রনিক্স এর দোকানও বন্ধ। কিন্তু প্রণব মৈত্র-র দোকান এখনও টিকে আছে, তাঁর ছেলে জুলু-দার পরিচালনায় । বাসস্ট্যান্ড এর পিছনের দিকে সুকুমার এর সাইকেলের দোকান বহরে বেড়েছে অনেকটাই ।।
এখন যেখানে পানীয় জলের পাকা ব্যবস্থা, সেখানেই ছিলো ৫২ নম্বর বাসের গুমটি। ৫২ নম্বর বাসগুলো শুধু যে ধর্মতলা পর্যন্ত যেতো এমন নয়! কিছু বাস হাওড়া পর্যন্ত যেতো। কিছু আবার রামরাজাতলা স্টেশন পেরিয়ে জগাছা, গড়ফা, উনসানি হয়ে পৌঁছে যেতো খটিরবাজার পর্যন্ত। আবার কিছু বাস ৫২A রুট হিসাবে চলতো সুরকিকল থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত। তবে বাসগুলো রবিবার বা জাতীয় ছুটির দিনে রামরাজাতলা পুরোনো বাসস্ট্যান্ড থেকেই চলতো ।।
সরকারি বাস বহুবার চালানোর চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু কিছুদিনের জন্যই চলতে পেরেছে। আশির দশকের লাল রঙের বাস, পরবর্তীকালে ctc বাস চালানোর চেষ্টা হলেও ৫২-র বাসমালিকদের বাধায় বন্ধ হয়েছে অচিরেই। রামরাজাতলা থেকে রাজাবাজার পর্যন্ত ৯ নম্বর রুটের মিনিবাসও চলতো একই জায়গা থেকে ।।
এখন নতুন বাসস্ট্যান্ড-এ মিনিবাসের অস্তিত্ব বিলীন! সম্প্রতি HB-9 চালু হয়েও সেখানে ঠাঁই হয়নি। নতুন বাসস্ট্যান্ড এর জায়গায় আগে একটা পুকুর ছিলো। পরে সেটা বুজিয়ে মাঠে রূপান্তরিত করা হয়। ছেলেবেলায় খেলেছি সেখানে ক্রিকেট, ফুটবল । দুপাশে দুটো বড়ো পিটুলি গাছ ছিলো। বামদিকের পিটুলি গাছের নিচে ছিলো বিখ্যাত ফটিকের আলুর দমের দোকান। এখন তার ঠাঁই হয়েছে বাসস্ট্যান্ড বিল্ডিং-এর ডানদিকের কোণে ।।
পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এখন সকালে ও বিকালের সবজি বাজারে পরিণত হয়েছে। বাসস্ট্যান্ডের পিছনে, পুরোনো দিনের টালির চালের সারিবদ্ধ দোকান এখন রূপ পাল্টেছে অনেক। খবরের কাগজ আর বিভিন্ন ম্যাগাজিনের পসরা নিয়ে বসতো সুনীল দা আর প্রবীর দা। সুনীল দা প্রয়াত হয়েছেন। প্রবীর দা প্রবীণ হয়েছেন। বাসগুমটির পাশে আরও একটা খবরের কাগজের দোকান ছিলো। তার পাশে বসতো মুড়ি নিয়ে, তপন দা। এখনও বসে তপন দা, তবে বয়সের ভার অনেকটাই ক্লান্ত, স্টিমিত ।।
দেবশরণ-এর হোটেলের সামনেও দুজন মহিলা ইয়া বড়ো বড়ো দুটো মুড়ির বস্তা নিয়ে। এখনও তাঁদের মধ্যে একজন আসেন। তবে মুড়ির বদলে আনাজপত্র নিয়ে। প্যাকেটের মুড়ির দাপটে হয়তো লুজ মুড়ির বিক্রি কমে গেছে, তাই....
৫২ নম্বর বাসের অদ্ভুত কিছু বিশেষত্ব ছিলো! পুরোনো বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে সাঁতরাগাছির মোড় পর্যন্ত দৌড় দিতো ঝড়ের গতিতে। তারপরে বিশ্রাম নিতো কিছুক্ষনের জন্য। যদি ডানদিক থেকে আসতে দেখতো ৫৮ নম্বর রুটের বাস( চ্যাটার্জিহাট থেকে ধর্মতলা, এখন বন্ধ ) বা আমতলা ও পি থেকে শ্যামবাজারগামী মিনিবাস ( ৭ নম্বর রুটের মিনিবাস,যা এখন অতীত ), অমনি আবার দৌড় শুরু। তারপরে নতুন রাস্তার মোড়, দালালপুকুর এই দুটো স্টপেজে কিছুটা দাঁড়িয়ে তারপরে পা বাড়াতো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ।।
বহু বছর আগে মূলত ৫২ নম্বর রুটের বাসকর্মীদের পরিচালনায় রামরাজা যুবক সংঘ নাম দিয়ে একটা কালীপূজোর আয়োজন হতো বাসস্ট্যান্ডে। বিশ্বকর্মা পুজোও হতো, তবে কালীপুজোর জাঁকজমক ছিলো অনেক বেশি। রামমন্দিরের আটচালার ভিতরে অন্নকোটও হতো খুব ধুমধাম করে। বিসর্জনের শোভাযাত্রা হতো বিশাল আকারের ।।
বাসকর্মীদের দুটো ইউনিয়ন ছিলো তখন। একটা চালাতেন জগাই চৌধুরী, ফরওয়ার্ড ব্লকের শ্রমিক সংগঠন, যার অবস্থান ভানুমতি স্কুলের কাছে পঞ্চাননতলায়। আর ওপরটি কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন, ঘোতনদার পরিচালনায় চালিত সেটির অবস্থান চক্রবেড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির পাশে। সেখানে ১৫ আগষ্টের দিনে ভারতমাতার পুজো হতো। সেইসব দিনগুলো এখন অতীত হয়ে গেছে কিন্তু অনেকেরই মন থেকে মুছে যায়নি ।।
আমার পারিবারিক অ্যালবাম থেকে পাওয়া ছবিগুলো মোবাইল ফোনে তুলে, পোস্ট করলাম ai দিয়ে বানানো নতুন ছবির সাথে। আগামীদিনে আরও কিছু ছবি পোস্ট করবো। অবশ্যই রামরাজা যুবক সংঘের কালীপুজোর কিছু ছবি এবং অন্যান্য ছবি ।।
ইতিমধ্যেই আমার পেজ #হেমন্তের_পাখি_রা থেকে ছবিগুলো পোস্ট করেছিলাম । অনেকেই শেয়ার করেছেন, পোস্টে রি-এক্ট করেছেন । সবাইকে ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন সকলে। খুব তাড়াতাড়ি নতুন পোস্ট নিয়ে আসছি!
©হেমন্তের পাখি
#হেমন্তের_পাখি
Thanks For
The Photos & the Full Description
© হেমন্তের পাখি