15/04/2026
প্রথমবার গুগল সার্চ করেই পৌঁছে গিয়েছিলাম কৃষ্ণদেবপুরের চড়ক মেলায়। অচেনা জায়গা, অজানা মানুষ—তবুও যেন কোথাও এক অদ্ভুত টান ছিল। আর সেই টানটাই আমাকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে গেল এ বছরও।
এখানকার মানুষের আন্তরিকতা, সেই নির্ভেজাল আতিথেয়তা—মনে এমনভাবে দাগ কেটেছে যে না এসে পারলাম না। সেবারের সেই চেনা মুখগুলো এবার যেন আরও একটু বড় হয়ে গেছে, আরও পরিণত। সময় যেন ওদের চোখে-মুখে নিজের গল্প লিখে দিয়েছে।
এই গল্প আসলে তাদের নিয়েই—
যারা প্রতি বছর বলে, “এইবারই শেষ, আর পার্বতী হবো না”,
“এইবারই শেষ নাচ”…
কিন্তু চৈত্র মাস এলেই সেই প্রতিজ্ঞা ভেঙে আবার ফিরে আসে তারা—ঢাকের তালে, আগুনের উত্তাপে, ভক্তির আবেগে।
এরা কেউ পেশাদার শিল্পী নয়, কেউ বড় মঞ্চের তারকা নয়। তবুও নিজেদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এক অদম্য ইচ্ছা নিয়ে, প্রায় বিনা পারিশ্রমিকে, জীবনের প্রতিদিনের রুটিরুজির লড়াইকে কিছু দিনের জন্য পাশে সরিয়ে রেখে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই চড়কের উৎসবে।
তাদের এই লড়াইটা আলাদা—
এটা অস্ত্রের লড়াই নয়,
এটা টাকার লড়াই নয়,
এটা অস্তিত্ব আর ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখার লড়াই।
এই যুদ্ধ থামাতে পারেনি কোনো শক্তিশালী দেশ,
না আমেরিকা, না ইরান—
কারণ এই যুদ্ধটা হৃদয়ের, বিশ্বাসের, আর মাটির টানের।
এই মানুষগুলোকে, এই অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে—
আমার অন্তরের গভীর থেকে সেলাম। 🙏