18/01/2025
|| সাঁই বাবা ও শিরডি ||
ভারতীয় গুরু ও সাধু সাঁই বাবা "শিরডির সাঁই বাবা" নামেই পরিচিত।আজকের দিনেও মহারাষ্ট্রের শিরডি শহরের প্রাণকেন্দ্র তিনিই। এই শহরের হোটেল, রেস্তোরাঁ, পথ-ঘাট, মন্দির থেকে শুরু করে প্রতিটি বিন্দুতেই যেন তার নাম ও মহিমা ছড়িয়ে রয়েছে। তাঁকে ঘিরেই সেজে উঠেছে এই শহর।তাঁর প্রকৃত জন্মস্থান ও জন্ম তারিখ অজানা।১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ থেকেই তাঁর শিরডিতে পাকাপাকিভাবে বাসস্থান।সাদা কাফন পরিহিত এই ফকির বা সাধু সাঁই বাবার মূল দর্শন ছিল সর্বধর্ম সমন্বয়। তিনি হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান,এবং অন্যান্য ধর্মের মানুষের প্রতি সমান শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেন। তাইতো যে "মসজিদ"-এ বাসস্থান করেছেন তার নাম রেখেছেন "দ্বারকামাই"।
সাঁই বাবাকে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী মনে করা হয়। তাঁর জীবনের অসংখ্য ঘটনায় এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা তাঁর অলৌকিক ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়। তিনি বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করতেন, এবং অনেকের মতে, তিনি প্রার্থনার মাধ্যমে রোগ মুক্তি দিতেন। তাঁর চিকিৎসার পদ্ধতি ছিল সাধারণ কিন্তু কার্যকরী।
১৯১৮ সালের ১৫ অক্টোবর সাঁই বাবা মহাসমাধিতে গমন করেন। তাঁর দেহ শিরডিতেই সমাধিস্ত করা হয়েছে এবং বর্তমানে এটির উপরেই নির্মিত সাঁই বাবা মন্দির।মন্দিরটিতে প্রতিদিন গড়ে ২৫,০০০ তীর্থযাত্রী আসেন।মন্দিরের অভ্যন্তর এবং বাইরের শঙ্কু উভয়ই স্বর্ণে আচ্ছাদিত। মন্দিরের অভ্যন্তরে, সাই বাবার মূর্তিটি ইতালীয় মার্বেল দিয়ে খোদাই করা হয়েছে এবং রাজকীয় কাপড়ে মোড়া, সোনার মুকুট পরা এবং তাজা ফুলের মালা দিয়ে সজ্জিত দেখা যায়। মন্দিরটি শ্রী সাই বাবা সংস্থা ট্রাস্ট দ্বারা পরিচালিত হয়।