07/10/2026
প্রবাসীদের সচেতন করার জন্যই আজকের এই লেখা। লেখাটি পড়ে সচেতন হলে ভবিষ্যতে আপনি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগে পড়বেন না। আর নিয়ম না মেনে একই ভুল বারবার করলে, আপনার লাগেজও বারবার এভাবে কা/টা পড়বে।
গত ৫ অক্টোবর বাংলা এভিয়েশনের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে লাগেজ কাটার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে অনেকেই মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন। আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
সেই পোস্ট দেখে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এক প্রবাসী ভাই আমাদের একটি ফেসবুক ভিডিও লিংক পাঠান। ভিডিওতে দেখা যায়, আবুধাবি ফেরত এক যাত্রী তার কাটা কার্টনের ভিডিও পোস্ট করে অভিযোগ করছেন। ৪ অক্টোবর ঢাকায় নামার পর তিনি কার্টনটি কাটা পান এবং ভেতর থেকে মালামাল চুরি হয়েছে। ভিডিওতে তিনি আরও বলেন; বিমানবন্দরে অভিযোগ করলে কর্মীরা জানান, কার্টনটি আবুধাবি থেকেই কাটা অবস্থায় এসেছে। কিন্তু তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আবুধাবি বিমানবন্দরে এমন ঘটনা ঘটা তিনি কোনোভাবেই বিশ্বাস করেন না।
ভিডিওটি দেখার পর বাংলা এভিয়েশন টিম সেই প্রবাসীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলে। আমরা তার টিকিটের কপি, বোর্ডিং পাস ও লাগেজ ট্যাগসহ সব তথ্য সংগ্রহ করি।
এরপর আমরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেদিনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করি। সেদিন দায়িত্বরত কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলি। ফুটেজ ও কর্মীদের তথ্যে স্পষ্ট হয় যে, ঢাকায় তার কার্টন কাটা বা ছেঁড়ার কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
একই সঙ্গে আমরা তার ফ্লাইটের বিস্তারিত তথ্য আবুধাবি বিমানবন্দরে পাঠিয়ে তদন্তের অনুরোধ জানাই। সেখান থেকে আসা জবাবে নিশ্চিত করা হয় যে, নিরাপত্তা তল্লাশির স্বার্থেই আবুধাবি বিমানবন্দরে কার্টনটি কাটা হয়েছিল। তার কার্টনের ভেতর একটি পাওয়ার ব্যাংক এবং ব্যাটারিযুক্ত একটি ইলেকট্রিক ড্রিল মেশিন ছিল। কার্টন কেটে সেগুলো নামিয়ে রাখা হয়েছে।
আপনারা জানেন আন্তর্জাতিক নিয়মে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিযুক্ত পণ্য বুকিং লাগেজে নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
শুরুতে যাত্রী তার কার্টনে কি ছিলো সেই বিষয়টি আমাদের জানাননি। পরবর্তীতে তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হলে তিনি কার্টনে পাওয়ার ব্যাংক ও ড্রিল মেশিন রাখার কথা স্বীকার করেন।
আমরা তাকে জানাই, ব্যাটারিযুক্ত পণ্য থাকার কারণেই আবুধাবি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কার্টন খুলে ঝুঁকিপূর্ণ জিনিসগুলো নামিয়ে রেখেছে। নিয়ম অনুযায়ী তারা কার্টনের ভেতরে একটি অফিসিয়াল ‘সিকিউরিটি নোটিশ’ও রেখে দিয়েছিল। যাত্রী অবশেষে স্বীকার করেন যে কার্টনের ভেতরে সত্যিই একটি কাগজ ছিল।
তবে আবুধাবি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যে সিকিউরিটি নোটিশ দিয়েছিল সেটি ইংরেজিতে লেখা থাকায় তিনি পড়তে পারেননি বা বুঝতে পারেননি সেখানে আসলে কি লেখা ছিল।
বাংলা এভিয়েশনের পক্ষ থেকে আমরা সেই প্রবাসী ভাইকে বিস্তারিত বুঝাই যে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি যুক্ত পণ্য থাকায় তার এই জিনিসগুলো আবুধাবি বিমানবন্দর থেকে তার কার্টনটি কেটে নামিয়ে রাখা হয়েছে। আর এই কারণেই এই নোটিশটা দিয়ে রেখেছে।
এই নোটিশ তো তার ব্যাগে আগে থেকে ছিল না। আর এই নোটিশ তো বাংলাদেশেরও না। এটা আবুধাবি বিমানবন্দরের।
তিনি আমাদের এই কথাগুলো শুনলেন কিন্তু কোনোভাবেই তিনি বিশ্বাস করতে চান না যে এই ঘটনাটি আবুধাবি বিমানবন্দরে ঘটেছে। তিনি বরং আমাদের উল্টো অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করলেন এবং ফোন রেখে দিলেন।
এই আবুধাবি প্রবাসী ভাইটির মতো আপনিও আমাদের কমেন্টে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করে আপনার নোংরা রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারেন।
কিন্তু সত্য যদি না মেনে নেন, নিয়ম যদি না অনুসরণ করেন আর আপনার লাগেজে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি যুক্ত মোবাইল, রিচার্জেবল টর্চলাইট, চার্জার লাইট, ব্লুটুথ স্পিকার, পাওয়ার ব্যাংক এই জাতীয় যেকোনো পণ্য রাখেন। সেটি আপনি যেই দেশের যেই বিমানবন্দর থেকেই ফ্লাইটে উঠেন না কেন, সেটি তারা সিকিউরিটি চেকের সময় খুলে নামিয়ে রাখবে। খুলতে যেয়ে যদি আপনার লাগেজে তালা থাকে তাহলে তালাটা ভেঙে ফেলবে, যদি কার্টন হয় সেটি কেটে নামিয়ে রাখবে।
আপনি সচেতন হবেন নাকি একই ভুল বারবার করে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সেটা আপনার ব্যক্তিগত ইচ্ছা।
#ঢাকা #এয়ারপোর্ট
#নিউজ_সোর্স: বাংলা এভিয়েশন