07/31/2025
🍼 বেড়ানোর সময় বাচ্চার খাওয়া ও ঘুম
বেড়াতে গেলে বাচ্চাদের খাওয়ার অনেক অনিয়ম হয় — সেটা আগেই বলেছি। আমার তিনটা বাচ্চাই এক্সক্লুসিভলি ব্রেস্টফেড ছিল, তাই ওদের নিয়ে ঘোরার ঝামেলা ছোটবেলায় কম ছিল। আমি প্রচুর বাইরে যাই বলে অর্গানিক জার ফুড খাওয়ানোর অভ্যাস করতাম। এছাড়া বাচ্চারা ছোট থেকেই রেস্টুরেন্টের খাওয়ায় অনেক বেশি অভ্যস্ত থাকায় বাইরে গেলে ঝামেলা কিছুটা কম হয়েছে। এখন বাচ্চারা বড়, তাই আমরা যেখানে যাই, ওরা খুব সহজেই বাইরে খেয়ে নেয় আলহামদুলিল্লাহ। যেমন কানাডায় টিম হর্টনের এগ অ্যান্ড চিজ ব্রেকফাস্ট মাফিন, একটা ছোট মিল্ক প্যাক আর অ্যাপল সস — বেশ ভালো একটা ব্রেকফাস্ট হয়ে যায়।
ইউরোপে অনেক দেশে রেস্টুরেন্ট এক্সপেনসিভ হওয়ায় আমি সুপারশপ থেকে রেডি ফুড কিনে নিতাম। যেমন: এগ স্যান্ডউইচ, সুশি বোল, রাইস বোল — এগুলো লাঞ্চ-ডিনারের জন্য দারুণ!
মূল কথা: বাচ্চাদের ছোট থেকেই বাইরে খাওয়ায় অভ্যস্ত করলে বেড়ানোর সময় খাওয়ানো অনেক সহজ হয়। তখন বাইরে খাওয়া ওদের কাছে আনন্দের হয়।
🌙 এবার আসি বাচ্চার ঘুম
অনেক বাচ্চা গাড়িতে উঠলে ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু আমার বাচ্চারা এরকম না। একবার অটোয়া থেকে পোর্টল্যান্ড, মেইন ৮ ঘণ্টা জার্নিতে আমার দুই বছর বয়সী ইব্রাহিম পুরোটা সময় জেগে ছিল!
তাই আমি ধরে নিই — "গাড়িতে ঘুমাবে" এমনটা নাও হতে পারে। এরচেয়ে বরং রাতের ঘুমটা নিশ্চিত করি। দিনে ঘুম কম হলে রাতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে যায়। যদি তাও না ঘুমায়, তাহলে কিডস মেলাটোনিন দেই — ডাক্তার অনুমোদিত, নিরাপদ, কোনো সাইড ইফেক্ট নেই আলহামদুলিল্লাহ।
🩺 বাচ্চার অসুখ-বিসুখ — বেড়ানোর সময় বড় টেনশন!
এই জন্য বেড়ানোর আগে অনেক দোয়া করে নেই।
আমার মেয়ে ছোটবেলায় বিভিন্ন সময় অন্য দেশে গিয়ে অসুস্থ হওয়ায় এখন আমি অনেক সাবধান থাকি।
একটা তথ্য শেয়ার করি, কানাডা আর অস্ট্রেলিয়া ছাড়া অন্য কোন দেশেই ট্যাপের পানি ডিরেক্ট খাওয়া যায়না। ইউএস-এ তো একদমই না। তাই যেখানে যাই, পানির বোতল কিনে খাই। সৌদিতে একটা সুবিধা আছে — জমজমের পানি খাওয়ানো যায়! কিন্তু অন্য দেশে বোতল কিনে নিতে হয়। এছাড়া আমি সবধরনের ওষুধ সাথে রাখি। এয়ারপোর্টে সমস্যা হয় না, শুধু এক জিপলকে ১০টার বেশি জার রাখা যায়না।