25/08/2025
১ম দিন :
ঙাসাইহুং" এক হার না মানার গল্প!
আসসালামু আলাইকুম। আজ আপনাদেরকে শোনাবো এক হার না মানার গল্প! যার নাম ঙাসাইহুং!!!
গল্পের শুরুটা হয় অনেক দিন আগেই। অনেক অনেক প্ল্যানিং আর দুর্ভেদ্য জংগলের আকে বাকে চলে যাওয়া রাস্তা নিয়ে শুরু হয় রোডম্যাপ।
যেতে হবে এমন ভাবে যাতে বাইপাস করা যায় সকল আদিবাসী পাড়া এমনকি কোন মানুষের দেখাও যেন না পাওয়া যায় এমন এক রাস্তা খোঁজার জন্য ম্যাপের ওপর চলছে অত্যাচার। কোথায় পাবো এমন রাস্তা! যেখানে কখনো পড়েনি মানুষের পদচিহ্ন! সব কিছু মিলিয়ে এক গোলকধাধার মধ্যে থেকেই ঈদের পরের দিন শুরু হলো ঙাসাইহুং অভিযান।
যাত্রা শুরু করি আলীকদম বাজার থেকে। সকালের নাস্তা সেরেই সবাই মিলে বসে পড়ি পুরো অভিযানের রেশন ভাগাভাগি করে ব্যাগে ভরে নিতে। নিয়ে সবাই মিলে একটু রেস্ট করলাম হোটেলে। আনুমানিক দুপুর ২ঃ৩০ এর দিকে চলে যাই রোয়াম্বো ঘাট। যাওয়ার আগেই সেখানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো একটা বলেরো জীপ, যা চান্দের গাড়ি হিসেবেই পরিচিত সবার কাছে। খাল পার হয়ে গিয়ে গাড়িতে উঠলাম। শুরু হয়ে গেলো আমাদের নিষিদ্ধ ঙাসাইহুং অভিযান।
নিষিদ্ধ বলার কারণ একটাই এই যাত্রা সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ রাস্তা দিয়েই যাওয়া লাগে। যেখানে যাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। সাংগু মাতামুহুরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের মধ্যে দিয়েই আমাদেরকে যেতে হবে বলেই তা নিষিদ্ধ!
যাইহোক রোয়াম্বো ঘাট থেকে চান্দের গাড়িতে করে আমাদের প্রথম যাত্রা কুরুকপাতা বাজারে। মাঝখানে সেনা ও বিজিবি ক্যাম্প পাড়ি দিতে হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সকল তথ্য প্রকাশ করছি না। কুরুকপাতা বাজারে গিয়ে একটা ছোট্ট রেস্ট নিয়ে, পানি ও হালকা কিছু খেয়ে নেই। এর মধ্যে দেখা হয়ে যায় আরো কিছু পাহাড়প্রেমী ছোটভাইদের সাথে। তাদের সাথেও কিছু কথাবার্তা বলে চলে যাই পোয়ামুহুরী বাজারে।
প্রচন্ড গরম থাকায় সবাই মিলে একটু রেস্ট করার সিদ্ধান্ত নেই আমরা। দড়িপাড়া স্কুলের বারান্দায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ল্যাটানো দেই সবাই মিলে। একদফা ঘুমের পরে উঠে ফ্রেশ হয়ে শুরু করি যাত্রা।
মাতামুহুরি নদীর কিনার ঘেঁষে শুরু করি ট্রেকিং, প্রচন্ড গরম থাকায় কিছুক্ষণ পর পর টিমের সবাই হাপিয়ে যাচ্ছিলো। তাই আমরাও কিছুক্ষণ পর পর একটু রেস্ট নিচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ পড় আবারো হাটা শুরু করে চলে যাই ইন্দু পাড়ার নিচে ইন্দুমুখ বাজারে। ততক্ষণে রাত ৮ টা বেজে গিয়েছিলো। বাজার ছিলো সম্পূর্ণ জনশূন্য ও অন্ধকারে নিমজ্জিত। বাজারে বসে আমরা কিছুক্ষণ রেস্ট নেই। ততক্ষণে পানি, ড্রাইফুড ও স্যালাইনের মেলা শুরু হয়ে গিয়েছিলো😅। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবারো হাটা শুরু করে চলে গেলাম সিন্ধুমুখে। গিয়ে দেখি অন্য একটি টিম আগুন জ্বালিয়ে ক্যাম্প-ফায়ার করে গান গাচ্ছে ও নেচে নেচে আনন্দ করছে। আমরাও তাদের সাথে শামিল হলাম। তাদেরকে উৎসাহ দিলাম।
এরপর মাতামুহুরি নদীর বরফ শীতল পানিতে স্নান শেষে সিন্ধু পাড়ার রেনতুং এর ঘরে উঠলাম।
এরপর শুরু হলো রান্নার মহাযজ্ঞ! এরই মাঝে রেনতুং জুমের চাল ধুয়ে দিয়ে গেলো। ততক্ষণে আমরা চুলায় আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছি। ভাত রান্না হচ্ছে আর রেনতুং এর সঙ্গে কথা শুরু হলো। এই ট্রিপের অনেকেই রেনতুং কে চিনতো নাহ, আগেই বলে রাখি রেনতুং পাহাড়ের সবচাইতে শিক্ষিত মানুষদের মধ্যে একজন। সে পেশায় একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার! পাহাড়ের যেকোনো মেশিনারি ঠিক করতে হলে রেনতুং ছাড়া তা অসম্ভব প্রায়! সে আমেরিকান আর্মির সাথেও কাজ করেছে অনেকদিন। তার ইংরেজি উচ্চারণ একদম নেটিভ আমেরিকানদের মতো। সে যখন তার গল্প শুরু করলো তখন সবাই মুগ্ধ হয়ে তার গল্প শুনছিলো।
এর মধ্যে অনেকেই ভাবছিলো রেনতুং হয়তো দুষ্টুমি করছে, তাই আমি রেনতুং এর সাথে ইংরেজিতে কথা বলা শুরু করলাম। তার ইংরেজির ফ্লুয়েন্সি দেখে সবার চক্ষুচড়ক গাছ হয়ে গিয়েছিলো।
এরপর রান্না শেষ হলে সবাই মিলে পেটপুজা করে অইদিনের মতো দ্রুতই ঘুমিয়ে গেলাম।
এরই সাথে ১ম দিনের গল্প শেষ হলো।
২য় দিনে আসছে ভয়াবহ কিছু! অপেক্ষায় থাকুন
✍🏻Md Habibur Rhaman