02/08/2026
টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোট চলাচল নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান হোক
সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনভাবে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যেন পুরো টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি প্রজ্ঞাপনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি আসলে তেমন নয়।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে:
“সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, প্রতিবেশগত ভারসাম্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাওরের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সীমানার মধ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”
অর্থাৎ, নিষেধাজ্ঞাটি পুরো টাঙ্গুয়ার হাওরজুড়ে নয়; বরং ইসিএ (Ecologically Critical Area) সীমানার অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে প্রযোজ্য। বিশেষ করে ওয়াচ টাওয়ার ও এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংকটাপন্ন এলাকায় হাউসবোটের প্রবেশ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, যাতে হাওরের জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ভারসাম্য সুরক্ষিত থাকে।
এ ছাড়া লেচুয়ামারা বিল, ছুটাইন্না বিল, হাতিরগাথা বিল, রূপাবই বিল, বেরবেরিয়া বিল, কাওয়ারদিয়া বিল ও চাতলা বিলের মতো পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকবাহী বোট বা হাউসবোট চলাচল করা হয় না। এসব অঞ্চল পাখির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল, মাছের প্রজননক্ষেত্র এবং হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমরাও বিশ্বাস করি, টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। প্রকৃতি রক্ষার স্বার্থে পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা অবশ্যই প্রয়োজন।
তবে একই সঙ্গে সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্য সবার সামনে তুলে ধরাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি প্রজ্ঞাপনের ভাষা ও উদ্দেশ্য পরিবর্তন না করে, পূর্ণাঙ্গ তথ্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি প্রচার করা উচিত।
বিভ্রান্তি নয়-সঠিক তথ্য ও সচেতনতাই হোক আমাদের লক্ষ্য।
প্রকৃতিও বাঁচুক, দায়িত্বশীল পর্যটনও এগিয়ে যাক।