05/10/2022
আমার সকল শিক্ষকে মহান শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা।
আমার শিক্ষকতা পেশার ১০ বছর!
আমার বয়স যখন ১৪ তখন থেকে আমার শিক্ষকতা পেশা শুরু! স্টুডেন্ট ছিলেন ৩ জন মেয়ে, তাদের বাসায় আমি পড়াতাম, এদের মধ্যে একজন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, বিয়ের আগে সে আমাকে টেক্সট দিয়ে বলেছিলো, "এই পর্যন্ত আমার জীবনে অনেক টিচার এসেছেন কিন্তু আপনার মতো সহজ করে জীবনকে আমাকে কেউ বুঝায় নি, বই পুস্তকের বাইরে যে শিখার অনেক কিছু আছে তা আপনি না হলে জানতাম না!"
ছোটবেলা আমাকে একজন স্যার জিজ্ঞেস করেছিলেন বড় হয়ে কি হতে চাও, আমি বলেছিলাম শিক্ষক পরে যেকোনো কিছু হতে চাই, এই পেশা আমার ভালো লাগেনা।
আল্লাহ আমাকে একজন শিক্ষক বানিয়ে দিলেন, এইচএসসি এর আগে থেকে আমার টিউশনি চলতো, এইচএসসি পরে মেইন পেশা হয়ে গেলো টিউশনি, সাইকেল নিয়ে এই বাসা থেকে ঐ বাসা, এর মধ্যে একটা প্রাইভেট স্কুলের টিচার হিসেবে যোগ দিলাম, যেখানে প্রথম ক্লাস করাতে যাওয়ার পর ক্লাস এইটের একটা ছেলে বলেছিলো "বন্ধু নতুন এডমিশন নিয়েছো?" ( দেখতে খুব ছোট ছিলাম তাই ভেবেছিলো আমি তাদের ক্লাসে নতুন এডমিশন নিয়েছি)
আমি সত্যি তাঁর বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম, যেই ছেলেটা পাশ করবে কিনা সন্দেহে ছিলো সে জেএসসিতে A+ পেয়েছিলো, ক্রেডিট তাঁর এবং সকল শিক্ষকদের। আমি শুধু তাঁকে বুঝিয়েছি মানুষ চাইলে সব পারে।
আমার স্কুলে জব পাওয়া নিয়ে চমৎকার একটা গল্প আছে, তাঁর আগে আমার এক ছাত্রীর কথা বলতে চাই , সে পিএসসি পরীক্ষার পর কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়, তাঁর বাবার স্বপ্ন ছিলো সে জেএসসি দিবে, কিন্তু সে ক্লাস সিক্স, সেভেন লেখা পড়া করেনি, একটা স্কুলে সে নাম মাত্র ভর্তি ছিলো, সেই মেয়েকে আমি টিউশন করাই, ৪-৫ টা ক্লাসের পর তাঁর বাবাকে বলেছিলাম ভালো করে পড়লে সে A+ পাবে, বাবার উৎসাহ বেড়ে যায়,সেই মেয়েটা পরে 4.88 পেয়েছিলো সম্ভবত।
এগুলো পড়ে মনে হতে পারে আমি যাদেরকে পড়িয়েছি তাঁরা খুব ভালো করেছে, নাহ্ বাস্তবতা এতো সুন্দর হয়না, এমনও স্টুডেন্ট পেয়েছি ২-৩ ঘন্টা অংক বুঝানোর পর কিছুই পারতো না, নিজের মাথায় নিজে মারতাম কষ্টে, অনেক স্টুডেন্ট কোনরকম পাশ করলে অভিভাবক খুশি থাকতো।
কোন অভিভাবক মনে করতেন স্যার রেখেছেন কাজ শেষ, এখন সন্তানকে ভালো করার সব দায়িত্ব স্যারের।
বেশিরভাগ অভিভাবক ( আন্টিরা) আমাকে নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন, তাদের হয়তো এখনও মনে আছে আমি কি খেতে পছন্দ করি।
তারপর শিক্ষকতা পেশা থেকে বের হওয়ার জন্য ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলাম, কিন্তু শিক্ষকতা পেশা আমাকে ছাড়েনি, বাংলাদেশের কমপক্ষে ৩০ টা জেলায় আমার স্টুডেন্ট আছে, বিভিন্ন ভার্সিটির স্টুডেন্ট থেকে শুরু বিসিএস ক্যাডার আমার ক্লাস করেছেন।
LEDP প্রজেক্ট আমার জীবন বদলে দিয়েছে, এটা নিয়ে আমি আরেকদিন লিখতে চাই।
এই শিক্ষকতা পেশায় আমার একটা ট্রাজেডি আছে, যার জন্য আমি অনেক কিছু হারিয়েছিলাম, সেই কাহিনী লেখবো আরেকদিন।
আজ মহান শিক্ষক দিবস!
শুভেচ্ছা, দোয়া, ভালোবাসা সেইসব শিক্ষকদের যারা আমাকে একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন।
লেখাঃ রাজু আহমেদ