Ghost Fm Bangla-বাংলা ভূতের গল্প

Ghost Fm Bangla-বাংলা ভূতের গল্প Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Ghost Fm Bangla-বাংলা ভূতের গল্প, Travel and transport, Madhabpur, Sherpur town, Sherpur, Sherpur.

বাংলা ভূতের গল্প পড়তে চাইলে চলে আসুন এই পেজে। ভূতের গল্প ও ভিডিও নিয়মিত আপলোড করা হয়।দয়াকরে পেজটি লাইক ও ফোলো করতে ভূলবেন না।এই পেজের গল্প গুলো শুধু এন্টারটেইনমেন্ট এর জন্য।বাস্তবের সাথে কোন মিল নেই।
https://youtube.com/channel/UCJrtjEkAuxG-ldMyLnlP8WA

গল্প: ভয়ংকর সুন্দরবন ২০০৫ সাল। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ জন ছাত্রের একটি দল সুন্দরবনের উদ্দেশে রওনা দেয়। উদ্দেশ্য, নিছকই ...
26/05/2025

গল্প: ভয়ংকর সুন্দরবন

২০০৫ সাল। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ জন ছাত্রের একটি দল সুন্দরবনের উদ্দেশে রওনা দেয়। উদ্দেশ্য, নিছকই আনন্দ আর প্রকৃতির মাঝে কিছু দিন কাটানো। বিশাল এক জাহাজে করে তারা যখন সুন্দরবনের কাছাকাছি পৌঁছাল, সবার চোখেমুখে তখন সীমাহীন উত্তেজনা। নির্ধারিত স্থানে জাহাজ ভেড়ার পর সবাই মিলে নামল ম্যানগ্রোভের ঘন জঙ্গলে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, দলের ৭ জন ছাত্র-ছাত্রী—আসিফ, রাতুল, শফিক, জাহিদ, তুলি,রেবা আর মাহিদ(ছদ্দনাম)—একটু বেশি গভীরে চলে যায়। তারা যখন বুঝতে পারল যে পথ ভুল করেছে, তখন বাকি দল অনেক দূরে। জাহাজও তাদের রেখে ফিরে গেছে।
সুন্দরবনের গহীনে সূর্য তখন প্রায় ডুবুডুবু। চারপাশে নামছে সন্ধ্যার অন্ধকার। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ কমে আসছে। হঠাৎ গা ছমছম করা নিস্তব্ধতা নেমে আসে চারপাশে। আসিফ টর্চ জ্বালাতেই দেখে, গাছের ডালে অসংখ্য বাদুড় উল্টো হয়ে ঝুলে আছে। রাতুল বলল, "আমরা মনে হয় পথ হারিয়ে ফেলেছি।" শফিক, জাহিদ আর মাহিদ ততক্ষণে বেশ ঘাবড়ে গেছে। তারা হাঁটতে শুরু করল পথ খুঁজে বের করার জন্য। কিন্তু সুন্দরবনের গোলকধাঁধার মতো পথে তারা শুধু ঘুরপাক খাচ্ছিল।
কিছুদূর যাওয়ার পর তারা একটা ভাঙা কুঁড়েঘরের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পেল। ভয়ে ভয়ে তারা সেদিকে এগিয়ে গেল। কুঁড়েঘরের ভেতর ঢুকেই আসিফের টর্চের আলোয় যা দেখল, তাতে তাদের রক্ত হিম হয়ে গেল। মেঝেতে কিছু পুরোনো হাড়গোড় আর চারপাশে ছড়ানো ছেটানো কিছু ছেঁড়া কাপড়। হঠাৎ মাহিদ চিৎকার করে উঠল, "ওই দেখো!" সবাই তাকিয়ে দেখে, দেয়ালের গায়ে খোদাই করা কিছু অস্পষ্ট ছবি। সেগুলোর মধ্যে একটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একজন বিভৎস চেহারার মানুষ, যার চোখ দুটো জ্বলছে আগুনের মতো।
বাইরে তখন চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে চারপাশ। গাছের পাতাগুলো অদ্ভুতভাবে নড়ছে। হঠাৎ জাহিদ নিচু স্বরে বলল, "তোরা কিছু শুনতে পাচ্ছিস?" সবাই কান পেতে শুনল। একটা ফিসফিসানি শব্দ, যেন কেউ তাদের নাম ধরে ডাকছে। আসিফ সাহস করে বলল, "কে ওখানে?" কোনো উত্তর নেই। শুধু বাতাস বইছে শনশন করে। এরপরই ঘটল সেই ভয়ংকর ঘটনা। কুঁড়েঘরের ভাঙা দরজা দিয়ে একটা ছায়া মূর্তি ঘরে ঢুকল। তার চোখ দুটো জ্বলছিল দাউ দাউ করে। বিভৎস একটা হাসি দিয়ে ছায়া মূর্তিটা তাদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। ভয়ে তাদের গলা শুকিয়ে কাঠ। পালানোর কোনো পথ নেই। মনে হচ্ছিল, সেই অতৃপ্ত আত্মা তাদের খুঁজছে।
তারা চোখ বন্ধ করে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকতে লাগল। কিছুক্ষণ পর চোখ খুলে দেখে, ছায়া মূর্তিটা নেই। কিন্তু তাদের মনে হলো, যেন কেউ তাদের কাঁধে হাত রেখেছে। শফিক ভয়ে জ্ঞান হারাল। বাকিরা তাকে নিয়ে কোনোমতে বেরিয়ে এল কুঁড়েঘর থেকে।
তারা যখন কুঁড়েঘর থেকে বেরিয়ে এসে দৌড়াচ্ছিল, হঠাৎ সামনে পড়ল এক বিশাল বাঘ । রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার! অন্ধকারে তার চোখ দুটো জ্বলছে। বাঘটা তাদের দিকে তাকিয়ে একটা হুংকার ছাড়ল। ভয়ে তাদের আত্মা খাঁচাছাড়া। তারা জানত, সুন্দরবনে বাঘ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু এমন বিপদের মুখে তাদের জীবন বাজি রেখে পালাতে হবে। বাঘটা তাদের দিকে তেড়ে আসার আগেই আসিফ তার হাতের মশালটা (যেটা সে কুঁড়েঘরের পাশ থেকে পেয়েছিল) বাঘের দিকে ছুঁড়ে মারল। বাঘটা এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। এই সুযোগে তারা সবাই দৌড়ে একটা উঁচু গাছে উঠে পড়ল। সারা রাত ভয়ে ভয়ে গাছের ওপরই কাটাল তারা।

পাঁচ দিন পর, যখন তারা ক্ষুধা আর তৃষ্ণায় অর্ধমৃত, তখন একটা বিচের ধারে কোস্টগার্ডের একটি দল তাদের দেখতে পায়। কোস্টগার্ডের দল তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর তারা সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু সুন্দরবনের সেই ৫ দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাদের মনে চিরস্থায়ী ছাপ ফেলে যায়। বিভৎস ভূতের মুখোমুখি হওয়া আর বাঘের থাবা থেকে বেঁচে ফেরা - এই স্মৃতিগুলো তাদের জীবনে এক অবিস্মরণীয় দুঃসাহসিক অধ্যায় হয়ে থাকবে।

আজকে আরেকটি ভূতের গল্প বলবো। এটাও আমার সেই গাছের বাগান নিয়ে। তবে এবার ঘটনাটি আমার সাথে না। ঘটনাটি ঘটেছে আমাদের এক বর্গাদ...
23/05/2025

আজকে আরেকটি ভূতের গল্প বলবো। এটাও আমার সেই গাছের বাগান নিয়ে। তবে এবার ঘটনাটি আমার সাথে না। ঘটনাটি ঘটেছে আমাদের এক বর্গাদারের সাথে। ২০০৫-২০০৬ সালের ঘটনা এটি। আমি তখন বড়ই বাগান করেছি। আম বাগান করেছি।পটল ক্ষেত করেছি অনেক বড় করে। ঝিঙ্গা ক্ষেতও আছে একটা। এতকিছুর পেছনে আমার অনেক সময় দেওয়া লাগত। সময় দিতামও কারণ তখন আমার মাস্টার্স কমপ্লিট।
পুরোদমে চাকরির চেষ্টা চলছে,পাশাপাশি চলছে কৃষিকাজ। যেহেতু কাজের অনেক চাপ,চাকরির জন্য লেখাপড়ায় সময় দিতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। বোরো ধানের মৌসুম। রাত জেগে জমিতে পানি দিতে হয় কারন দিনে প্রচন্ড লোডশেডিং। রাতে কারেন্ট কম যেত,তাই রাতে পানি দিতাম। একদিকে বোরোর আবাদ অন্যদিকে বাগানগুলোর পরিচর্যা আবার চাকরির জন্য পড়াশোনা, তাই সময় ম্যানেজ করতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম একজন বর্গাদার নিতে হবে। যা ভাবা তাই কাজ,একজন বর্গাদার নিয়োগ দিলাম কিছু শর্ত দিয়ে। আমি যখন ব্যস্ত থাকি লেখাপড়ায় তখন তিনি ধানের ক্ষেতগুলোতে পানি দিতেন,কীটনাশক ছিটাতেন,সার দিতেন এছাড়া গরুগুলো দেখাশোনা করতেন ইত্যাদি। উনি এলাকারই মানুষ,আমাদের বাড়ির ঘটনা গুলো জানতেন। একদিন রাত বারোটা নাগাদ জমিতে পানি দেওয়ার জন্য তিনি ক্ষেতে যান। জমিটি একেবারে আমার গাছের বাগানের কাছে। তিনি স্পষ্ট শুনতে পান গাছের ডাল ভাঙ্গার শব্দ। তিনি পাত্তা না দিয়ে ক্ষেতের আইল কেটে পানি জমিতে প্রবেশ করার ব্যবস্থা করে দেন। অমাবস্যার রাত। হাতের লোম পর্যন্ত দেখা যায় না। চারিদিকে শুনশান নিরবতা। তাঁর সারা গায়ে কাটা দিয়ে উঠে। তিনিও দমবার পাত্র নন। তিনি একটা বিড়ি জ্বালিয়ে টানতে থাকেন আর নিজের কাজ করতে থাকেন। হঠাৎ করে একটি মাটির বস্তা উপর থেকে তার পাশে এসে পড়ে। তিনি প্রচন্ড ভয় পেয়ে যান। দৌঁড়ে বাড়িতে চলে আসেন ও এক জগ পানি খান। আমি সব শুনে দুইজন একসাথে আবার ক্ষেতে যাই ও পানি ছাড়ি। কারণ আজ পানি দিতে না পারলে ধানের ক্ষতি হবে। দুই ঘন্টার মত সময় লাগে পুরো ক্ষেত পানি হতে। রাত দুইটার দিকে দুইজনই চলে আসি। এরপর প্রায় সাতদিন উনার জ্বর ছিল। পরে তিনি আর কখনোই একা একা রাতে বাগানের কাছে যেতেন না। কাজ থাকলে আমাকে নিয়ে যেতেন। আরো অনেক গল্প আছে সেটা আরেকদিন লিখবো।

শুভরাত্রি।

আজকে আমাদের বাড়ির আরেকটি গল্প শেয়ার করবো। ঘটনাটি আমার সাথে ঘটেছিল। ২০০৪ কি ২০০৫ সাল হবে সম্ভবত। তখন আমরা সবাই গ্রামে থাক...
21/05/2025

আজকে আমাদের বাড়ির আরেকটি গল্প শেয়ার করবো। ঘটনাটি আমার সাথে ঘটেছিল। ২০০৪ কি ২০০৫ সাল হবে সম্ভবত। তখন আমরা সবাই গ্রামে থাকি। শেরপুরের বাসা ভাড়া দিয়ে পুরো পরিবার সহ গ্রামে চলে আসি ২০০১ সালে। আমাদের বাড়ির পেছনে বিশাল বড় একটা জঙ্গল ছিল। আমি আসার পর সেই জঙ্গল কেটে সাফ করে ফেলি। নানান জাতের বাহারী গাছ লাগাই সেই জায়গায়। গাছগুলো আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। আমি সবসময় রাত জেগে লেখাপড়া করতাম। আমার পড়ার রুমের জানালা দিয়ে বাগানটি দেখা যেত। প্রায় রাতেই শুনতাম বাগানের গাছগুলো কারা যেন ভেঙ্গে ফেলছে। একেবারে কাঁচা গাছ ভাঙ্গলে যেমন শব্দ ঠিক তেমন। পরের দিন গেলে দেখতে পেতাম যেমন বাগান তেমনি আছে। গাছ তো দূরের কথা একটি ঘাস ও উপড়ানো নেই। এই ছিল অবস্থা।

এটা আমার কাছে রহস্যের মতই ছিল। একদিন ভরা পূর্ণিমারাতে সেই রহস্য ভেদ করবো বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। আগেই বলে রাখি আমার প্রচন্ড সাহস। ভূতের ভয় আমার কোনদিনও ছিল না।কিন্তু সেদিনের অভিজ্ঞতা এত আনন্দদায়ক ছিল না। তখন বোরো ধানের মৌসুম চলছিল। আমাদের ক্ষেতে পানি দেওয়া হচ্ছিল।
পড়া শেষ করেছি। রাত ২ টার মত হবে। আমার বাগানের ভিতর দিয়ে হেঁটে হেঁটে ধান ক্ষেতের পানি দেখতে যাব সিদ্ধান্ত নিলাম। বাগানের একেবারে শেষ মাথায় আমাদের পারিবারিক শ্নশান ঘাট। হাতে হাই পাওয়ারফুল চার্জার টর্চ লাইট ও বাঁশের গোড়া দিয়ে তৈরি শক্ত লাঠি(গ্রামের ভাষায় পাজুন বলে) আর পকেটে কাগজ কাটার বড় কাটার।
আস্তে আস্তে গেটের তালা খুলে বাগানের মাঝে বরাবর হাঁটতে লাগলাম। বাগানের মাঝ বরাবর আসার পর একটা ঠান্ডা বাতাস আমার গা ছুয়ে গেল। সাথে সাথে পুরো বাগানের গাছগুলোতে ঝড় শুরু হয়ে গেল। আমি ভয় পাচ্ছিনা। একেবারেই না। তবে যেহেতু অনেক রাত, আমি একেবারে সম্পূর্ণ একা। গা ছমছম করতে লাগলো।
আমি হাঁটতে থাকলাম। শ্নশানের কাছে আসতেই সেই গাছ ভাঙ্গার শব্দ। আমি টর্চ জ্বালালাম। গাছের দিকে ধরলাম কিন্তু গাছে শুধু বাতাসের উপস্থিতি লক্ষ করলাম কিন্তু কোন গাছের ভাঙ্গা ডাল দেখলাম না। আমি জোরে জোরে বলতে লাগলাম,"আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই,আমি ভয় পাই না"। বলতে বলতে যে ক্ষেতে পানি ছাড়া ছিল,সেই খেতের আইলে চলে আসলাম। বাগানের দিকে তাকাতেই একটা অট্টহাসি শুনতে পেলাম।
এরপর ভাবলাম সাহস একটু বেশি দেখিয়ে ফেলেছি। আর থাকা যাবে না। অন্য পথ দিয়ে ঘুরে বাসায় এসে এক জগ পানি সাবার করে দিলাম। এই ছিল ভয়ানক এডভেঞ্চার আমার জীবনে। এখন বাগান নেই, সব গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছি। আবার নতুন করে গাছ লাগাবো,এ বছর।

শুভরাত্রি।

আজকে একটা গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। এই গল্পটি আমাদের গ্রামের বাড়ির। আমাদের বাড়ির বয়স কত তা ঠিক করে কেউ বলতে পারে না।...
20/05/2025

আজকে একটা গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। এই গল্পটি আমাদের গ্রামের বাড়ির।
আমাদের বাড়ির বয়স কত তা ঠিক করে কেউ বলতে পারে না।একটা পূরাতন বাড়ি বলতে যা কিছু বুঝায় সবকিছুই আছে এই বাড়িতে।আমাদের বাড়ি নিয়ে অনেক ভুতের গল্প আছে। সেখান থেকে একটা গল্প আজকে শেয়ার করছি। তখন আমরা অনেক ছোট। ১৯৮৪ বা ১৯৮৫ সালের ঘটনা। সঠিক সালটা মনে নেই। একদিন রাতের বেলা আমাদের এক বর্গাদারকে জোড় করে ধরি ভুতের গল্প শোনানোর জন্য। তিনি এখন বেঁচে নেই। তিনি শোনালেন তাঁর নিজের গল্প। আমাদের বাড়ির বাইরবাড়িতে একটি বড় বটগাছ আছে। আরেকটা বটগাছ ছিল(এখন নেই কারন রাস্তা সংস্কারের জন্য কেটে ফেলেছে) আমাদের বাড়ি থেকে বেশ খানিকটা দূরে একটা কালি মন্দির আছে ঠিক তার পেছনে রাস্তার ধারে। এই দুই বটগাছকে ঘিরে নানা লোককথা প্রচলিত ছিল।
তখনকার দিনে ভাতশালা গ্রামের অনেক মানুষ তামাক পাতার ব্যবসা করত। নিজের ক্ষেতের তামাক পাতা প্রসেস করে ফুলপুরের পাইকারি বাজারে বিক্রি করত। তেমনই একজন পাতার ব্যবসায়ী ছিলেন আমাদের সেই বর্গাদার। তিনি ছিলেন খুব সাহসী মানুষ। কিন্তু সেদিন তার কপালে অন্য কিছু লেখা ছিল।
একবার তিনি ফুলপুরের বাজার থেকে ফিরছিলেন।আষাঢ় মাস।গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। ভরা অমাবস্যার রাত। সেদিন বেচাকেনা ভালো হয়নি, তাই ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল। জোনাকির আলোয় আবছা পথ ধরে তিনি হাঁটছিলেন। মাথার ওপর তখন চাঁদ প্রায় ডুবে গেছে। চারদিকে নিশুতি রাত, শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা ডাক শোনা যাচ্ছিল।
আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে যখন তিনি যাচ্ছিলেন, হঠাৎ করেই তার মনে হলো, কেউ যেন তাকে অনুসরণ করছে। পেছনে ফিরে তাকালেন, কিন্তু কাউকে দেখতে পেলেন না। তিনি ভাবলেন, হয়তো দিনের ক্লান্তির কারণে এমন মনে হচ্ছে। কিন্তু কিছুদূর এগোতেই একটা অদ্ভুত ঠান্ডা বাতাস তাকে ছুঁয়ে গেল। বাতাসের সাথে যেন ভেসে এলো পচা পাতার গন্ধ।
তিনি অনুভব করলেন, তার পিছু পিছু কেউ হেঁটে আসছে। পায়ের শব্দ শুনতে পেলেন, কিন্তু কোনো মানুষের অস্তিত্ব দেখতে পেলেন না। তার বুকের ভেতর ধুকপুক শুরু হলো। তিনি দ্রুত হাঁটতে লাগলেন। কিন্তু সেই অদৃশ্য ছায়াটাও যেন তার সাথে তাল মিলিয়ে চলল।
আমাদের বাড়ির বাইরবাড়ির সেই বিশাল বটগাছের কাছে আসতেই তিনি স্পষ্ট শুনতে পেলেন, গাছ থেকে একটা বিদ্রূপের হাসি ভেসে আসছে। সেই হাসি শুনে তার শরীর যেন জমে গেল। তিনি ভয়ে আর এক পাও নড়তে পারলেন না। বটগাছের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, ডালপালাগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। বাতাসের অভাবেও পাতাগুলো অদ্ভুতভাবে নড়ছে।
হঠাৎ করেই বটগাছের কালো ছায়া থেকে একটা অস্পষ্ট মূর্তি দেখতে পেলেন। মূর্তিটা প্রথমে আবছা থাকলেও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে লাগল। লম্বা, কালো একটা আকৃতি, চোখ দুটো যেন জ্বলন্ত অঙ্গার। তার শরীর থেকে একটা পচা, ঠান্ডা গন্ধ আসছিল। মূর্তিটি দুই পা দিয়ে দুই বটগাছের মাথায় দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বুঝলেন, তিনি ভূতের মুখোমুখি হয়েছেন।
ভয়ে তাঁর গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। তিনি চিৎকার করতে চাইলেন, কিন্তু তার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না। সেই মূর্তিটা ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। তাঁর মনে হলো, তার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।ভোর হয়ে আসছিল। সারারাত তিনি সেই ভয়ংকর ভুতের সাথে একরকম যুদ্ধই করলেন।ভোরের আলো ফুটতে ফুটতেই ছায়াটি ধীরে ধীরে বটগাছের ছায়ায় মিশে গেল। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন।
পরদিন সকালে গ্রামের লোকজন তাকে অচৈতন্য অবস্থায় বটগাছের নিচে পড়ে থাকতে দেখে। জ্ঞান ফিরলে তিনি সব ঘটনা খুলে বলেন। সেই দিন থেকে তিনি আর রাতের বেলা একা ফুলপুরের বাজারে যেতেন না। আমাদের বাড়ির সেই বটগাছটা আজও আছে। আজও রাতের বেলা তার কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় মানুষজন এক অজানা ভয়ে শিউরে ওঠে। কে জানে, সেই রাতের ভূতটা আজও হয়তো বটগাছের ছায়ায় লুকিয়ে আছে!

সবার জীবন আনন্দময় হোক।
শুভ রাত্রি।

গল্প: জঙ্গলের কান্না।সালটা ছিল ১৯৮৫। ময়মনসিংহের কোনো এক শান্ত গ্রাম। গ্রামের পাশেই ছিল ঘন একটা জঙ্গল। দিনের বেলাতেও সেখা...
19/05/2025

গল্প: জঙ্গলের কান্না।

সালটা ছিল ১৯৮৫। ময়মনসিংহের কোনো এক শান্ত গ্রাম। গ্রামের পাশেই ছিল ঘন একটা জঙ্গল। দিনের বেলাতেও সেখানে সূর্যের আলো ঢুকত না, আর রাতের কথা তো ছেড়েই দিন! গ্রামের মানুষ পারতপক্ষে ওদিক মাড়াত না, কারণ তাদের বিশ্বাস ছিল জঙ্গলে ভূতেরা ঘুরে বেড়ায়। নানা ধরনের অলৌকিক আর ভয়ংকর গল্প প্রচলিত ছিল সেই জঙ্গল নিয়ে।
রাসেল তখন নবম শ্রেণির ছাত্র। তাদের বাড়িটা ছিল বাজারের একটু দূরে। বাজারে প্রাইভেট পড়তে যেত সে। একদিন বিকেলে যখন পড়তে বসেছে, হঠাৎ আকাশ কালো করে ঝুম বৃষ্টি নামল। রাসেলের মনেই ছিল না ছাতা নেওয়ার কথা। বৃষ্টি থামতে থামতে বেশ রাত হয়ে গেল। চারদিক অন্ধকার, শুধু জোনাকি পোকারা মিটিমিটি জ্বলছে। আর দূরে শোনা যাচ্ছে ঝিঁঝি পোকার একটানা ডাক।
বৃষ্টি থামার পর রাসেল বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। অন্য পথে অনেকটা ঘুরে যেতে হয়, তাই ভয় লাগলেও সে জঙ্গলের পাশের রাস্তাটাই ধরল। ভেজা পথ, গাছের পাতা থেকে তখনও টুপটাপ করে জল পড়ছে। চারদিকে একটা গা ছমছমে নীরবতা। রাসেলের বুকের ভেতরটা ধুকপুক করছিল।
হঠাৎ জঙ্গলের ভেতর থেকে একটা চাপা কান্নার আওয়াজ ভেসে এল। প্রথমে রাসেল ভাবল হয়তো কোনো শিয়াল বা অন্য কোনো জন্তু কাঁদছে। কিন্তু আওয়াজটা ক্রমশ স্পষ্ট হতে লাগল – যেন কোনো মেয়ে চাপা স্বরে কাঁদছে। রাসেলের সারা শরীর হিম হয়ে গেল। সে পা চালিয়ে হাঁটার গতি বাড়াল।
কান্নার আওয়াজটা যেন তার পিছু ছাড়ছিল না। মনে হচ্ছিল কেউ যেন তার ঠিক পাশেই কাঁদছে। রাসেল আর সাহস ধরে রাখতে পারল না। সে দৌড়াতে শুরু করল। অন্ধকার রাস্তায় হোঁচট খাচ্ছিল বারবার, তবুও সে থামল না।
ঠিক তখনই জঙ্গলের ভেতর থেকে একটা ঠান্ডা বাতাস এসে তার গা ছুঁয়ে গেল। মনে হলো কেউ যেন তার হাত ধরে টেনে ধরছে। রাসেল চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু তার গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হলো না। পিছন ফিরে তাকানোর সাহসও তার ছিল না।
কোনোমতে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে সে আরও জোরে দৌড়াল। তার মনে হচ্ছিল সেই অশরীরী ছায়াটাও তার সঙ্গে সঙ্গে দৌড়াচ্ছে। অবশেষে যখন সে তাদের বাড়ির উঠোনে এসে পৌঁছাল, তখন হাঁপাতে হাঁপাতে তার দম বন্ধ হওয়ার জোগাড়।
রাসেলের মা দরজা খুলে ছেলেকে এমন অবস্থায় দেখে ভয় পেয়ে গেলেন। হাঁপাতে হাঁপাতে রাসেল রাতে জঙ্গলের পথে যা যা ঘটেছে সব বলল। শুনে তার মা শিউরে উঠলেন। গ্রামের অন্য লোকেরাও সেই জঙ্গলের ভূতের কথা জানত।
সেই রাতের পর রাসেল আর কখনো একা সেই জঙ্গলের পাশ দিয়ে যায়নি। দিনের বেলাতেও সে রাস্তাটা এড়িয়ে চলত। সেই রাতের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা তার মনে আজও গভীর ছাপ রেখে গেছে। গ্রামের মানুষ আজও বলে, অমাবস্যার রাতে নাকি সেই জঙ্গলে এখনও সেই কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। আর যারা ভুল করে সে পথে যায়, তাদের নাকি সেই ঠান্ডা ছোঁয়া অনুভব হয় আজও...

গল্প: পূর্ণিমা রাতের অভিশাপ।গভীর রাতে নিস্তব্ধ গ্রাম, চারদিকে ঝিঁঝি পোকার একটানা ডাক। পুরনো এক বটগাছ, যার শাখা-প্রশাখা য...
15/05/2025

গল্প: পূর্ণিমা রাতের অভিশাপ।

গভীর রাতে নিস্তব্ধ গ্রাম, চারদিকে ঝিঁঝি পোকার একটানা ডাক। পুরনো এক বটগাছ, যার শাখা-প্রশাখা যেন ক্ষুধার্ত দৈত্যের হাতগুলোর মতো আকাশের দিকে বাড়ানো। এই গাছটিকে গ্রামের মানুষ এড়িয়ে চলে, কারণ বহু বছর আগে এখানেই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল।
শোনা যায়, পূর্ণিমা রাতে এক তরুণীকে এই গাছের নিচে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছিল। তার অপরাধ ছিল, সে গ্রামের মাতব্বরের ছেলের সাথে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়েছিল। সেই অভাগী মেয়ের আত্মা আজও নাকি বটগাছটার চারপাশে ঘুরে বেড়ায়, তার করুণ আর্তনাদ রাতের নীরবতাকে খান খান করে দেয়।
একদিন, গ্রামের দুই সাহসী যুবক, রফিক আর শফিক, বন্ধুদের সাথে বাজি ধরল যে তারা মধ্যরাতে ঐ বটগাছের নিচে গিয়ে অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসবে। সবাই তাদের নিষেধ করলো, কিন্তু তারা নিজেদের সাহসিকতা প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর।
ঘড়ির কাঁটা যখন ঠিক বারোটা ছুঁলো, রফিক আর শফিক টলতে টলতে বটগাছের কাছে পৌঁছালো। চারদিকে গাঢ় অন্ধকার, শুধু জোনাকি পোকার আলো টিমটিম করছে। হঠাৎ, ঠান্ডা একটা বাতাস তাদের শরীর ছুঁয়ে গেল। তারা ভয় পেলেও সাহস হারালো না।
হঠাৎ, তারা শুনতে পেলো চাপা কান্নার আওয়াজ। মনে হলো যেন কেউ ব্যথায় কুঁকড়ে কাঁদছে। আওয়াজটা বটগাছটার ভেতর থেকে আসছে। রফিক আর শফিক একে অপরের দিকে ভয়ার্ত চোখে তাকালো।
কান্নার আওয়াজ ক্রমশ বাড়তে লাগলো, এক সময় তা রূপ নিল ভয়ংকর আর্তনাদে। বটগাছের ডালপালাগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠলো, তাদের দিকে বাড়তে লাগলো। তারা দেখলো, বটগাছের গুঁড়ির মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসছে এক আবছা নারী মূর্তি। তার চোখগুলো জ্বলন্ত অঙ্গারের মতো, আর লম্বা চুলগুলো বাতাসে উড়ছে।
ভয়ে রফিক আর শফিকের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। তারা দৌড়াতে চেষ্টা করলো, কিন্তু তাদের পা যেন মাটিতে গেঁথে গিয়েছিল। মূর্তিটি ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো, তার ঠোঁট নড়ছিলো, যেন কিছু বলতে চাইছে।
হঠাৎ, মূর্তিটি বিকট এক হাসি হাসলো, সেই হাসি যেন তাদের কলিজা ছিঁড়ে ফেললো। রফিক আর শফিক জ্ঞান হারালো।
পরের দিন সকালে গ্রামের মানুষ বটগাছের নিচে রফিক আর শফিককে অজ্ঞান অবস্থায় খুঁজে পেলো। তাদের সারা শরীর বরফের মতো ঠান্ডা, আর চোখের দৃষ্টিতে ছিল গভীর আতঙ্ক। তারা আর কখনোই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি।
সেই থেকে বটগাছটি আরও ভয়ংকর হয়ে উঠলো। পূর্ণিমা রাতে আজও নাকি সেই অভাগী মেয়ের কান্নার আওয়াজ শোনা যায়, আর বটগাছটির ছায়া যেন জীবন্ত হয়ে গ্রামের মানুষকে তাড়া করে ফেরে। কেউ সাহস করে আর ঐ বটগাছের ধারে কাছেও যায় না।

শুভ সকাল।
14/05/2025

শুভ সকাল।

গল্প: ভয়ংকর সেই রাত।আমি অপু। তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম। ১৯৯৬ সাল। আষাঢ় মাসের বিকেল।বৃষ্টি ঝিরিঝিরি করে পড়ছে। বিশ...
13/05/2025

গল্প: ভয়ংকর সেই রাত।
আমি অপু। তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম। ১৯৯৬ সাল। আষাঢ় মাসের বিকেল।
বৃষ্টি ঝিরিঝিরি করে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হলে ফিরেও মনটা শান্ত হচ্ছিল না। হঠাৎ এক বন্ধু খবর দিলেন আমার টেলিফোন এসেছে(তখনকার দিনে মোবাইল ফোন ছিল না,ল্যান্ডফোনে কল আসতো)। আমি দৌড়ে গেলাম রিসিপশনে। ফোনের রিসিভার তুলতেই বড় চাচীর কান্নার আওয়াজ পেলাম। জানতে পারলাম, বড় চাচা আর নেই। খবরটা শুনে মুহূর্তের মধ্যে সব এলোমেলো হয়ে গেল।
তখন আজকের মতো এত সহজে বাড়ি যাওয়ার উপায় ছিল না। রাতের ট্রেন ছাড়া আর কোনো ভরসা নেই। কোনোমতে ব্যাগ গুছিয়ে কমলাপুর স্টেশনের দিকে রওনা হলাম। বৃষ্টিটা আরও জেঁকে বসল।
ট্রেন যখন ছাড়ল, তখন প্রায় সন্ধ্যা। কামরার আবছা আলোয় ভেজা রাতের ছবিটা আরও বিষণ্ণ লাগছিল। সারা রাস্তা কেবল চাচার হাসিমাখা মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। কত স্মৃতি! ছোটবেলার সেই ঘুড়ি ওড়ানো, পুকুরে ডুব সাঁতার...
রাত তখন দুটো বাজে। ট্রেন গ্রামের ছোট্ট স্টেশনটাতে এসে থামল। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার আর অঝোর ধারায় বৃষ্টি। স্টেশনে একটাও মানুষ নেই, দূর থেকে একটা শেয়ালের ডাক ভেসে আসছে। বুকের ভেতরটা ধুক করে উঠল। এই রাতে, একা, হেঁটে বাড়ি যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
বৃষ্টিতে ভিজে পথঘাট একাকার। কাঁধে ব্যাগ, হাতে ছাতা – তবুও শীত শীত করছিল। গ্রামের মেঠো পথ ধরে একা হাঁটছি। দু'পাশে বাঁশঝাড়, মাঝে মাঝে জোনাকির আলো। হঠাৎ মনে হল, কেউ যেন আমার পিছু নিয়েছে। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম, কেউ নেই। আবার হাঁটা শুরু করলাম।
কিছুদূর যেতেই একটা পুরনো বটগাছ পড়ল। গাছটা এমনিতেই বিশাল আর অন্ধকার লাগছিল, বৃষ্টির জন্য যেন আরও ভয়ংকর দেখাচ্ছিল। গাছের ডালপালাগুলো ভেজা ভূতের হাতের মতো মনে হচ্ছিল। হঠাৎ একটা ঠান্ডা বাতাস আমার গা ছুঁয়ে গেল। মনে হল যেন কেউ ফিসফিস করে কথা বলছে।
পা দুটো যেন আর চলতে চাইছে না। তবুও জোর করে পা টেনে টেনে চলছি। বাড়ির কাছাকাছি এসে দেখি, উঠোনে টিমটিমে একটা আলো জ্বলছে। দরজার কাছে যেতেই মা ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলেন। তাঁর চোখও ভেজা।
ঘরে ঢুকে দেখি, উঠোনের একপাশে চাচার নিথর দেহ রাখা। মুখটা শান্ত, যেন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কাকা, জেঠিমা, গ্রামের আরও অনেকে সেখানে বসে আছেন। কান্নার রোল থেমে থেমে ভেসে আসছে।
সারারাত ঘুমোতে পারলাম না। চাচাকে হারানোর শোক, আর সেই রাতের অন্ধকার ভেজা পথ – সব মিলিয়ে একটা দমবন্ধ করা পরিবেশ। ভোরের আলো ফুটতেই মনটা একটু শান্ত হল।
পরের কয়েকটা দিন গ্রামের বাড়িতেই ছিলাম। চাচার আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া পড়ানো হল। ধীরে ধীরে শোকের আবহাওয়ার মধ্যে স্বাভাবিকতা ফিরে এল।
তবে সেই রাতের কথা আমি আজও ভুলতে পারিনি। অন্ধকার, বৃষ্টি, আর সেই নির্জন পথে একা হেঁটে আসার ভয় – আজও আমার মনে একটা শীতল স্রোত বইয়ে দেয়। মাঝে মাঝে মনে হয়, সত্যিই কি কেউ আমার পিছু নিয়েছিল? নাকি ওটা শুধুই মনের ভুল? উত্তরটা আজও অজানা।

কয়েক দিন পরের ঘটনা। তখন গ্রামে একটা চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতের বেলা নাকি কেমন যেন অশরীরী ছায়া ঘোরাঘুরি করে। অনেকেরই মনে সেই রাতের ভয়টা এখনও টাটকা।
একদিন রাতে, আমাদের বাড়ির উঠোনে বসে সবাই গল্প করছিলাম। হঠাৎ উঠোনের পেছনের বাঁশঝাড় থেকে একটা অদ্ভুত শব্দ ভেসে এল – খসখস... খসখস... মনে হল যেন কেউ শুকনো পাতা মাড়িয়ে হেঁটে যাচ্ছে। কিন্তু এই রাতে তো বাঁশঝাড়ে কারও থাকার কথা নয়।
দাদীমা আঁতকে উঠে বললেন, "ওটা নিশ্চয়ই অমঙ্গল! সেদিন রাতে তো ঝড়বৃষ্টি ছিল, হয়তো কোনো খারাপ আত্মা ভর করেছে।"
কথাটা শুনে আমারও গা ছমছম করতে লাগল। সেই রাতের স্টেশনের কথা মনে পড়ে গেল। আবছা আলো, ভেজা পথ আর সেই ঠান্ডা বাতাস...
কয়েকজন সাহসী যুবক টর্চলাইট নিয়ে বাঁশঝাড়ের দিকে এগিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর তারা ফিরে এল, তবে তাদের মুখ ফ্যাকাসে। তারা বলল, কিছুই দেখতে পায়নি, শুধু শব্দটা কিছুক্ষণ ছিল, তারপর থেমে গেছে।
এরপর থেকে রাতের বেলা গ্রামের মানুষজন একা বাইরে বের হতে ভয় পেত। যে যার মতো ঘরের দরজা বন্ধ করে বসে থাকত। আমিও রাতে বারান্দায় পর্যন্ত যেতে সাহস পেতাম না। সেই রাতের ট্রেনে বাড়ি ফেরার স্মৃতিটা যেন আরও গাঢ় হয়ে আমার মনের মধ্যে গেঁথে গিয়েছিল।
একদিন বিকেলে আমি আর আমার এক বন্ধু গ্রামের পাশে পুরনো একটা পুকুরে গিয়েছিলাম। পুকুরটা অনেকদিন ধরে পরিত্যক্ত, চারপাশে আগাছা আর জঙ্গলে ভরে গেছে। স্থানীয়রা বলত, ঐ পুকুরে নাকি আগে খারাপ কিছু ঘটনা ঘটেছিল।
পুকুরের পাড়ে বসে যখন আমরা গল্প করছিলাম, তখন হঠাৎ পুকুরের মাঝখানে একটা ঢেউ দেখতে পেলাম। অথচ আশেপাশে বাতাসও ছিল না। আমার বন্ধু ভয়ে আমার হাত খামচে ধরল। ঢেউটা ধীরে ধীরে বড় হতে লাগল, মনে হল যেন কেউ জলের তলা থেকে উঠে আসছে।
আমরা আর এক মুহূর্তও দাঁড়াইনি, দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে এলাম। সেইদিনের পর পুকুরের ধারেকাছেও যাইনি। গ্রামের সেই ভয়ের আবহাওয়াটা যেন ক্রমশ আরও ঘনীভূত হচ্ছিল।
একদিন রাতে, আমাদের বাড়িতে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। রাতের খাবার সেরে সবাই ঘুমোতে গিয়েছি। হঠাৎ মাঝরাতে আমার ঘুম ভেঙে গেল। মনে হল যেন কেউ আমার নাম ধরে ডাকছে – "অপু... অপু..."
গলার স্বরটা খুব পরিচিত, কিন্তু যেন কেমন ধরা ধরা। আমি প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম। ভাবলাম, হয়তো ভুল শুনছি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার সেই ডাক – "অপু... এখানে এসো..."
আমি সাহস করে বিছানা থেকে উঠলাম। ঘরের বাইরে আবছা অন্ধকার। দরজা খুলে বারান্দায় গেলাম। কেউ নেই। শুধু দূরে জোনাকির আলো মিটমিট করছে।
হঠাৎ আমার চোখ পড়ল উঠোনের দিকে। সেখানে একটা আবছা ছায়া দাঁড়িয়ে আছে। চাঁদের আলোয় ছায়াটা স্পষ্ট না হলেও, মনে হল যেন কারোর লম্বাটে অবয়ব। আমার বুক ধকধক করতে লাগল।
ছায়াটা ধীরে ধীরে আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। আমি ভয়ে পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম, চিৎকার করারও ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলাম। ছায়াটা যখন একেবারে কাছে এল, তখন আমি দেখলাম – ওটা আর কেউ নয়, আমার ছোট চাচা!
কিন্তু এটা কি করে সম্ভব? চাচা তো কয়েকদিন আগেই মারা গেছেন!
চাচা আমার দিকে তাকিয়ে করুণ স্বরে বললেন, "অপু, আমি শান্তি পাচ্ছি না। আমার কিছু কাজ অসমাপ্ত রয়ে গেছে। তুমি কি আমায় সাহায্য করবে?"
আমি ভয়ে কথা বলতে পারছিলাম না, শুধু মাথা নেড়ে সায় দিলাম।
চাচা বললেন, "আমাদের পুরনো বাড়ির পেছনের জমিতে একটা বাক্স পোঁতা আছে। ওটাতে কিছু কাগজপত্র আছে, সেগুলো আমার বন্ধুর কাছে পৌঁছে দিও।"
কথাটা শেষ করেই ছায়াটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। আমি তখনও স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
পরের দিন সকালে আমি আমার কয়েকজন বন্ধুকে সাথে নিয়ে পুরনো বাড়ির পেছনের জমিতে গেলাম। সেখানে মাটি খুঁড়তেই একটা পুরনো কাঠের বাক্স পাওয়া গেল। বাক্স খুলে দেখলাম, ভেতরে কিছু পুরোনো দলিল আর চিঠি।
চিঠিগুলো পড়ে জানতে পারলাম, আমার চাচা একসময় ব্যবসার জন্য কিছু টাকা ধার নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ঋণ তিনি শোধ করে যেতে পারেননি। সেই কারণেই হয়তো তার আত্মা শান্তি পাচ্ছিল না।
আমরা সেই চিঠি আর দলিলগুলো খুঁজে বের করে চাচার সেই বন্ধুর কাছে পৌঁছে দিলাম। সবকিছু জানার পর চাচার বন্ধু খুব ভেঙে পড়লেন এবং দ্রুত সেই ঋণ পরিশোধ করার ব্যবস্থা করলেন।
এর কয়েক দিন পর, গ্রামের সেই ভয়ের আবহাওয়াটা ধীরে ধীরে কেটে গেল। রাতের বেলা আর সেই অদ্ভুত শব্দ শোনা যায়নি। মানুষের মনে শান্তি ফিরে এল।
আমার মনে আজও সেই রাতের ঘটনাটা স্পষ্ট মনে আছে। আমি জানি না ওটা সত্যি ছিল নাকি আমার মনের ভুল। তবে সেই ঘটনার পর আমি বিশ্বাস করতে শুরু করেছি, হয়তো মানুষের আত্মা তার অসমাপ্ত কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত শান্তি পায় না। আর হয়তো, ভালোবাসার টানেই মৃত মানুষের আত্মাও জীবিতদের কাছে সাহায্য চাইতে পারে।

গল্প:ভয়ংকর রাত।গল্পটি ১৯৮৮ সালের।তখন ভরা বর্ষাকাল। চারদিকে অথৈ জল, গ্রামের পথঘাট সব ডুবে গেছে। শুধু উঁচু ভিটের ঘরগুলো জে...
11/05/2025

গল্প:ভয়ংকর রাত।
গল্পটি ১৯৮৮ সালের।

তখন ভরা বর্ষাকাল। চারদিকে অথৈ জল, গ্রামের পথঘাট সব ডুবে গেছে। শুধু উঁচু ভিটের ঘরগুলো জেগে আছে সাগরের মাঝে ছোট ছোট দ্বীপের মতো। ঢাকা জেলার কোনো এক অজপাড়াগাঁয়ের গল্প এটি। গ্রামের নাম কাঁঠালিয়া।
কাঁঠালিয়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট খালটি ভরা বর্ষায় ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। স্রোত এত বেশি থাকে যে নৌকা চালানোও কঠিন। সেই খালে ছিল এক পুরোনো বটগাছ। দিনের বেলাতেও গাছটা কেমন যেন অন্ধকার আর রহস্যময় লাগতো। আর রাতের বেলা তো কথাই নেই, নিকষ কালো আঁধারে গাছটা যেন সাক্ষাৎ কোনো রাক্ষস।
গ্রামের লোকেরা বলাবলি করত, ওই বটগাছে এক ভয়ানক পেত্নী থাকে। রাতে নাকি তার কান্নার আওয়াজ ভেসে আসে। কেউ একা সাহস করে ও পথে যেত না। এমনকি মাঝরাতে কোনো নৌকা ভুল করে ওদিকে গেলে নাকি পেত্নী তাদের ডুবিয়ে মারত।
একদিন রাতে গ্রামের যুবক রহিম তার শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরছিল। খাল পার হওয়ার জন্য সে একটি ছোট ডিঙি নৌকা নিয়েছিল। আকাশে মেঘ ছিল না, ভরা পূর্ণিমা। চারদিক জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছিল, কিন্তু বটগাছের তলাটা তখনও অস্বাভাবিক অন্ধকার।
রহিম যখন বটগাছের কাছে পৌঁছালো, হঠাৎ ঠান্ডা একটা বাতাস তার গালে লাগলো। শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠলো তার। সে বৈঠা জোরে চালাবার চেষ্টা করলো, কিন্তু মনে হলো যেন কেউ পেছন থেকে তার নৌকা ধরে টানছে। নৌকা কিছুতেই এগোতে চাইছিল না।
ঠিক তখনই রহিম শুনতে পেল সেই ভয়ানক কান্না। বুক হিম করা আর্তনাদ, যেন কোনো নারী গভীর কষ্টে চিৎকার করছে। কান্নাটা বটগাছের দিক থেকেই ভেসে আসছিল। রহিম ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো। তার মনে হচ্ছিল যেন তার হৃৎপিণ্ড এখনই ফেটে যাবে।
সাহস করে চোখ খুলতেই রহিম যা দেখলো, তাতে তার রক্ত হিম হয়ে গেল। বটগাছের একটা ডালে লম্বা চুলওয়ালা এক নারী ঝুলে আছে। তার মুখটা চাঁদের আলোতেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না, তবে তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে যেন দুটো লাল আগুনের গোলা। সে করুণ সুরে কাঁদছে আর মাঝে মাঝে হিসহিস করে কী যেন বলছে।
রহিমের হাত-পা অবশ হয়ে গেল। তার মনে হলো যেন তার শরীর বরফ হয়ে যাচ্ছে। সে আর বৈঠা ধরতে পারছিল না। নৌকাটা স্রোতের টানে ধীরে ধীরে বটগাছের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
পেত্নীটা এবার ডাল থেকে নেমে নৌকার দিকে উড়তে শুরু করলো। তার লম্বা চুলগুলো বাতাসে উড়ছে, আর তার ধারালো নখগুলো যেন রাহিমের দিকে এগিয়ে আসছে। রহিম চিৎকার করতে চেয়েও পারলো না, তার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল।
ঠিক সেই মুহূর্তে পূর্ণিমার চাঁদ মেঘের আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো। চাঁদের আলো সরাসরি পেত্নীর মুখের উপর পড়লো। সেই আলোয় রহিম দেখলো এক বীভৎস মুখ। চোখগুলো কোটর থেকে বেরিয়ে আসা, দাঁতগুলো ধারালো আর লম্বা, আর মুখটা রক্তশূন্য ফ্যাকাসে।
পেত্নীটা রাহিমের একদম কাছে চলে এসেছিল। রহিম জ্ঞান হারানোর আগে শুধু একটা ঠান্ডা স্পর্শ অনুভব করলো তার গালে।
পরের দিন সকালে গ্রামের লোকেরা খাল পাড় দিয়ে যেতে গিয়ে রহিমের নৌকাটি দেখতে পায়। নৌকাটি বটগাছের কাছে আটকে ছিল, আর রহিম নৌকার পাটাতনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিল। তার সারা শরীর ঠান্ডা, যেন বরফ।
তাকে ধরাধরি করে বাড়িতে আনা হলো। অনেকক্ষণ পর তার জ্ঞান ফিরলো, কিন্তু সে আর কথা বলতে পারলো না। তার চোখের দৃষ্টি স্থির, যেন সে এখনও সেই ভয়ানক দৃশ্য দেখছে।
সেই রাতের পর রহিম আর স্বাভাবিক হয়নি। গ্রামের লোকেরা সেই বটগাছটিকে আরও বেশি ভয় পেতে শুরু করলো। বর্ষাকাল এলেই সেই ভয়ানক কান্নার আওয়াজ আবার ভেসে আসে, আর সবাই জানে ওটা সেই পেত্নীর কান্না। আজও কাঁঠালিয়া গ্রামের মানুষ রাতের বেলা একা সেই খালের ধারে যেতে সাহস পায় না। তাদের মনে সেই ভয়ানক রাতের স্মৃতি আজও জীবন্ত।

সুন্দরবন রহস্য।২য় ও শেষ পর্ব:ভাইয়ারা ভাবতে লাগলেন,বাঘ কেন আমাদের দেখে দৌড় দিল। কিন্তু ভেবে কোন কুল কিনারা করতে পারলেন না...
10/05/2025

সুন্দরবন রহস্য।
২য় ও শেষ পর্ব:
ভাইয়ারা ভাবতে লাগলেন,বাঘ কেন আমাদের দেখে দৌড় দিল। কিন্তু ভেবে কোন কুল কিনারা করতে পারলেন না। যা হোক উনারা মোটামুটি সাইজের একটা সুন্দরী গাছের ডাল কাটলেন।জবাই করা হরিণটির দুটি করে পা একসাথে বেঁধে গাছের ডালটি মাঝখান দিয়ে ডুকিয়ে দিয়া ডালের মাথা দুই জন করে দুইদিকে ধরে হাঁটা শুরু করলেন। উনারা হঠাৎ করে থামতে বাধ্য হলেন।সামনে দেখলেন অপূর্ব এক সুন্দরী নারী তাদের সামনে দাড়িয়ে আছে। চাঁদের আলোয় রমণীর মুখ যেন ঝলমল করছে। তারা সবাই কেমন যেন একটা ভ্রমের মধ্যে পড়ে গেলেন। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ভুলে গেলেন। মেয়েটি গহীন জঙ্গলের দিকে হাঁটতে লাগলো। ভাইয়ারাও মেয়েটির পেছন পেছন হাঁটা শুরু করলেন,কোন কিছু না বুঝেই। অনেকটা হাঁটার পর মেয়েটি থামলো। ভাইয়ারা একটি কুঁড়েঘর দেখতে পেলেন। কাঁধ থেকে হরিণের দেহটি নামিয়ে অপলক দৃষ্টিতে মেয়েটিকে দেখতে লাগলেন।

এদিকে অনেক দেরি হয়ে যাওয়াও নৌকার বন্ধুরা চিন্তায় পড়ে গেলেন। তারা নৌকা থেকে নেমে ভাইয়াদের পায়ের চিহ্ন ধরে হাঁটতে লাগলেন।

এদিকে মেয়েটি ভাইদের বলল যে হরিণটিকে কেটে মাংশ বানানোর জন্য। ভাইয়ারা তাই করলেন। তারপর ভাইয়াদের আর কিছু মনে নেই।
একেবারে সকাল হয়ে গেছে। ভাইয়ার বন্ধুরা তাদেরকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করলেন। কিন্তু কোন মাংশ দেখতে পেলেন না। ভাইয়ার বন্ধুরা পাশেই একটা খাল দেখতে পেলেন। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর একটি জেলে নৌকা এল। জেলেদের সাহায্য নিয়ে, ভাইয়াদের নিয়ে নৌকায় ফিরলেন। অনেক সময় পর ভাইয়াদের জ্ঞান ফিরলে,ভাইয়ারা সব খুলে বললেন। তারপর ছোট নৌকাটি চালিয়ে দিলেন খুলনার উদ্দ্যেশ্যে। ক্ষুধায় তৃষ্ণায় উনাদের একেবারে অবস্থা খারাপ।
২ দিন পর খুলনা পৌছে সেখান থেকে জীবনের রিস্ক নিয়ে রাজশাহী পৌঁছে হলে গেলেন। তারপর তাদের অনেক জ্বর হয়। হুজুর এনে ঝাড়ার পর,হুজুর বলেন যে সেটা একটা যুবতী মেয়ের আত্না ছিল। হরিণের মাংশ থাকার কারনে ভাইয়াদের জানে মারেনি। হরিণের মাংশ নিয়ে খেয়েছে আর ভাইয়াদের ছেড়ে দিয়েছে। সুন্দরবনে এমন ঘটনা নাকি অহরহই ঘটে। তিনি কিছু তাবিজ দিলে ভাইয়ারা আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠেন।

সুন্দরবন রহস্য।পর্ব-১সে অনেক দিন আগের কথা। আমি তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ১৯৯০ সাল। সারাদেশ স্বৈরাচার বিরোধী বিক্ষোভে উত্ত...
09/05/2025

সুন্দরবন রহস্য।

পর্ব-১
সে অনেক দিন আগের কথা। আমি তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ১৯৯০ সাল। সারাদেশ স্বৈরাচার বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল। এরই মধ্যে শহীদ হয়েছেন নুর হোসেন গায়ে লিখে,"স্বৈরাচার নিপাত যাক,গণতন্ত্র মুক্তি পাক"।
এর কিছুদিন আগে আমার এক পরিচিত বড় ভাই তার কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে সুন্দরবনে গিয়েছিলেন গবেষণার কাজে। উনারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগে এমফিল করছিলেন। সেই বড়ভাই শুনিয়েছিলেন তার বাস্তব অভিজ্ঞতা। উনারা সুন্দরবনে গিয়ে আটকা পড়েছিলেন আন্দোলনের কারনে। নৌকায় ১৫ দিনের খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন। খাবার শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যেভাবেই হোক হরিণ শিকার করে খাবার যোগার করতে হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। রাত ৮ টার দিকে তারা মোট চারজন নৌকা থেকে জঙ্গলে নামেন। বাকী ৩ জন নৌকাতেই থেকে যান। জঙ্গলে নেমে তারা আস্তে আস্তে জঙ্গলের ভেতরে প্রবেশ করতে থাকেন। পূর্ণিমা রাত,অনেক কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তাদের চোখ স্থির হয়ে থাকে হরিণের জন্য। বনের ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া চারদিকে কোন টু শব্দটিও নেই। মাঝে মাঝে রাতের পাখির ডানা ঝাপটানির শব্দ আর নাম না জানা পাখির ডাক বনের ভেতরের পরিবেশকে একেবাড়ে ভৌতিক করে তুলে ছিল। একরকম অজানা ভয় চেপে ধরেছিল তাদের। একদিকে বাঘের ভয় আবার বনে কিসব অশরীরীরা ঘুরে বেড়ায় রাত হলেই। কিন্তু তাদের কিছুই করার নেই। আজ রাতে তাদের খাবার যোগার করতেই হবে। হঠাৎ তারা পাতার খচখচানির শব্দ শুনতে পান। সাথে সাথে বর্শা নিয়ে রেডি হয়ে যান সবাই। একেবারে সোজা চালিয়ে দেন সামনের দিকে।বড়ভাই অনুভব করেন,তার বর্শার মাথায় কিছু একটা বিধেছে।তিনি দেখতে পান প্রায় ২ মণ ওজনের একটা শিঙ্গেল। সবাই খুব খুশি হয়ে যান। সাথে সাথে ছুরি বের করে জবাই করে ফেলেন হরিণটিকে। কিন্তু এখানেই শেষ ছিল না। তারা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি যে সামনে তাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে। হঠাৎ তারা দেখতে পান হলুদ ডোরাকাটা কিছু একটা তাদের সামনে দাড়িয়ে আছে। ভয়ানকভাবে ভেংচি কাটছে আর গর্জন করছে। তারা ভাবতে থাকেন আজ এখানেই শেষ। তারা বুঝে গেছেন যে বাংলার বাঘ তাদের সামনে। কিন্তু তারাও দমবার পাত্র নন। হঠাৎ করে বাঘটি চোখের নিমিষে জঙ্গলে হারিয়ে যায়। তারা ভাবতে থাকেন বাঘ কেন এভাবে দৌড় দিল..............…..........চলবে।

বাকী অংশ:১০/৫/২০২৫ রাত ৮ টায়। মজার মজার গল্প পেতে চাইলে পেজটি ফলো করে রাখুন।

রাসেলস ভাইপার আতংক ও আমাদের সচেতনতা :রাসেলস ভাইপার হিমোটক্সিক বৈশিষ্ট্যযুক্ত তীব্র বিষধর একটি সাপ।এর বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন...
22/06/2024

রাসেলস ভাইপার আতংক ও আমাদের সচেতনতা :

রাসেলস ভাইপার হিমোটক্সিক বৈশিষ্ট্যযুক্ত তীব্র বিষধর একটি সাপ।
এর বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস নিম্নরূপ :

রাজ্য: এনিমিলিয়া
পর্ব: কর্ডাটা
শ্রেণি: রেপটিলিয়া
বর্গ: স্কুয়ামাটা
উপবর্গ: সারপেন্টস
পরিবার: ভাইপারিডি
গণ: দাবইয়া
বাংলাদেশে প্রাপ্ত সাপগুলোর বিষ সাধারণত তিন প্রকার হয়।

১। নিউরোটক্সিক (মানুষের বা অন্যান্য প্রাণির নার্ভাস সিস্টেমে আক্রমন করে প্যারালাইজড করে দেয়। এই বিষ মাংসপেশিকে অসাড় করে ফলে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মানুষ বা প্রাণি মারা যায়। গোখরা,কিং কোবরা প্রজাতির সাপগুলোর বিষ নিউরোটক্সিক।)

২। হিমোটক্সিক(এই বিষ রক্তকণিকা ভেঙ্গে ফেলে রক্ত জমাট বাঁধায় ফলে কার্ডিয়াক এরেস্ট,অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শক প্রভৃতির মাধ্যমে মৃত্যু ঘটায়।ভাইপারিডি পরিবারের সাপগুলোর বিষ হিমোটক্সিক মানে রাসেলস ভাইপারের বিষ হিমোটক্সিক)। এ থেকেই বোঝা যায় রাসেলস ভাইপার কতটা বিষধর।

৩। সাইটোটক্সিক(এই বিষ মানুষ বা অন্য প্রাণির কোষ ভেঙ্গে দেয়,ফলে কোষ অসাড় হয়ে মৃত্যু ঘটায়।শঙ্খিনী, ব্যান্ডেট ক্রেইট কালাচ এই সাপগুলোর বিষ সাইটোটক্সিক।)

সাপ বৃদ্ধির জন্য এর বংশবিস্তার এর জন্য উপযুক্ত আবহাওয়া, পর্যাপ্ত খাবার ও সাপ খেকো প্রাণির সংখ্যা কমে যাওয়াই প্রধান কারণ হিসাবে ধরা হয়। প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণিই প্রয়োজন। খাদ্যশৃঙ্খলের কোন প্রাণির সংখ্যা হ্রাস বা বিলুপ্ত হলেই সর্বনাশ। বর্তমানে তাই হয়েছে। সাপখেকো ঈগল এখন আর দেখা যায় না।বেজি,গুইসাপ, শিয়াল মেরে সাবার করে দিয়েছি। শালিক,চঁড়ুই,বক মেরে গলধকরণ করেছি। সাপের বংশ ঠিকিই বাড়ছে কিন্তু সাপখেকো প্রাণির অভাবে এদের জনসংখ্যার ব্যালেন্স নস্ট হয়ে গেছে। ভাইপার আতংকে মানুষ এখন নির্বিচারে সাপ মারবে। ফলে যে সাপগুলো সাপ খায় তাদের সংখ্যাও কমে যাবে। আবার সাপ না থাকায় ইঁদুরের সংখ্যা বেড়ে যাবে। ফলে ফসল উৎপাদনের বারোটা বেঁজে যাবে।

প্রকৃতিকে কামড়ে খেলে প্রকৃতি প্রতিশোধ নেবেই, এই সত্য কথাটি বুঝতে পিএইচডি ডিগ্রির দরকার নেই।

Address

Madhabpur, Sherpur Town, Sherpur
Sherpur
2100

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ghost Fm Bangla-বাংলা ভূতের গল্প posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Ghost Fm Bangla-বাংলা ভূতের গল্প:

Share