25/03/2026
ঈদ উপলক্ষ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ২০৪ জন। আহত হয়েছে প্রায় ৬০০ জন। সংখ্যাটা একবার চিন্তা করেন। মাত্র ৫-৬ দিনে ২০৪ জন মানুষ দুনিয়া থেকে নাই হয়ে গিয়েছে।
এদের কেউ কেউ পরিবারের সাথে ঈদ করার সুযোগ পায়নি। যাত্রাপথেই মারা গিয়েছে। আবার কেউ হয়তো পরিবারের সাথে ঈদ করেছে, সেমাই খেয়েছে কিন্তু বেড়াতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে।
হঠাৎ এত বড় একটা সংখ্যা দেখলে ধাক্কা খেতে পারেন। হয়তো ভাবতে পারেন নতুন সরকারের অব্যবস্থাপনায় এমনটা হয়েছে। সংখ্যাটা নিয়ে করতে পারেন কূট রাজনীতি। কিন্তু আসলে এমনটা নয়।
২০২২ সালের ঈদ উল ফিতরে ৪৪৩ জন নিহত।
২০২২ সালে ঈদুল আজহায় ৪৪০ জন নিহত।
২০২৩ সালে ঈদুল ফিতরে ৩২৮ জন নিহত।
২০২৩ সালে ঈদুল আজহায় ৩৪০ জন নিহত।
২০২৪ সালে ঈদুল ফিতরে ৪৩৮ জন নিহত।
২০২৪ সালে ঈদুল আজহায় ৩৩৬ জন নিহত।
২০২৫ সালে ঈদুল ফিতরের ৩৫২ জন নিহত।
২০২৫ সালে ঈদুল আজহায় ৩৯০ জন নিহত।
এই হচ্ছে শুধুমাত্র ঈদে বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তাহীনতার পরিসংখ্যান।
আপনি জানেন? প্রতি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় কতজন মারা যায়? বছরে কয়জন? পঙ্গুত্ব বরণ করে?
২০২৫ সালে প্রায় ৭,৩৫৯ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। আহত প্রায় ১৬,৪৭৬ জন। তার মানে গড়ে আমাদের দেশে প্রতি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ৫০০-৬০০ জন। ২০২৫ সালে নিহত শিশুই প্রায় ১০০৮ জন।
নিহতদের ৪০% মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে।
২০২৫ সালে মোট দুর্ঘটনার সংখ্যাঃ ৭৫৮৪টি।
নৌ দুর্ঘটনা ১৩২টি।
রেল দুর্ঘটনা ৫১৯টি।
৬১% দুর্ঘটনার একমাত্র কারণ উচ্চগতির কারণে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে।
(তথ্যসূত্রঃ রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ২০২৫-২৬)
আমার খুব কষ্ট লাগে দেখতে -
যখন দেখি ঈদ যাত্রায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাওয়াটাকে ইমোশনাল গান লাগিয়ে, নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা, 'বীর পুরুষত্ব' বলে গ্লোরিফাই করা হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূর্খামি করা, মোটেও গ্লোরিফাই করার মতো কিছু নয়। এসব বন্ধ করুন। দেশের নৌ-সড়ক-রেলের বাস্তবতা বুঝার চেষ্টা করুন।
আপনি, আমি, আমরা কেউই নিরাপদ নই। একমাত্র সচেতনতাই পারে আমাদেরকে একটু হলেও নিরাপদ রাখতে। বাকীটা কপাল। কিন্তু অসচেতন থেকে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মেরে, ভাগ্য কিংবা আল্লাহ্র উপর দায় চাপানো বন্ধ করতে হবে।
তাই সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি -
ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
দূরপাল্লার বাস চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ছুটির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ক্লান্ত ড্রাইভিং কমে।
মহাসড়কে অবাধে চলাচল করা রিকশা ও সিএনজি (অটোরিকশা) নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করতে হবে, যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে।
ভাঙ্গা ও ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থা মেরামত ও পুনঃনির্মান করতে হবে।
মাদকাসক্ত ও অদক্ষ চালকদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
সব ধরনের যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট গতিসীমা (speed limit) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
সিসিটিভি, স্পিড ক্যামেরা, অটোমেটেড ফাইন সিস্টেমসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
বেপরোয়া বাস ও মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।
এর পাশাপাশি -
সড়ক, নৌ ও রেলপথের সমন্বিত আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন জরুরি।
ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিরিক্ত যাত্রী বহন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
— সংরক্ষণ