03/09/2026
নদী বাঁচান, কৃষক বাঁচান
কমলগঞ্জ উপজেলা নাগরিক দাবি — ১৫ দফা
১. ধলাই নদী ও সকল নদী-ছড়া দখল ও লুট বন্ধ করতে হবে।
নদী-ছড়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। অবৈধ দখল, ভরাট ও বালু লুট বন্ধ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।
২. অবৈধ বালু ও সিলিকা বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
ড্রেজার, এক্সকাভেটর বা যেকোনো যান্ত্রিক পদ্ধতিতে অবৈধ উত্তোলনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. বালু উত্তোলনের নামে নদী, কৃষিজমি ও জনপদ ধ্বংস বন্ধ করতে হবে।
সেতু, বাঁধ, নদীতীর, বসতবাড়ি ও কৃষিজমির ঝুঁকি তৈরি করে এমন কোনো উত্তোলন অনুমোদন করা যাবে না।
৪. বালুমহালের পূর্ণ তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
কোন বালুমহাল বৈধ, কার ইজারা, কত টাকায় ইজারা, সীমানা কোথায় এবং কী শর্ত—সব তথ্য উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট/নোটিশে প্রকাশ করতে হবে।
৫. বৈধ ইজারার আড়ালে অবৈধ উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।
ইজারার নির্ধারিত সীমানার বাইরে এক ইঞ্চি বালুও উত্তোলন করা যাবে না। ইজারাদার শর্ত ভাঙলে ইজারা বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৬. নদীভাঙন ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের জরুরি তালিকা করতে হবে।
কমলগঞ্জের ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীর ও বাঁধ চিহ্নিত করে সময়সীমা নির্ধারণ করে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক কাজ করতে হবে।
৭. ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষয়ক্ষতির সরকারি হিসাব করতে হবে।
নদীভাঙন, বালু উত্তোলন বা জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমির তালিকা তৈরি করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করতে হবে।
ফসলি জমি থেকে অনুমতিহীন মাটি কাটা, মাটি বিক্রি ও কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৯. নদী-ছড়ার সরকারি সীমানা জরিপ ও ডিজিটাল ম্যাপ প্রকাশ করতে হবে।
প্রতিটি নদী, ছড়া, খাল ও জলাশয়ের সীমানা চিহ্নিত করে সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
১০. নদী-ছড়া দখল করে স্থাপনা নির্মাণ উচ্ছেদ করতে হবে।
অবৈধ স্থাপনা, বাঁধ, মাটি ভরাট ও দখল চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ করতে হবে এবং উদ্ধারকৃত জায়গা পুনরায় দখল ঠেকাতে সীমানা নির্ধারণ করতে হবে।
১১. অবৈধ উত্তোলনের যন্ত্রপাতি জব্দ ও পুনঃব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
ড্রেজার, এক্সকাভেটর, পাম্প, পাইপ ও পরিবহনযান আইন অনুযায়ী জব্দ করার পাশাপাশি পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করতে হবে।
১২. প্রভাবশালী পরিচয় নয়-প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা চাই।
কেউ রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হলেও আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। আবার প্রমাণ ছাড়া কাউকেও হয়রানি করা যাবে না।
১৩. প্রশাসনিক অভিযানের ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।
কতটি অভিযান হয়েছে, কত মামলা হয়েছে, কত জরিমানা আদায় হয়েছে, কত বালু/যন্ত্রপাতি জব্দ হয়েছে এবং মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা-নিয়মিতভাবে জনগণকে জানাতে হবে।
১৪. নদী ও কৃষি রক্ষায় নাগরিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
নাগরিক প্রতিনিধি, কৃষক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সমন্বয়ে একটি স্বচ্ছ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে; অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির সময়সীমাও নির্ধারণ করতে হবে।
১৫. ‘কমলগঞ্জ নদী–কৃষি সুরক্ষা মহাপরিকল্পনা’ গ্রহণ করতে হবে।
নদী, ছড়া, খাল, কৃষিজমি, বাঁধ, সেচ, পরিবেশ ও কৃষকের জীবিকা-সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং এর বাস্তবায়নের জন্য জবাবদিহিমূলক সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে।
আমাদের অবস্থান
নদী কোনো সিন্ডিকেটের সম্পদ নয়।
কৃষিজমি কোনো লুটের ক্ষেত্র নয়।
প্রাকৃতিক সম্পদ জনগণের সম্পদ।
অবৈধ দখল বন্ধ করুন।
বালু লুট বন্ধ করুন।
নদী রক্ষা করুন।
কৃষককে রক্ষা করুন।
একটাই দাবি—
নদী বাঁচান, কৃষক বাঁচান।
কমলগঞ্জ বাঁচান।