28/05/2025
উপমহাদেশে সবার চোখের সামনে ১টা 'Food Calamity' ঘটে গেছে; সেটা হলো—দেশীয় গরুর দুধ উঠে যাওয়া!
দেশীয় গরুর দুধ মারাত্মক রকম উপকারী। দেহের Bone কে দারুণভাবে Strengthening করে দেশীয় গরুর দুধ।
দেশীয় গরুর দুধ স্বাস্থ্যর জন্য একটি কমপ্লিট নিউট্রিয়েন্টস প্যাকেজ হিসেবে কাজ করে।
আমাদের পূর্বপুরুষদের যমানায়, ব্যায়াম করে এসে এক পেল্লায় সাইজের পাত্রে দেশী গরুর দুধ খাওয়া ছিল নৈমিত্তিক ব্যাপার। আর, একারনেই সেকালে ১৫০ কিলো In a Lil wrong posture-এ তুলেও পেইন এর বিন্দুমাত্র সমস্যা উনাদের হতোনা।
অন্যদিকে,
বিজাতীয় গরুর দুধ খাওয়ার থেকে দুধই না খাওয়া উত্তম।
এসব গরুর দুধ খেলে ঐ 'Bone strengthening' এর বদলে সেটাকে উল্টা দুর্বল করে দেয় আরো।
কিন্তু, বর্তমানে সেই দেশী গরুর দুধ উঠে গেছে।
বাজার ভরে গেছে নানা বিজাতীয় গরুর নিম্নমানের দুধ দিয়ে, যা খেলে শরীরে নতুন সমস্যা তৈরি হওয়া ছাড়া আর কোন কাজে সাহায্য হবেনা।
বিজাতীয় গরুরা এদেশের আবহাওয়ায় বেশি বেশি অসুস্থ হয়, তখন এদের গাদাগাদা এন্টিবায়োটিক গেলানো হয়।
কেবলমাত্র ২০১০ সালে সারা পৃথিবীতে ৬৩৫০০ মেট্রিক টন এন্টিবায়োটিক উৎপাদিত হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তা ১,২০,০০০ টন এর মাত্রা ছাড়াবে। এই বিপুল পরিমান এন্টিবায়োটিকের ৭০ ভাগই ব্যবহৃত হয় পশুপালন ক্ষেত্রে!
ডেইরি ইন্ডাস্ট্রির গরুগুলোকে তাদের জন্ম-মৃত্যু পর্যন্ত হাই & লো এন্টিবায়োটিক ডোজের ওপরে রাখা হয়।
এদের দুধ খাওয়ার মাধ্যমে আমাদের দেহে প্রবেশ করতে থাকে এন্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়া!
প্রতি বছর সারা পৃথিবীতে প্রায় ৭ লাখ মানুষ এন্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়া জনিত ইনফেকশনের কারণে মারা যায়!
WHO'র এস্টিমেট অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর ১ কোটি মানুষ কেবল এন্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়ার কারণে মারা যাবে!
..
পৃথিবীতে গরুর যতগুলো জাত রয়েছে তাদেরকে সাধারণভাবে দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে:
১। Bos ta**us: এদের মধ্যে ইউরোপীয় জাত যেমন- জার্সি, হলেস্টেইন ফ্রিজিয়ান ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত, যাদের গায়ের কাঠামোয় সাধারণত কুঁজ থাকে না।
২। Bos indicus: এদের মধ্যে জেবু জাতের গরু অন্তর্ভুক্ত, যাদের পিঠে কুঁজ থাকে।
উপমহাদেশের অধিকাংশ গরুর জাত Bos indicus বা জেবু পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, যাদের পিঠে কুঁজ থাকে। উপমহাদেশে স্থানীয় যতগুলো গরুর জাত আছে সব গুলোর পিঠেই কুঁজ (Hump) আছে।
এই জেবু পরিবারের গরুদের ২১টি বৈশিষ্ট্য আছে, যা দ্বারা এদেরকে সহজেই বিদেশী গরু থেকে আলাদা করা যায়।
এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বৈশিষ্ট্য হলো:
- দেশী গরুর সামনের দিকটা চওড়া, পেছনের দিক সরু।
- এদের পিঠে কুঁজ থাকবে, হোক সেটা ছোট কিংবা বড়।
- এদের বড় গলকম্বল (Dewlap) থাকবে। দেশি ষাড়ের গলকম্বল বেশি বড় হয়।
- জাত ভেদে এদের শিং এর আকৃতি ভিন্নভিন্ন হয়ে থাকে।
- এরা পরিষ্কার জায়গা পেলে বসে, নইলে দাঁড়িয়ে থাকে।
- ঘাম নির্গমনের জন্য উপযুক্ত বডি স্ট্রাকচার থাকায় গরমেও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম। ঘামগ্রন্থি বড়, তাই এরা প্রচন্ড গরমেও মাঠে চরে বেড়ায়।
- দেশী গাভী সম্পূর্ণ জীবদ্দশায় আনুমানিক ১০-১২ টি বাচ্চা দেয়।
- বাছুর ডাকার সঙ্গে সঙ্গেই মা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। যখন বাছুর ডাকে, মা যেখানেই থাকুক দৌড়ে আসবে।
- দেশী গাইয়ের দুধ ঘন ও পুষ্টিকর, এটি দিয়ে বাই প্রডাক্ট বেশী হয়।
- দেশী বলদ গরমে টানা ৭-৮ ঘন্টা কাজ করতে পারে।
- দেশি গরুর অন্ত্র বিদেশি গরুর তুলনায় বৃহত্তর, যা কঠিন আঁশ হজম করতে সহায়ক। দেশী গরুর অন্ত্র বিদেশি গরুর চেয়ে মোটামুটি দেড় গুণ বড়। দেশী গরুর অন্ত্রে থাকে অসংখ্য উপকারী অনুজীব।
ভারতে দেশী গরুর ৩৭টি রেজিস্ট্রার্ড ব্রীড আছে। তবে এর বাইরেও অনেকগুলো আনরেজিস্ট্রার্ড জাত আছে সেখানে। ভারতে সরকারী সংস্থাগুলো কর্তৃক ৩৭টি দেশী গরুর রেজিস্ট্রার্ড ব্রীড স্বীকৃত হলেও, আনরেজিস্টার্ড অনেক স্থানীয় জাত বিদ্যমান।
বাংলাদেশে দেশী গরুর রেজিস্ট্রার্ড ব্রীডগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে- পাবনা ক্যাটেল, রেড চিটাগং ক্যাটেল (RCC), নর্থ বেঙ্গল গ্রে, মুন্সিগঞ্জ ক্যাটেল, হিল ব্ল্যাক প্রভৃতি।
এই তালিকার বাইরেও আমাদের দেশে আরো অনেক আনরেজিস্টার্ড বা নন-ডিসক্রিপটিভ দেশী জাত বিদ্যমান।
ভাল দুধ উৎপাদন করে থাকে এমন উপমহাদেশীয় গরুর জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে- শাহিওয়াল, সিন্ধি, গীর, থারপারকর, রাঠি, কাংক্রেজ প্রভৃতি। এ জাতগুলি অন্যান্য দেশী জাতের তুলনায় বেশি দুধ উৎপাদনের ক্ষমতা রাখে।
আর যেসব গাভী তুলনামূলক কম দুধ দেয় তাদের গোবরে উপকারী অনুজীবের সংখ্যা অনেক বেশী থাকে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় গুরুত্ব না থাকলেও প্রাকৃতিক জীবনধারায় তাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ, দেশি গরুর গোবর প্রাকৃতিক কৃষির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে বিষমুক্ত চাষাবাদ করতে চাইলে আপনার দেশী গাভীর গোবর লাগবেই।
যেই গরুগুলো দুধ কম দেয় (২-৩ লিটার) এবং যে গাভীগুলোর বয়স হয়ে গিয়েছে (এখন আর দুধ ও বাচ্চা দেয় না) তাদের গোবরে শত শত কোটি উপকারী অনুজীব থাকে!
অন্যদিকে বিদেশী গরুর গোবরে এত বেশী অনুজীব ত থাকেই না, তার মধ্যে আবার অপকারী অনুজীবের সংখ্যাই বেশী!
দুধ কম দেয় বলে দেশী গাভী কেউ পালতে চায় না। যার ফলে আমাদেরকে ফার্মের বিজাতীয় গরুর দুধের উপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে।
গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী গরুর দুধ দুই প্রকারের হয়:
১) A1 milk
২) A2 milk
গরুর দুধে প্রায় ৮০% casein প্রোটিন থাকে। এই casein প্রোটিন ৪ ধরনের:
১) আলফা casein
২) বেটা casein
৩) গামা casein
৪) কাপা casein
এর মধ্যে বেটা casein আবার ২ প্রকার:
১) A1 Beta casein
২) A2 Beta casein
হলেস্টেইন ফ্রিজিয়ান, জার্সি এসব বিদেশি গরুর দুধে A1 বেটা ক্যাসিন পাওয়া যায়।
তাই এই দুধকে A1 milk বলে।
আর, A2 বেটা ক্যাসিন পাওয়া যায় আমাদের (উপমহাদেশের) দেশী গাভীর দুধে।
তাই এই দুধকে A2 milk বলে।
দুধের পরিমাণ কম হওয়ায় কোনো ডেইরি ফার্মেই দেশী গাভী পালন করা হয় না।
ফার্মে পালন করা হয় হলেস্টেইন ফ্রিজিয়ান, জার্সি ইত্যাদি অধিক দুধ উৎপাদনশীল জাত। যেগুলো A1 milk উৎপাদন করে।
A1 মিল্কের বেটা ক্যাসিন হজমের সময় ব্রেক ডাউন হয়ে BCM-7(বেটা কসমোমরফিন-৭) সৃষ্টি হয়, যা মানবদেহে হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরী করে এবং পরবর্তীতে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, অটিজম এবং নিউরোলজিকাল ডিসঅর্ডারের মত সমস্যা তৈরী করে!
এই দুধ নিয়মিত বাচ্চাদেরকে খাওয়ালে তাদের অটোইমিউন ডিজিজ এবং অটিজম হতে পারে! (https://www.iafaforallergy.com/blog/hidden-enemies-present-in-a1-milk-and-their-consequences-on-human-health/)
অন্যদিকে,
A2 milk অর্থাৎ আমাদের দেশী গাভীর দুধ এসমস্ত ক্ষতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
আগে সবাই ছোটবেলায় দেশী গাভীর দুধ খেয়েছে। বাচ্চাদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য দেশী গাভীর দুধ খুবই ভালো।
A2 দুধ থেকে তৈরী A2 ঘি (A2 Clarified Butter), অর্থাৎ দেশী গরুর দুধ থেকে তৈরী ঘি-তেই প্রকৃত ঔষধি গুণ বিদ্যমান।
তাই আপনার উচিৎ বাড়িতে একটি-দুটি দেশী গাভী পালন করা। আমাদের অবহেলার কারণে দেশী গরুর জাতগুলো আজ বিলুপ্তির পথে।
প্রয়োজনে ৪-৫ টা পরিবার মিলে একটা দেশি গাভী পালুন।
অসচেতন ভোগবাদী কালচারে প্রতিদিন গ্লাসে গ্লাসে অস্বাস্থ্যকর দুধ খাওয়ার চেয়ে সপ্তাহে ১ দিন ১ কাপ করে হলেও দেশী গরুর খাঁটি দুধ খান।