17/10/2023
আসুন গোবিন্দগঞ্জ সম্পর্কে টুকটাক জেনে নেই।
(১)
#প্রশ্নঃ গোবিন্দগঞ্জের নামকরন কিভাবে হয়েছে?
#উত্তরঃ গোবিন্দগঞ্জের নামকরনের পিছনে অনেক ধরনের মতামত পাওয়া গেলেও। যে দুটি মতামত অধিক পরিমাণে প্রচলিত তার মধ্যে একটি হলো, প্রাচীন পৌন্ড্রবর্ধন রাজ্যের শেষ রাজা ছিলেন গোবিন্দ। যেহেতু গোবিন্দগঞ্জ একসময় পৌন্ড্রবর্ধন রাজ্যের অধীনে ছিলো, তাই ধারণা করা হয় তার নামেই এই এলাকাটির নামকরণ করা হয়েছিলো।
অন্যটি হলো, ১৬০১ সালে যখন প্রায় পুরা উপমহাদেশের শাষণভার মুসলমানদের অধীনে ছিলো অর্থাৎ মোঘল আমলে ঐতিহাসিক বর্ধনকুঠি নামক স্থানে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি মন্দির নির্মাণ করা হয়। যা পরবর্তীতে গোবিন্দ মন্দির নামে পরিচিতি পায়।
"গঞ্জ" একটি ফারসী শব্দ। এর অর্থ হাট বাজার,বন্দর অথবা কোন জিনিস ক্রয় বিক্রয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান/কেন্দ্র। যেহেতু আমাদের এই এলাকাটি করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত। আর প্রাচীন কালে যখন করতোয়ার চিরচেনা যৌবন রূপ ছিলো তখন এই নদীর তীরে অর্থাৎ আমাদের এই এলাকায় বিশাল বানিজ্য কার্যক্রম গড়ে উঠেছিলো। যা মোঘল আমলে গঞ্জ হিসেবে পরিচিতি পায়। সময়ের সাথে সাথে গোবিন্দ শব্দের সাথে গঞ্জ যুক্ত হয়ে, এই এলাকাটির নামকরণ করা হয় গোবিন্দগঞ্জ।
(গোবিন্দগঞ্জের আর একটি নাম হলো
#গোলাপবাগ। বর্ধনকুঠির রাজা শ্যাম কিশোর এখানে একটি গোলাপ ফুলের বাগান তৈরী করেন। আর ঐ বাগান থেকেই এই এলাকার নাম হয় গোলাপবাগ।)
(২)
#প্রশ্নঃ গোবিন্দগঞ্জের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান
কি কি??
-
#উত্তরঃ পুরা গোবিন্দগঞ্জ এলাকাটিই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে ভরপুর। সময়ের সাথে সেইসব এলাকা সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে তথ্য সংগ্রহ করতে না পারায়। সেগুলা সময়ের সাথে সাথেই হারিয়ে গেছে। তারপরও যে কয়টা স্থানের নাম পাওয়া যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কুঠিবাড়ী, বর্ধনকুঠি, দুধ সাগর,রক্ত সাগর, বিরাট নগর,বোগদহ বিহার ইত্যাদি। এইসব এলাকার সাথে অনেক ইতিহাস এবং ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। যা নিয়ে বিস্তারিত লিখলে একটা পোস্টে একটা এলাকা নিয়েই লিখতে হবে।
-
(৩)
#প্রশ্নঃ গোবিন্দগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধের সময় কত নম্বর
সেক্টরের অধীনে ছিলো? গোবিন্দগঞ্জ কত তারিখে পাকা হানাদার মুক্ত হয়?
#উত্তরঃ গোবিন্দগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১ নাম্বার সেক্টরের অধীনে ছিলো এবং ১২ই ডিসেম্বর পাকা হানাদার মুক্ত হয়।
-
(৪)
#প্রশ্নঃ গোবিন্দগঞ্জের বিশেষত্ব্য কি? কেনো বিখ্যাত?
#উত্তরঃ দেশের বৃহত্তম চিনিকল এ থানার মহিমাগঞ্জে অবস্থিত। এবং এই থানায় রয়েছে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এছাড়াও শিক্ষা দীক্ষায়,ব্যবসা-
বানিজ্যে,যোগাযোগ ব্যবস্থায়, কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদনে এবং পোষাক বস্ত্র শিল্প তৈরীতে এ উপজেলা অনেকটাই অগ্রসর।
-
(৫)
#প্রশ্নঃ গোবিন্দগঞ্জকে পুরা দেশে পরিচিতি লাভ করাতে বিশিষ্ট কিছু ব্যক্তির নাম এবং তাদের কিছু অর্জন??
#উত্তরঃ
* শাহ্ আব্দুল হামিদ- স্বাধীন বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম স্পীকার।
*আনামত আলী প্রধান- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের হয়ে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।এছাড়াও ভাষা আন্দোলনে স্থানীয় পর্যায়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
-
(৬)
#প্রশ্নঃ গোবিন্দগঞ্জে কি কোন উপজাতি বাস করে?
#উত্তরঃ হ্যাঁ,,গোবিন্দগঞ্জে সাধারণত সাঁওতাল উপজাতি গোষ্ঠির দেখা পাওয়া যায়।
-
(৭)
#প্রশ্নঃ শস্য উৎপাদনে গোবিন্দগঞ্জ অর্থনিতীতে কেমন ভূমিকা পালন করে??
#উত্তরঃ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আয়তন ৪৬০৬২ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় ৩৫০০০ হেক্টর। নিত্যপ্রয়োজনীয় কম বেশী প্রায় সব শস্যই এখানে উৎপন্ন হয়। তাই বলা যায় শস্য উৎপাদনে গোবিন্দগঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
-
(৮)
#প্রশ্নঃ গোবিন্দগঞ্জ থানা সর্বপ্রথম কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কে প্রতিষ্ঠা করেন?
#উত্তরঃ ১৭৯৩ সালে ইংরেজ গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেষ্টিংস সর্বপ্রথম গোবিন্দগঞ্জ থানা প্রতিষ্ঠা করেন।
(৯)
#প্রশ্নঃ গোবিন্দগঞ্জ থানায় কতসালে পৌরসভা কত সালে গঠিত হয়??
#উত্তরঃ গোবিন্দগঞ্জ থানার মূল অংশ অর্থাৎ বন্দরের কিয়দংশ নিয়ে ১৯৯৮ সালে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয়।
-
(১০)
#দপ্রশ্নঃ গোবিন্দগঞ্জ থানা কত সাল থেকে উপজেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে? এবং এ উপজেলার মোট কতটি
ইউনিয়ন রয়েছে?
#উত্তরঃ প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলে(১৯৮৩-১৯৯১) সর্বপ্রথম উপজেলা পরিষদ কার্যকর হয়। কিন্তু ১৯৯১ সালের পর থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পুনরায় থানা পরিষদ চালু ছিলো। পরবর্তীতে ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে থানা প্রশাসন উপজেলা হিসেবেই পরিচিতি লাভ করে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় একটি পৌরসভা সহ ১৭টি ইউনিয়ন রয়েছে।
সংগৃহীত