15/08/2026
🌟 হজ্জযাত্রীর সংখ্যা হ্রাস : পলিসি নির্ধারণে বিচক্ষণতা প্রয়োজন 🌟
বিগত কয়েক বছরের একটি পরিসংখ্যান আপনাদের সামনে তুলে ধরছি :-
🟠 ২০২২ খ্রীঃ করোনা-পরবর্তী (সীমিত কোটার কারণে মাত্র) ৫৭,৫৮৫ জন হজ্জযাত্রী হজে গমণ করেন।
🟠 ২০২৩ খ্রীঃ মোট হজযাত্রী ছিল ১,২২,২২১ জন।
তখন প্রাক নিবন্ধন জন্য নির্ধাণ করা হয়ে ছিল ৩০,০০০ টাকা।
আর নিবন্ধনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০৫০০০ টাকা।
🟠 ২০২৪ খ্রীঃ মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ১,২৭,১৯৮ জন। প্রাক নিবন্ধনের জন্য নির্ধারণ করা হয়ে ছিল ৩০,০০০ টাকা।
নিবন্ধনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২,০৫,০০০ টাকা।
🟠 ২০২৫ খ্রীঃ মোট হজযাত্রী সংখ্যা ছিল ৮৭,১৫৭ জন। প্রাক নিবন্ধন ৩০,০০০ টিকা। আর নিবন্ধনের জন্য নির্ধরণ করা হয় ৩,৫০০০০ টাকা।
🟠 ২০২৬ খ্রীঃ মোট হজ্জযাত্রীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৮,০০০ জন।
প্রাক নিবন্ধন করা হয়েছিল ৩০,০০০ টাকা।
আর নিবন্ধনের জন্য ধার্য করা হয় ৩,৫০০০০ টাকা।
🌟 বিমান ভাড়া ও প্যাকেজ খরচ ২০২৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে কমেছে কিন্তু সেই হিসেবে হজযাত্রীর সংখ্যা বাড়েনি বরং কমেছে !
তাহলে খরচ বেশী হওয়ার কারণে হজ্জযাত্রী কমে যাওয়ার তত্ত্ব সঠিক নয়।
📍এবারের হজ গাইডলাইন Road maps অনুযায়ী
১. প্রাক নিবন্ধন ৩০,০০০ টাকা
২. নিবন্ধন ৩,৫০০০০ টাকা।
৩. নিবন্ধনের শেষ সময় ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রীঃ
৪. প্যাকেজের অবশিষ্ট টাকা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধনের(final registration) এর সময় ১০ ডিসেম্বর ২০২৬ খ্রীঃ
৫. প্রাথমিক নিবন্ধন ও চূড়ান্ত নিবন্ধনের টাকা (প্যাকেজের পুরো টাকা) দুই ধাপে অনলাইন ভাউচারের মাধ্যমে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে লীড এজেন্সীতে ট্রান্সফার করে দিতে হবে। টিকেটের টাকাও সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লীড এজেন্সীতে ট্রান্সফার করে দিতে হবে।
৬. উক্ত টাকা কেবলমাত্র অনলাইনে সংশ্লিষ্ট খাতে প্যামেন্ট করা যাবে। কোন টাকা উত্তোলন করা যাবে না। হজের পরে অবশিষ্ট টাকা যদি থাকে উত্তোলন করা যাবে।
আমি সকলকে সরকার ঘোষিত
"হজ্জ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ২০২৭" পড়ে দেখার অনুরোধ করছি।
🌸 ইতিহাসের সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে বর্তমান সরকার বিমান ভাড়া কমিয়েছেন।
🌸 সরকারের এই মহাছাড়ের ফসল পলিসিগত জটিলতার দরুণ ঘরে তোলা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। এসব জটিলতা নিরসনে হাব এর কোন কার্যকরী দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় পলিসি যদি সহজ করা না হয় তবে হজযাত্রী হ্রাস পাওয়ার আশংকা প্রবল। এজেন্সীগুলোর জন্যও কাজ করা অত্যন্ত কঠিন হবে। হয়তো হজ ব্যবসা দাদনী মহাজনদের হাতে চলে যাবে! সবকিছুকে সৌদি গাইডলাইন/টাইমলাইনের দোহাই দেয়ার প্রবণতা পরিহার করা কাম্য।
🌸 আমাদের প্রস্তাবনা
হজ টিকেটের টাকা আরো একমাস পরে নিলে কি অসুবিধা হবে? তা বোধগম্য নয়।
এ বিষয় গুলোতে আমরা হাব নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। হজযাত্রীদের হজযাত্রার পথ মসৃণ করুন, সহজ করুন। আল্লাহর রহমত আসবে।
এজেন্সীগুলোকে সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখার সুযোগ অবারিত করুন। হাত-পা বেধে দিলে তো আর সাতার কাটতে পারবে না। "দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন" নীতি অবলম্বন করুন। ২/১ টি এজেন্সীর অপকর্মের খড়গ হজযাত্রী ও সকল এজেন্সীর উপর চালিয়ে দেয়া ইনসাফ নয়।
মাননীয় ধর্মমন্ত্রী মহোদয় অত্যন্ত ধর্মভীরু এবং আন্তরিক। সমস্যাগুলো যৌক্তিক ভাবে তুলে ধরতে পারলে অবশ্যই সুন্দর সমাধান আসবে।
লিখক : জনাব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মোহাম্মাদ কুতুবুদ্দিন
পরিমার্যনায়: মুহাম্মাদ কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী।