09/01/2025
পাঁচ ফুট একটি মেয়ের সহস্রাধিক ফুট পাড়ি দেয়ার গল্প🌸
আমি খুব অস্থির প্রকৃতির একটা মেয়ে। একটানা বেশিক্ষণ ঘরের কোণে স্থির হয়ে বসে থাকতে পারি না। হুটহাট নদীর ধারের বাতাসে বসে থাকতে ইচ্ছে করে, ভরা জ্যোৎস্নায় রিকশায় করে পুরো শহরটা ঘুরে দেখতে ইচ্ছে করে, সকল পার্থিব চিন্তা ভুলে গিয়ে আকাশ দেখতে ইচ্ছে করে।
আমাদের সমাজে এখনো 'মেয়েদের' এই উড়ে বেড়ানো স্বভাবকে খুব একটা প্রশ্রয় দেওয়া হয় না। আমার ওড়ার গন্ডিটাও তাই ভীষণ সংকীর্ণ ছিল। আমি রাজশাহীর মেয়ে। আমার শহরে স্নিগ্ধতা আছে, অলকানন্দা শোভিত ছবির মতো সুন্দর রাস্তা আছে, আমার শহরে অন্যরকম শান্তি ছেয়ে আছে। কিন্তু সেখানে সাগর নেই, আকাশ ছোঁয়া পাহাড় নেই; পাহাড়ের কোল বেয়ে নেমে পড়া ঝর্ণার কলতান নেই। আমার কাছে তাই পাহাড়, ঝর্ণা এসব কিছুই অনেকটা রূপকথার মতো ছিল যার কথা বইয়ের পাতায় পড়েছি, হাতে থাকা দশ ইঞ্চির মুঠোফোনে যার ছবি দেখে মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে থেকেছি অথচ যাকে ছুঁয়ে দেখার সাধ্য হয়নি!
আমার কাছে তাই আমার প্রথম পাহাড় দেখার দিনটা ঠিক রূপকথার রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া একটি দিনের মতো। আমার প্রথম ছুঁয়ে দেখা পাহাড় চন্দ্রনাথ। চন্দ্রনাথের রাস্তা ভীষণ লম্বা। উঠতে গিয়ে বেশ কয়বার দম নেয়ার জন্য দাঁড়াতে হয়। কিন্তু এই মাঝপথে থমকে গিয়ে যতবার আশেপাশে তাকিয়েছি, চূড়ায় পৌঁছানোর ইচ্ছে আমার ততোখানি প্রবল হয়েছে। অবশেষে এগারো শ ফুট পাড়ি দিয়ে পৌঁছে গেছি চন্দ্রনাথের চূড়ায়। চারিদিকে সবুজ কাপড়ে মোড়া অসংখ্য পাহাড় আর একপাশে সমুদ্রের জলরাশি। এ দৃশ্য দেখে সকল ক্লান্তি অবসাদ কখন যে দূর যায় টের ও পাওয়া যায় না। পাহাড়ের সাথে সখ্যতা আমার সেদিন থেকেই।
চন্দ্রনাথ পাহাড়, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
অক্টোবর ২১, ২০২২