26/06/2019
কীভাবে চিনবো আমাদের রবকে?
___________
আপনাকে যে রব সৃষ্টি করেছেন যদি তাকে আপনি না জানেন না চিনেন তবে অবশ্যই আপনার জীবন বৃথা!আমরা আমাদের আমল আখলাক আল্লাহর রঙে রাঙাতে পারি,তাকে চিনার মাধ্যমে ঈমান মজবুত করতে পারি, সর্বোপরি সবদিকে মানষিক প্রশান্তি লাভ করতে পারি,কিন্তু আফসোসের ব্যপার হলো এই আমাদের মুসলিম উম্মাহ দুনিয়াবী এবং ইসলামিক অনেক বই পড়েছে কিন্তু আল্লাহকে তারা আজও পর্যন্ত চিনতে পারেনি,আল্লাহ সম্পর্ক জ্ঞান থাকা যেহেতু ফরজ তাই কিছু নসীহাঃ
আল্লাহর পরিচয় দু’ধরণের।
প্রথম প্রকার: তাঁকে স্বীকার করার জ্ঞান; এ প্রকারের পরিচয় লাভের ক্ষেত্রে ভালো-মন্দ, বাধ্য-অবাধ্য সকলেই সমান।
দ্বিতীয় প্রকার: তাঁর এমন পরিচয় লাভ যা তাঁর থেকে লজ্জাবোধ, তাঁর ভালোবাসা, তাঁর সাথে অন্তর সম্পৃক্ত থাকা, তাঁর সাথে মিলিত হতে অধীর আগ্রহে থাকা, তাঁকে ভয় করা, তাঁর দিকে বিনীতভাবে ফিরে যাওয়া, তাঁর প্রতি বিনয়ী হওয়া এবং সৃষ্টির কাছে কিছু চাওয়া থেকে বিরত থেকে তাঁর কাছেই চাওয়া ইত্যাদির জ্ঞান অত্যাবশ্যকীয় করে।
আল্লাহর এ ধরণের পরিচয় লাভ দু’টি প্রশস্ত অধ্যয়ে বিভক্ত।
প্রথম অধ্যয়: সামগ্রিকভাবে কুরআনের সব আয়াত নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিশেষভাবে চেনা ও জানা।
দ্বিতীয় অধ্যয়: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাক্ষ্য বহনকারী বিশেষ আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা, এর অন্তর্নিহিত আল্লাহর হিকমত, তাঁর কুদরত, সূক্ষ্মতা, ইহসান, ন্যায়পরায়ণতা এবং সৃষ্টির প্রতি তাঁর ন্যায় বিচার ইত্যাদি নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করা।
এসব কিছুর সারনির্যাস হলো আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ, তাঁর মহত্ব, পূর্ণতা, এসব গুণে তাঁর এককত্ব ইত্যাদি গভীরভাবে অনুধাবন করা। সৃষ্টির সাথে তাঁর সম্পর্ক ও তাদের প্রতি তাঁর আদেশ-নিষেধ গভীরভাবে বুঝা, এতে সে তাঁর আদেশ ও নিষেধসমূহ সম্পর্কে ফকীহ তথা গভীর জ্ঞানের অধিকারী হবে, তাঁর ফয়সালা ও কুদরত সম্পর্কে ফকীহ হবে, তাঁর নাম ও সিফাতসমূহ সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হবে, দীনি ও শর‘ঈ বিধান এবং বৈশ্বিক ও মানব রচিত বিধানের মধ্যকর পার্থক্য গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারবে। এ সব জ্ঞান লাভ করা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে এ অনুগ্রহ দান করেন। আল্লাহ মহান অনুগ্রহদাতা।
আল-কুরআনে মহান রব দু’টি উপায়ে তাঁকে চেনার জন্য বান্দাদেরকে আহ্বান করেছেন। সে পদ্ধতি দু’টি হলো:
প্রথমত: তাঁর সৃষ্টিকর্মের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া ও গভীরভাবে তাকানো।
দ্বিতীয়ত: তাঁর আয়াতসমূহে চিন্তা ও সেগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা; তন্মধ্যে প্রথম প্রকার হলো তাঁর দৃশ্যমান আয়াত বা নিদর্শন আর দ্বিতীয় প্রকার হলো বিবেকগ্রাহ্য শ্রবণযোগ্য আয়াত বা নিদর্শন।
প্রথম প্রকারের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “নিশ্চয় আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে, সে নৌকায় যা সমুদ্রে মানুষের জন্য কল্যাণকর বস্তু নিয়ে চলে (রয়েছে নিদর্শনসমূহ এমন জাতির জন্য, যারা বিবেকবান)।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৬৪] এ আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেছেন, “নিশ্চয় আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য বহু নিদর্শন।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯০] এ জাতীয় আয়াত আল-কুরআনে অনেক রয়েছে।
দ্বিতীয় প্রকারের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা- ভাবনা করে না?” [সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ২৪]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেছেন, “তারা কি এ বাণী সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে না?” [সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ৬৮]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেছেন, “আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি এক বরকতময় কিতাব, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে।” [সূরা সোয়াদ, আয়াত: ২৯] এ ধরণের অনেক আয়াত রয়েছে।
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেছেন, “বিশ্বজগতে ও তাদের নিজদের মধ্যে আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব যাতে তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয় যে, এটি (কুরআন) সত্য।” [সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৫৩] অর্থাৎ আল-কুরআন সত্য। এ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে তার দৃশ্যমান সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী দেখাবেন যাতে তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয় যে, তিলাওয়াতকৃত এ কুরআন সত্য।
তারপর তিনি তাঁর দেওয়া সাক্ষ্যকেই তার পক্ষ থেকে আগত সকল সংবাদের সত্যতার জন্য যথেষ্ট বলে ঘোষণা করেছেন, কারণ; তিনি তাঁর রাসূলগণের সত্যতার ওপর যাবতীয় দলীল-প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
অতএব, আল্লাহ তা‘আলার আয়াতসমূহ তাঁর সত্যতার প্রমাণ, আর আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং তাঁর রাসূলগণের আয়াতসমূহের সত্যতার ওপর প্রমাণ। তিনি নিজেই সাক্ষী ও সাক্ষ্য সাব্যস্তকৃত (সত্তা)। আর তিনি নিজেই প্রমাণ ও নিজের ওপর প্রমাণবহ। তিনি নিজেই নিজের জন্য দলীল। যেমন কোনো এক বিজ্ঞলোক বলেছেন, ‘কীভাবে আমি তাঁর (আল্লাহর) প্রমাণ তালাশ করবো যিনি নিজেই আমার কাছে সব কিছুর জন্য প্রমাণ? তাঁর ব্যাপারে যে দলীলই তালাশ করি, তাঁর অস্তিত্ব সে গুলোর চেয়ে অধিক স্পষ্ট।’
এ কারণেই রাসূলগণ তাদের জাতির কাছে বলেছিলেন,
﴿أَفِي ٱللَّهِ شَكّٞ﴾ [ابراهيم: ١٠]
“(তাদের রাসূলগণ বলেছিল), আল্লাহর ব্যাপারেও কি সন্দেহ?” [সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ১০]
তিনি তো সব জ্ঞাত বিষয়ের চেয়ে অধিক জ্ঞাত, সব দলিলের চেয়ে অধিক স্পষ্ট। প্রকৃতপক্ষে সব বস্তু তাঁর (আল্লাহর) দ্বারাই চেনা যায়।
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
লেখাঃ মোহাম্মদ আলি হামজা (আল্লাহ্ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)
(Y) শেয়ার করুন, বন্ধুদের সাথে ইন শা আল্লাহ