30/08/2025
হেডলাইন : মানিকগঞ্জ জেলা ভ্রমণ
তারিখ : ১৫ই জুন ২০২৫
মানিকগঞ্জ জেলার শিংগ্রাই ইউনিয়নের অন্তর্গত এক ছোট্ট, নিরিবিলি গ্রাম—জামীর্ত্তা। নামটি যেমন অনেকের কাছেই অচেনা, তেমনি এখানকার জীবনযাপনও শহুরে কোলাহল থেকে বহু দূরের, একেবারে সহজ, স্বচ্ছ ও নির্ভেজাল।
আমরা যারা বরিশাল অঞ্চলের সামাজিক রীতি, কথাবার্তা ও জীবনধারার সঙ্গে অভ্যস্ত, আমাদের চোখে জামীর্ত্তার মানুষের আচরণ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রথম দেখাতেই ভিন্ন মনে হয়েছে। তবে সেই ভিন্নতা কোনো দূরত্ব তৈরি করেনি; বরং তাদের আন্তরিকতা, সরলতা আর অতিথিপরায়ণতা অল্প সময়েই মন জয় করে নিয়েছে।
এখানকার প্রতিটি মানুষ যেন একেকটি খোলা হৃদয়ের গল্প—কথায়, আচরণে, আতিথেয়তায় যার স্পষ্ট প্রকাশ। গ্রামপথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়েছে সারি সারি পেপে বাগান, বড় বড় জাম গাছ ভর্তি রসালো কালচে জাম, ধানক্ষেতে বাতাসে দোল খাওয়া সবুজের ঢেউ, আর ফলভরা কাঠাল গাছ। প্রকৃতির এমন উজাড় করা দান যে কাউকে মুহূর্তেই মুগ্ধ করে তুলবে।
গ্রামের সকাল শুরু হয় পাখির ডাক আর কুয়াশা ভেজা বাতাসে। দুপুরে রোদের সঙ্গে মিশে থাকে মাঠের গন্ধ, আর সন্ধ্যায় নেমে আসে এক অদ্ভুত প্রশান্তি—যেখানে শহরের কোনো তাড়া নেই, নেই কৃত্রিম ব্যস্ততা। রাত হলে আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অসংখ্য তারা। বিদ্যুতের ঝলকানি নেই, নীয়ন আলো নেই—আছে শুধু নীরব আকাশ আর শান্ত গ্রামের ঘুমপাড়ানি আবহ। সেই নীরবতার ভেতর বসে থাকলেও মনে হয়, অনেক কথা বলা হয়ে যাচ্ছে—কথা নয়, অনুভব।
তিন দিন কেটে গেছে খুব সাধারণভাবে। কোনো বড় আয়োজন নয়, কোনো পরিকল্পিত ভ্রমণও নয়। গাড়িতে করে যাওয়া, পথে থেমে থেমে দেখা, গ্রামের ভেতর হেঁটে বেড়ানো, মানুষের সঙ্গে গল্প—এই ছিল পুরো অভিজ্ঞতা। কিন্তু এই সাধারণতাই ছিল সবচেয়ে বড় পাওয়া। এখানে সময় যেন ধীরে চলে, মানুষ যেন নিজের মতো করে বাঁচে।
জামীর্ত্তা আমাকে নতুন কিছু শেখায়নি, বরং মনে করিয়ে দিয়েছে—শান্তি এখনো আছে, সরলতা এখনো বেঁচে আছে। শহরের বাইরে, নাম না জানা কোনো গ্রামের ভেতরেও জীবনের সৌন্দর্য ঠিকই ধরা দেয়, যদি দেখার চোখটা খোলা থাকে। এই ভ্রমণ বড় গল্প নয়, রোমাঞ্চকর ঘটনাও নয়—তবু মনে থেকে যাবে। ঠিক গ্রামের সন্ধ্যার মতো—নিঃশব্দ, ধীর, কিন্তু গভীর।
উদ্দেশ্য : District Tour
ভেন্যু : নয়া জামির্ত্তা মানিকগঞ্জ
সময় : ১৫ই জুন ২০২৫ ইংরেজি
> ৬৪ জেলা ভ্রমণের অংশবিশেষ।
> Out Of Network