01/08/2026
এসেছি চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে, জাতীয় হজ্জ-ওমরাহ ফেয়ার ২০২৬ পরিদর্শন করতে।
শুরুতেই একটি বিষয় মনে এলো। হজ্জ-ওমরাহর মতো একটি ইবাদতের সঙ্গে "ফেয়ার" বা "মেলা" শব্দের ব্যবহার আমার কাছে কিছুটা বেমানান লাগে। তবে অন্য দিক থেকে দেখলে, আজ হজ্জ-ওমরাহ যেভাবে একটি বড় বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হয়েছে, সে বাস্তবতায় "মেলা" শব্দটিই হয়তো সবচেয়ে অকপট অভিধা। বরং বাস্তবতা আড়াল করে ভিন্ন আবরণ দেওয়ার কোনো অর্থ নেই। (আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ইখলাসের সঙ্গে দ্বীনের খেদমত করার তাওফীক দান করুন।)
বাইরে বড় বড় এজেন্সির ব্যানার। প্রায় প্রতিটি ব্যানারেই একজন না একজন পরিচিত বক্তা বা সেলিব্রেটির ছবি। খুঁজলে হয়তো দেখা যাবে, একই ব্যক্তির ছবি একাধিক এজেন্সিও ব্যবহার করছে।
এতে সাধারণ মানুষের মনে এমন ধারণা জন্মাতে পারে যে, তিনিই বুঝি পুরো কাফেলার তত্ত্বাবধানে থাকবেন। অথচ বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর ছবি ব্যবহৃত হয় মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য। হাজীরা বুকিং দিয়ে ফেলেন, কিন্তু পরে হোটেল, খাবার, পরিবহন বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমস্যায় পড়লে সেই পরিচিত মুখটিকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি হয়তো তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচিতে ব্যস্ত, কিংবা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যবস্থাপনায় অবস্থান করছেন।
এখানে এজেন্সির যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি যাঁদের নাম ও ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে, তাঁদেরও একটি নৈতিক দায়িত্ব আছে—মানুষ যেন তাঁদের উপস্থিতি বা সম্পৃক্ততা সম্পর্কে বিভ্রান্ত না হন।
তাই হজ্জ-ওমরাহর সফরে শুধু পরিচিত মুখ দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। বুকিং দেওয়ার আগে এমন ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা শুনুন, যারা পূর্বে সেই এজেন্সির সঙ্গে সফর করেছেন এবং যাদের সঙ্গে এজেন্সির কোনো স্বার্থের সম্পর্ক নেই।
সাশ্রয়ী খরচ, ভালো খাবার বা কাছের হোটেলের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিন:
- অভিজ্ঞ ও আমলদার মুআল্লিম,
- ইবাদতমুখী পরিবেশ,
- ভিসা, টিকিট, হোটেল ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা,
- এবং সংকট মোকাবিলার বাস্তব অভিজ্ঞতাকে।
নয়তো হজ্জের সফর ইবাদতের পরিবর্তে নিছক একটি ট্যুরে পরিণত হতে পারে। কখনো আবার পুরো সময়টাই কাটতে পারে অভিযোগ, মনোমালিন্য, গীবত ও অপ্রয়োজনীয় ঝামেলায়।
হজ্জের সফরের প্রসঙ্গ যখন এল, তখন আমার মুহতারাম শ্বশুর মাওলানা বাহাউদ্দীন হাফিযাহুল্লাহ-এর একটি বৈশিষ্ট্যের কথা না বললেই নয়।
আলহামদুলিল্লাহ, তিনি প্রায় আড়াই-তিন দশক ধরে নিয়মিত বাইতুল্লাহর সফর করছেন। ঠিক কতবার গিয়েছেন, সে হিসাব তিনি নিজেও রাখেন না, রাখতেও আগ্রহী নন।
কিন্তু এত দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কখনো কোনো ট্রাভেল এজেন্সিকে নিজের নাম ব্যবহার করে মানুষ আকৃষ্ট করতে দিতে দেখিনি।
কেউ তাঁর সূত্রে কোনো কাফেলায় যুক্ত হতে চাইলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন—
"ভাই, আমি শুধু আমল-সংক্রান্ত বিষয়ে হাজীদের সহযোগিতা করি। ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আমার কোনো দায়িত্ব নেই। সে বিষয়ে আপনি নিজে সন্তুষ্ট হয়েই যুক্ত হবেন।"
এমন স্বচ্ছ বক্তব্য আজকাল খুব কমই শোনা যায়। এতে কোনো কোনো ট্রাভেল এজেন্সি অসন্তুষ্টও হয়, কিন্তু তাঁর অবস্থান বদলায় না। কারণ তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে আবদ্ধ নন।
চাইলেই তিনি নিজের পরিচিতিকে কেন্দ্র করে একটি বড় ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন। কিন্তু আজও তিনি সাধারণ জীবনই বেছে নিয়েছেন। এখনও ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
তো বলছিলাম, আপনার অনুসন্ধানের তালিকায় খাদেমুল হুজ্জাজ-কেও রাখতে পারেন। নামের মতোই হাজীদের খেদমত করাই আমাদের অঙ্গীকার।
আমাদের প্রধান মুআল্লিম মাওলানা মাসরূরুল হক হাফিযাহুল্লাহ, খিররিজ—মাদরাসাতুল মাদীনাহ ও মারকাযুদ দাওয়াহ।
আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের আগামী অক্টোবর ২০২৬-এর ওমরাহ কাফেলায় মাওলানা বাহাউদ্দীন হাফিযাহুল্লাহ-ও যুক্ত থাকবেন।
এ ছাড়া ২০২৭ সালের হজ্জ কাফেলায়ও আগ্রহীরা যুক্ত হতে পারেন।
আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সব খেদমতকে ইখলাসের সঙ্গে কবুল করেন এবং তাঁর মেহমানদের যথাযথভাবে খেদমত করার তাওফীক দান করেন। আমীন।
— (মুফতি) Huzaifah Quasim
চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র
১৭|০৩|৪৮
১|০৮|২৬