08/08/2026
https://www.facebook.com/share/p/197CXda9hL/?mibextid=wwXIfr
বাংলাদেশ ফ্লাই একাডেমি: আমাদের গৌরবের প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে
আমাদের দেশের এভিয়েশন খাতের অন্যতম সূতিকাগার—'বাংলাদেশ ফ্লাই একাডেমি'।
একসময় এই একাডেমির একটি বিশাল ও সুসংগঠিত প্রশাসনিক অবকাঠামো ছিল, যেখানে প্রেসিডেন্ট, জেনারেল সেক্রেটারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে যোগ্য ব্যক্তিবর্গ নির্বাচিত হতেন। সময়ের পালাবদলে আজ সেখানে মাত্র একজন ‘অ্যাকাউন্টেবল ম্যানেজার’ দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এখানে টিকে থাকা কিছু উদীয়মান পাইলটের ভবিষ্যৎ আজ অন্ধকার। এমনও স্টুডেন্ট আছে যারা ২০২০ সালে ভর্তি হয়ে ছয় বছরে মাত্র Solo পেয়েছে। কে নেবে এর দায়ভার? ওদেরতো কোন অপরাধ নাই। ওরা এসেছিল একটি স্বনামধন্য ফ্লাই একাডেমিতে ভর্তি হয়ে জীবনকে গড়তে।
গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে একাডেমি কর্তৃপক্ষ সিভিল এভিয়েশন অথরিটিকে জানিয়েছে যে তাদের ফান্ড নাই এবং তারা এটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে চায়। কিন্তু একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান এভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বছরের পর বছর ধরে টেকনিকেল এবং সাধারণ স্টাফরা অর্ধেক বেতনে, বিনা বেতনে চাকরি করে আসছেন। তাদের সবার আশা ছিল এক দিনে এই একাডেমি মাথা উঠিয়ে দাঁড়াতে পারবে । নিউ অনুযায়ী যে কোন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হলে তাদের কর্মচারীদের সম্পূর্ণ বেতন দিয়ে আরও দুই মাসের বেতন দিতে হবে বন্ধ হওয়ার তারিখ থেকে। লেবার ল তে তাই বলা আছে কিন্তু এখানে হয়েছে তার উল্টা।
কেন এই পরিস্থিতি?
১)প্রশাসনিক নজরদারি: প্রতিষ্ঠানটি কেন বন্ধ হলো, তা খতিয়ে দেখতে সরকারি উচ্চপর্যায় থেকে একজন প্রশাসক নিয়োগ করা উচিত ছিল। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে একজন প্রশাসক পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে একটি কার্যকর প্রতিবেদন দিতে পারতেন।
যান্ত্রিক জটিলতা: বর্তমানে একাডেমির একমাত্র সেসনা (Cessna) বিমানটির প্রপেলারের আওয়ার শেষ হয়ে গেছে। নতুন প্রোপেলার আনা হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে তা এখনো সংযোজন করা সম্ভব হয়নি।
২)স্বল্প বিনিয়োগের অভাব: নতুন দুটি সেসনা বিমান আনতে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার বেশি খরচ হয় না। সরকার যেখানে বড় বড় উন্নয়নমূলক কাজ করছে, সেখানে মাত্র ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেই এই একাডেমিকে পুনরায় সচল করা সম্ভব।
৩)উত্তরণের কিছু প্রস্তাবনা:
একাডেমির একজন লাইফ মেম্বার হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে কর্তৃপক্ষকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এছাড়া এর বর্তমান গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে আরও সহজ ও আধুনিক উপায়ে একজন ‘সিইও’ (CEO)-এর মাধ্যমে এটি পরিচালনা করা যেতে পারে। বিদেশে তো স্বামী-স্ত্রী মিলে সফলভাবে ফ্লাই একাডেমি পরিচালনার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে।
৪)আমাদের দাবি ও ভবিষ্যৎ করণীয়:
এই একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শত শত পাইলট আজ দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে চাকরি করছেন। আমি চাই, সরকারি সহায়তায় একাডেমিটি আবারও সচল হোক।
যদি সরকার সরাসরি সহায়তা করতে অপারগ হয় তবে উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করে দেয়া হোক যাতে অন্তত প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বেঁচে যায় এবং আমাদের স্মৃতিবিজড়িত এই একাডেমি তার পুরনো গৌরব ফিরে পায়।
আসুন, এভিয়েশনপ্রেমী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মিলে আমাদের এই প্রিয় প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচিয়ে রাখতে সোচ্চার হই।
সব লাইফ মেম্বাররা বসে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
ভারত নতুন করে ১১ ফ্লাইং স্কুল করছে । তাদের বর্তমানে ৪১ আছে । আর আমরা বন্ধ করছি।