21/08/2025
📌 উমরাহ করতে গিয়ে এয়ারপোর্টে কী করবেন?
এয়ারপোর্ট অনেকের কাছে আতঙ্কের নাম। সারাক্ষণ অনিশ্চয়তা থাকে— কী হয় না হয়। যারা নিয়মিত ভ্রমণ করেন, তাদের ব্যাপারটা আলাদা।
উমরাহ করার সময় অনেকেই প্রথমবারের মতো এয়ারপোর্টে প্রবেশ করেন। কী করতে হবে না হবে বুঝতে পারেন না।
এই লেখাটি আশা করি সাহায্য করবে।
✅ ১. গাড়ি থেকে নেমে বিদায় নিয়ে প্রথমেই একটা স্ক্যানিং হয়। এক্ষেত্রে স্মার্টলি একটা কাজ করা যায়। প্রথমবার উমরাহ করার সময় আমরা এই ভুলটি করায় আমাদের মানিব্যাগ হারিয়ে যায় (পরে অবশ্য নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে ফিরে পাই)।
সাথে নিশ্চয়ই একাধিকজন থাকবেন যারা উমরাহতে যাচ্ছেন। স্ক্যানিংয়ে একা না গিয়ে অন্তত ২ জন একসাথে গেলে ভালো হয়।
প্রথমজন হাতে শুধু পাসপোর্টের ব্যাগ নিয়ে যাবেন। গিয়ে অপেক্ষা করবেন। দ্বিতীয় জন প্রথমজনের স্ক্যানিং শেষে ২ জনের লাগেজ স্ক্যানিংয়ে পাঠাবেন। ঐদিকে প্রথমজন একসাথে লাগজে স্ক্যানিং শেষে রিসিভ করবেন।
এটা না করলে দেখা যেতে পারে আপনি স্ক্যানিংয়ে থাকাবস্থায় আপনার লাগেজ স্ক্যানিং শেষে চলে যাবে। ঐখান থেকে কেউ ভুলবশত বা ইচ্ছে করে আপনার লাগেজ নিয়ে যেতে পারে।
আমরা এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলাম।
আর আগে থেকে অবশ্যই এয়ার লাইন্সের লাগেজ সংক্রান্ত নির্দেশনা অর্থাৎ কয়টা নেয়া যাবে, সাইজ কেমন হবে এবং সর্বোচ্চ কত কেজি হবে তা জেনে নিবেন।
✅ ২. স্ক্রিনে লেখা ওঠবে আপনাদের চেক-ইন শুরু হয়েছে কি-না। এজেন্সির সাথে গেলে সবাই মিলে চেক-ইনে যেতে পারেন। একা গেলে কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।
একটা রুল অব থাম্ব মনে রাখতে পারেন— আপনার যেকোনো কিছু নিয়ে কনফিউশান থাকলে অবশ্যই আশেপাশের কাউকে জিজ্ঞেস করবেন। পবিত্র কুরআনেও এই ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
✅ ৩. সবাই বাসে, ট্রেনে গেলে জানালার পাশে যেমন বসতে চায়, প্লেনের ক্ষেত্রেও। কিন্তু, অনেকেই জানে না প্লেনের ক্ষেত্রে কীভাবে বসা যায়।
যখন চেক-ইনের সময় আপনার পাসপোর্ট দিবেন, তখন অফিসারকে রিকুয়েস্ট করতে পারেন- May I have window seat please? আমাকে কি জানালার পাশের সিট দেয়া যায়, প্লিজ?
এ পর্যন্ত আমি যতবার বলেছি, প্রত্যেকবারই পেয়েছি।
✅ ৪. চেক-ইনের সময় আপনার লাগেজ দিতে হয়, লাগেজের ওজন করা হয়। যাবার সময় সাধারণত তেমন ভারি থাকে না। এই সময় বোডিং পাস এবং টিকিটের সাথে লাগেজের যে স্টিকার দেয়া হয়, এটা গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর ছবি তুলে রাখতে পারেন।
✅ ৪. এরপর ইমিগ্রেশন। উমরাহ যাত্রীকে ইমিগ্রেশনে তেমন প্রশ্ন করে না। এজেন্সির ক্ষেত্রে মুয়াল্লিম সাথে থাকতে হয়, কাগজপত্র দেখাতে হয়। আর যাত্রীকে প্রশ্ন করলে সাধারণত ৩টি প্রশ্ন:
👉 কী করেন?
👉 ঐখানে ফ্যামিলির কেউ থাকে?
👉 রিটার্ন ফ্লাইট কবে?
যারা সরকারি চাকরি করেন এবং ফাইনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানে (বিকাশ/ব্যাংক) জব করেন, তাদের NOC লাগে। অন্যান্য জব হোল্ডারদের সাধারণত লাগে না, তবুও সাথে রাখতে পারেন।
✅ ৫. ইইমিগ্রেশন শেষ মানে এই ফ্লাইটে আপনি যাচ্ছেন সেটা নিশ্চিত। বাকি সময়টা ওয়াক্তের নামাজ পড়ে ফেলতে পারেন, ইহরাম না পরে গেলে ইহরাম পরে ফেলতে পারেন। হাতে সময় থাকলে এয়ারপোর্টের ভেতরটা ভালোভাবে ঘুরে দেখতে পারেন।
✅ ৬. বিমানে ওয়াশরুম যেন ব্যবহার করতে না হয় সেজন্য পানি খাবার ব্যাপারে সচেতন থাকতে পারেন। বিমানের ওয়াশরুম ধরে নিতে পারেন ইমার্জেন্সি কেইস। এজন্য ইমিগ্রেশন শেষে ওয়াশরুমে যেতে পারেন।
✅ ৭. টিকেটের মধ্যে গেইট নাম্বার লেখা থাকে। সেই অনুযায়ী সময়ের আগে গেইটে যেতে পারেন। ঐখানে গেলে ফাইনাল চেক-ইন হয়। পরনের বেল্ট, জুতা, মোবাইল, ব্যাগ সব দিতে হয়। পাসপোর্ট আর বোর্ডিং পাস শুধু হাতে রাখতে পারেন।
✅ ৮. এয়ারপোর্টে আসার আগে কয়েকটা চুইংগাম কিনতে পারেন প্লেন উড্ডয়ন আর অবতরণের সময় চিবানোর জন্য ৷ কিংবা দুই কানে হাত দিয়ে চেপে ধরতে পারেন। নতুবা শব্দের কারণে কান বন্ধ হয়ে যেতে পারে কিছুক্ষণের জন্য।
✅ ৯. প্লেনে ওঠার সময় কেবিন ক্রু আপনার সিট দেখিয়ে দিবে। আস্তে আস্তে হ্যান্ড লাগেজ উপরে রেখে নিজের সিটে বসতে পারেন। তার আগে প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন: মোবাইল, পাওয়ার ব্যাংক, এয়ারপড, চিপস, বিস্কিট এগুলো হাতের কাছে রাখতে পারেন।
✅ ১০. ফ্লাইটের সাধারণত ২ ঘণ্টা পর খাবার দেয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিরিয়ানি। কোনো কোনো এয়ারলাইন্সে ঘণ্টা, দেড়ঘণ্টা পর স্টার্টার হিসেবে জুস, স্যান্ডউইচ দেয়া হয়। মিলের ক্ষেত্রে চিকেন বা বিফ থাকে। আপনি আপনার পছন্দমতো খেতে পারেন। খাবারের ঘণ্টাখানেকের মধ্যে চা-কফি দেয়া হয়৷
আমি আগে ভাবতাম, বিমানে কীভাবে খাওয়া যায়! কিন্তু, না। ঝাঁকুনি কমে যাবার পর, বিমান অনেক উঁচুতে থাকাবস্থায় খাবার দেয়া হয়। সহজেই খাওয়া যায়।
🎯 যারা প্রথমবার উমরাহ করবেন তাদের কাজে আসবে পোস্টটি। আপনি চাইলে Share করতে পারেন।
©আরিফুল ইসলাম