17/03/2024
"বোধ"
মেট্রো রেল আমাদের শহুরে জীবনযাত্রাকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে। যে কোন দেশের নাগরিক বিবর্তন নতুন কোন সংযোজনের মাধ্যমেই ঘটে থাকে, প্রাচীন থেকে আধুনিক সভ্যতাই তার বড় প্রমাণ।
গতদিন তেমনি দুটি ঘটনা মাত্র ২০ মিনিটের পরিভ্রমণে আমার "বোধ" নামক বিবেক কে নাড়া দিলো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ, এখানকার টি এস সি স্টেশন থেকে এক ঝাক তরুন তরুণী উত্তরামূখী রেলটিতে উঠে পড়লো, তখনো বেশ কিছু সিট ফাকা ছিলো, ভরে গেল একে একে । পরের স্টেশন শাহবাগ থেকে কিছু যাত্রীর সাথে দু'জন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যাক্তি উঠলেন, হয়তো হসপিটালে এসেছিলেন, হাতে বড় কিছু রিপোর্টের ফাইল দেখে অনুমান করাগেল। বসার কোন সিট ফাকা না থাকায় একটি তরুণ ছেলে নিজের সিট টিতে একজন কে বসতে দিলেন, আমি ছিলাম খানিকটা দূরে; তথাপি ভীড় ঠেলে অন্যজন কে আমার সিটে বসালাম। তরুন ছেলেটির পাশে যখন দাড়ালাম বুঝতে পারলাম তার বা পায়ে সমস্যা, দাড়িয়ে ব্যালেন্স করতে কষ্ট হচ্ছে, তবুও হাসি মুখে কি সুন্দর ব্যালেন্স করেছে একজন বয়োজ্যেষ্ঠের পথ চলা। বগি টিতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যাক্তিদের চিন্হখচিত কয়েকটি সিট ছিলো বটে, সেখানে নির্বোধ কিছু মানুষ অনুভূতিহীন সংলাপে মশগুল ছিলো তখনো।
ওদিকে ফার্মগেইট থেকে দুটো বাচ্চা ছেলের আবদারে বাবা মা উঠেছেন এই বগিতেই, দূপুর হওয়া সত্বেও এতো ভীর যে তাদেরও বসার ঠায় হয় নি। জানালার পাশে এক ব্যাক্তি লম্বা ব্যাবসয়িক আলাপ জুড়ে দিয়েছেন মুঠো ফোনে, যেন এটি তার ব্যক্তিগত চেম্বার, কয়েক ট্রাক মাল কেনা বেচা শেষ হলে বাচ্চাটির বাবা অনুনয়ের সুরে তাকে বল্লেন, একটু যায়গা করে দিবেন, অনেক আবদারের পর আজ ওরা প্রথম উঠেছে মেট্রো রেলে, অনেক উঁকিঝুঁকি দিয়েও কিছু দেখতে পাচ্ছে না, জবাবে তিনি যা বললেন তা আর এখানে লিখতে ইচ্ছে করছে না, কারন আমার নিজের দুটো ছেলে মেয়েও বায়না ধরে আছে এরকম, মনটা ভীষন ভারী হয়ে গেলো।
রাস্ট্র হয়তো আমাদের দ্রুত যান দিয়ে শুধুই সময়ের সাশ্রয় করাতে পারবে, তবে সময়ের সাথে মানসিকতার পরিবর্তনটুকু আমাদের নিজেদেরই করে নিতে হবে। নয় কি?
[ছবিটি আমার মুঠোফোনে ধারনকৃত]
©️Md Moniruzzaman
BANGLADESH METRO RAILWAY INFORMATION(বাংলাদেশ মেট্রোরেলের তথ্য)