03/02/2016
# #ফেসবুকে ’ থাকছে না আর আগের মতন # #
“ভুমিকম্প হচ্ছে”। দিলাম ‘LIKE’! বন্ধুর আত্মীয় মারা গিয়েছে। দিলাম ‘LIKE’! ফেসবুকে ‘LIKE’ নিয়ে এরকম বিব্রত পরিস্থিতিতে প্রায়ই আমাদের পড়তে হয়। আজকাল গুরুত্বপূর্ণ পোস্টের শেষে অনেকে লিখেই দেয় “লাইক দিয়ে বিব্রত করবেন না”।
বেশ কিছুদিন ধরে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা দাবি জানাচ্ছে “ডিজলাইক” বাটন চালু করার জন্য। কিন্তু ডিজলাইক বাটন চালু করলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। বন্ধুর প্রিয় কেউ মারা যাওয়ার পোস্টে যেমন ‘LIKE’ মানানসই নয়, তেমনি ডিজলাইকও না। ফেসবুক তাই ‘LIKE’ অপশনে আনছে নতুনত্ব।
এই নতুন পদক্ষেপের নাম দেওয়া হয়েছে “ফেসবুক রিঅ্যাকশন”। এর মধ্যেই কার্যক্রম শুরু হয়ে গিয়েছে চিলি, আয়ারল্যান্ড, জাপান, ফিলিপাইন, পর্তুগাল এবং স্পেনের মত দেশগুলিতে। সম্প্রতি ফেসবুকের চিফ প্রডাক্ট অফিসার জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নতুন মোড়কে ‘LIKE’ দেখতে পাবেন।
চার অক্ষরের নাম ‘LIKE’
‘Bloomberg Business’ আর্টিকেলে বলা হয়েছে, বিশ্বে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সংখ্যা ১.৬ বিলিয়ন। এরা প্রতিদিন প্রায় ৬ বিলিয়নের মত পোস্টে ‘LIKE’ দেন। এই ‘LIKE’ দেবার সংখ্যা গুগলে কোন পোস্ট “Search” করার চাইতেও বেশী। বাস্তবে প্রতিদিন পৃথিবীর ৮০ শতাংশ মানুষও একে অপরকে “LIKE’ করে কিনা সন্দেহ! Bloomberg আর্টিকেলটি প্রকাশ করেছেন ক্রিস কক্স। ফেসবুক টিমের সঙ্গে ২০০৫ সালে অংশগ্রহণ করা ক্রিস কক্স এখন কোম্পানির “বিগ ব্লু অ্যাপ” এর প্রধান।
বললে ভুল হবে না, এই “LIKE’ বাটনটাই হয়ে উঠেছে ফেসবুকের একটি অপরিহার্য অঙ্গ। এর পাশাপাশি ফেসবুক প্রতিনিয়ত জোরদার রিসার্চ চালায় আরেকটি বিষয়ের উপর। সেটি হল ‘Public’ করে রাখা সমস্ত পোস্ট বিশ্বের সব ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিউজফিডে কীভাবে পৌছে দেয়া যায়!
এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন আপনাদের প্রিয় “LIKE” আসলে ফেসবুকের কাছেও কতটা প্রিয়! তবে অনেক সময় খুব সিরিয়াস পোস্টগুলোতে আপনাদের নিশ্চয় “LIKE” দিতে অস্বস্তি হয়! ওগুলো ঠিক “ডিজলাইক” এর জিনিসও না! হয়ত ঐসময় অনুভূতি হয় বিস্ময়, দ্বিধা বা স্মিত হাস্যের। যথাস্থানে যথোপযুক্ত “আবেগ” প্রকাশের জন্য ফেসবুক তাই তাদের প্রিয় “LIKE” কে আনছে নতুনভাবে!
“ইমো”রা প্রকাশ করবে ‘LIKE’ এর ধরন
এতদিন ধরে অনেকেই ‘Dislike” বাটনের কথা বলে এসেছেন। ফল স্বরূপ আসছে পরিবর্তন। তবে স্ক্রিন আগের মতই থাকবে। যখন কোন পোস্টের “LIKE” বাটনে ক্লিক করতে যাবেন, তখনই পপ-আপ হিসেবে চলে আসবে ফেসবুকের জনপ্রিয় কিছু ইমোরা।
ইমো হিসেবে প্রাথমিক ভাবে রাগ, দুঃখ, ওয়াও, হাহা, ইয়াহ এবং ভালোবাসার ইমোটিকনদের বাছাই করা হয়েছে।
আগে কি দেখা হত! কোন পোস্টে কতটা “LIKE”! তাই তো? ফেসবুকের “ইমো”দের জয়জয়কারে এখন দেখা যাবে কোন পোস্টে কতগুলা “রাগ”, “দুঃখ” কিংবা “ওয়াও” পড়ল!
তবে ‘ইয়াহ’কে বাদ দেওয়ার কথাই বলেছেন একজন ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। Bloomberg আর্টিকেল তিনি বলেছেন “ইয়াহ” সর্বজনবিদিত কোন “ইমো” নয়!
‘ফেসবুক রিঅ্যাকশন’ নিয়ে যত রিঅ্যাকশন
আচ্ছা, ফেসবুকের ব্যবহারকারীদের কী মত এই পরিবর্তনে? কিংবা ফেসবুকের বিজ্ঞাপন দাতাদের?
ফেসবুকের বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে কি ‘LIKE” আসলেই খুব বেশী প্রয়োজন? হ্যাঁ, প্রয়োজন সেই অর্থে যখন একজনের ‘LIKE” দেবার ফলে বিজ্ঞাপনের ঐ পোস্ট তার সব বন্ধুদের নিউজফিডে চলে যাবে! সেই ক্ষেত্রে ‘LIKE’ বাটনের তো গুরুত্ব নেই! কারণ এই “ইমো” সমূহ দিয়ে নিজেদের “ইমোশন” ব্যক্ত করলেও, পোস্টটি চলে যাবে অন্যান্য বন্ধুদের নিউজফিডে।
বেশি বেশি ব্যবহারকারীদের নিউজফিডে যাওয়া কিংবা পোস্ট কতবার বুস্ট হল এর উপরেই নির্ভর করে ফেসবুক বিজ্ঞাপনের সফলতা। বরং এই “ইমো” অপশন এলে খুব সহজেই বোঝা যাবে কোন প্রডাক্টের উপর মানুষের আস্থা আসলে কি রকম? ব্যবহারকারী কি আসলেই নিশ্চিত প্রডাক্টটি নিয়ে নাকি দ্বিধা-দ্বন্দ্বিত?
তবে যেসব দেশে এই “ফেসবুক রিঅ্যাকশন” কার্যক্রম শুরু হয়েছে তাদের প্রতিক্রিয়া ভীষণ ইতিবাচক।
ডাবলিন শহরের ম্যারি বোরান নামক একজন লেখক তার “I tried Facebook's 'Like' replacement and it stressed me out” নামক লেখায় বলেছেন “ইমোশন কোন পাবলিক কন্টেন্টে প্রকাশ করা খুব সহজ। এক্ষেত্রে ফেসবুক “ইমো”রা ভীষণ কাজে দিবে। কিন্তু ইস্যু যদি হয় পার্সোনাল, তখন “ইমো” ব্যবহার করার ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে তালগোল পাকিয়ে যায়”। উদাহরণ স্বরূপ, তিনি একটি গল্প বলেছেন। তার এক বন্ধুর গার্লফ্রেন্ড চলে গিয়েছিল। বন্ধুটি তা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। লেখক বুঝতে পারছিলেন না আসলে কোন “ইমো”টা সেক্ষেত্রে উপযুক্ত ছিল! “দুঃখ” এর ইমো দিলে সে ভাবত তাকে করুণা করা হচ্ছে! “রাগ” এর ইমো দিলে আরও বেশি জল ঘোলা হত! আর যদি ওয়াও বলা হত তাহলে সে বুঝত তাকে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। অবশেষে “কয়েকদিন পর সব ঠিক হয়ে যাবে, ডুড” এই কমেন্ট লিখে সে যাত্রায় বেঁচে গিয়েছিলেন লেখক!
তাই সময়ই বলে দিবে, কতটুকু সফল “ফেসবুক রিঅ্যাকশন” এর নতুন “LIKE” !