14/08/2026
শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয়—ইসলাম চায় জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সক্ষমতা
একজন ইসলামবিদ্বেষী প্রতিপক্ষ কাকে বেশি সমীহ করবে—যে শুধু কিছু কথা মুখস্থ বলতে পারে, নাকি এমন একজন মুসলিমকে, যে কুরআন-সুন্নাহ বোঝার পাশাপাশি জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তিতেও দক্ষ?
ইসলাম কখনো অজ্ঞতাকে আদর্শ বানায়নি। কুরআনের প্রথম ওহির নির্দেশই—“পড়ো” (সূরা আল-আলাক, ৯৬:১)। আল্লাহ বলেন, “যারা জানে আর যারা জানে না—তারা কি সমান?” (সূরা আয-যুমার, ৩৯:৯)। আবার কুরআন শিক্ষা দেয়, সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও সক্ষমতা প্রস্তুত রাখতে (সূরা আল-আনফাল, ৮:৬০)।
তাই কুরআন-হাদিস মুখস্থ করা অবশ্যই মূল্যবান—কিন্তু মুখস্থ করাই জ্ঞানের শেষ কথা নয়। প্রয়োজন বোঝা, চিন্তা করা, প্রজ্ঞা অর্জন করা এবং সেই জ্ঞানকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো।
আজকের পৃথিবীতে একজন মুসলিমের প্রয়োজন দ্বীনি জ্ঞানের পাশাপাশি গণিত, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, প্রকৌশল, অর্থনীতি, ইতিহাস, কূটনীতি, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিসহ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করা। কারণ শুধু আবেগ দিয়ে কোনো জাতি শক্তিশালী হয় না; শক্তিশালী হতে লাগে ঈমান + জ্ঞান + চরিত্র + প্রজ্ঞা + দক্ষতা + প্রস্তুতি।
কোনো সশস্ত্র ও নির্মম প্রতিপক্ষের সামনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কৌশল বাদ দিয়ে শুধু মুখস্থ হাদিস উচ্চারণ করাকে ইসলামি বীরত্ব বলা ঠিক নয়। ইসলাম জীবনকে অকারণে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে বলে না—কুরআনে আছে, “নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না” (সূরা আল-বাকারা, ২:১৯৫)। একই সঙ্গে যুদ্ধ ও শহীদের মর্যাদা নিয়ে ইসলামের নির্দিষ্ট বিধান ও শর্ত রয়েছে; তাই অপরিকল্পিত মৃত্যু আর শাহাদাতকে এক করে দেখা উচিত নয়।
আমাদের এমন প্রজন্ম দরকার, যাদের হাতে থাকবে কুরআনের হিদায়াত, মাথায় থাকবে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, চরিত্রে থাকবে ন্যায়বোধ, আর যুগের প্রয়োজন অনুযায়ী থাকবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দক্ষতা।
মুসলিমের শক্তি শুধু সে কতটা মুখস্থ করেছে—তা নয়; সে কতটা বুঝেছে, কতটা শিখেছে এবং সেই জ্ঞানকে কতটা ন্যায় ও কল্যাণের কাজে ব্যবহার করতে পেরেছে—সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
#ইসলাম #জ্ঞান #কুরআন #সুন্নাহ #বিজ্ঞান #প্রযুক্তি #শিক্ষা #প্রজ্ঞা