18/05/2026
মহা বরকতময় জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিন: আমল ও ফজিলত
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
আল্লাহর কাছে জিলহজ্জের এই ১০ দিনের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। — (সহীহ বুখারী: ৯৬৯, আবু দাউদ: ২৪৩৮)
সম্মানিত দ্বীনি ভাই ও বোনেরা, বছরের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিনগুলো আমাদের খুব কাছে। এই দিনগুলোতে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে আমাদের বেশি বেশি নেক আমলে মশগুল থাকা উচিত।
নিচে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল তুলে ধরা হলো যা আমরা সহজেই করতে পারি:
১. বেশি বেশি তাসবীহ, তাহলীল ও তামহীদ পড়া 📿
**তাসবীহ:** ( سُبْحَانَ اللهِ ) সুবহানাল্লাহ
**তাহলীল:** ( لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ ) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
**তামহীদ:** ( الْحَمْدُ للهِ ) আলহামদুলিল্লাহ
**২. কুরআন তিলাওয়াত করা 📖
প্রতিদিন নিয়মিত কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করা, অর্থ বোঝা এবং গভীর মনোযোগ দিয়ে তা শ্রবণ করা।
**৩. বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার 🤲
নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং পুরো মুসলিম উম্মাহর ক্ষমার জন্য বেশি বেশি ইস্তিগফার ( أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ ) করা।
**৪. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় 🕌
জামায়াতের সাথে ফরজ নামাজ আদায়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। পাশাপাশি তাহাজ্জুদ, ইশরাক ও অন্যান্য নফল নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়া।
**৫. নফল রোজা রাখা 🌙
জিলহজ্জের ১ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত রোজা রাখার চেষ্টা করা, বিশেষ করে **৯ জিলহজ্জ (আরাফাহর দিনের রোজা)** বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহর কাফফারা স্বরূপ।
**৬. দান-সদকা করা 💰
গরিব ও দুস্থ মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা এবং অভাবীদের অন্নসংস্থান করা।
**৭. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা 🤝
আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের সাথে সুন্দর ও মার্জিত ব্যবহার করা।
**৮. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা 🚫
যাবতীয় হারাম কাজ, শিরক, মিথ্যা, গীবত ও সব ধরনের কুপ্রবৃত্তি পরিহার করা।
**৯. মানবসেবায় এগিয়ে আসা 🐑
মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো এবং কোরবানির ঈদে মাংস সঠিকভাবে বিতরণ ও প্রতিবেশীদের হক আদায় করা।
**১০. চুল ও নখ না কাটা ✂️**
যাঁরা কোরবানি করার নিয়ত করেছেন, জিলহজ্জের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত নিজেদের চুল, গোঁফ ও নখ না কাটা উত্তম।
---
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই মহিমান্বিত দিনগুলোর প্রতিটি মুহূর্তকে ইবাদতের মাধ্যমে চমৎকারভাবে কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন। আমীন।