19/08/2022
#হাওড়ে_ভ্রমণ_২০২২
#নিকলী_মিঠামইন_ইটনা_অষ্টগ্রাম
#হাওড়ে_একদিন
অনেক বছর ধরেই ইচ্ছা ছিল ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম মহাসড়ক দেখার। ব্যাটে বলে মিলছিলোনা দেখে আর যাওয়াই হচ্ছিলো না। অবশেষে ১ দিনের বন্ধে হুট করেই কাঁথা-বালিশ গুছিয়ে রওনা দিলাম কিশোরগঞ্জের পথে। কিভাবে গেলাম কেমন দেখলাম সেটাই আজ লিখে রাখছি।
যাতায়াতঃ
আমরা প্রাইভেট কার রিসার্ভ করে গিয়েছি এসেছি।১৭ তারিখ রাত ১১ টায় রওনা দিয়ে ভোর ৩ টায় পৌঁছিয়েছি।আবার ১৮ তারিখ রাত ১ টায় রওনা দিয়ে ভোর ৪ টায় পৌঁছাতে পেরেছি। যাওয়ার দিন রাস্তায় কয়েক দফা থামায় ১ ঘন্টা লেগেছে। মূলত ঢাকা-কিশোরগঞ্জ ৩ ঘন্টার মধ্যেই পৌঁছানো যায়। আপনারা চাইলে ট্রেনে যেতে পারেন আবার মহাখালী আর সায়েদাবাদ থেকে বাস ছাড়ে, বাসেও যেতে পারেন।
হাওড় ভ্রমণঃ
কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও ইটনা উপজেলার প্রায় সবটুকু এলাকাজুড়ে বিস্তৃত নিকলী হাওর। হাওড়ের মধ্যে মধ্যে আছে ছোট্ট ছোট্ট দ্বীপের মতন গ্রাম। ২-৩ টা বাড়ি নিয়ে একটা ছোট্ট পাড়া আর কি! আর হঠাৎ হঠাৎ করেই চোখে পড়ে অর্ধ ডোবা হিজলের সারি। জুন- আগস্ট হাওড় দেখার ভালো সময়। কিন্তু আমার সফরসঙ্গী পানি ভয় পাওয়ায় এবং সাম্প্রতিক কালে সিলেটের বন্যার ভয়াবহতা দেখে সে ঠিক করেছে যখন পানি অনেক ও না আবার অল্প ও না এমন সময়ে হাওড় দেখবো। তবে ভরা বর্ষার মধ্যে হাওড় দেখার মজাই আলাদা।তা যাই হোক, আমরা সি এন জি ভাড়া করে কিশোরগঞ্জ শহর থেকে প্রথমে গিয়েছি নিকলী জিরো পয়েন্টে। সেখান থেকেই নৌকা নিয়ে আপনি চাইলে মিঠামইন যেতে পারবেন কিন্তু সময়সাপেক্ষ হওয়ায় আমরা ওখান থেকে আর যাইনি। ফিরে এসেছি বালিখলা ঘাটে। সি এন জি তে ঘুরে ঘুরে যেতে ৪০-৪৫ মিনিট সময় লেগেছে রাস্তা কিছু ভাঙা থাকায়। বালিখলা এসে আমরা বড় ট্রলার রিসার্ভ করে নিয়েছি। আসা যাওয়া ২০০০/- টাকায় ভাড়া করেছি। এরপর শুরু হলো আমাদের মূল হাওড় ভ্রমণ। ঝকঝকে আকাশ, চারিদিকে অথই পানি,দিগন্ত জোড়া সবুজের মাঝে হাওড় দেখতে অসাধারণ। বালিখলা থেকে মিঠামইন যেতে ১ ঘন্টা মতন লাগে। আমরা মিঠামইন পর্যন্ত ট্রলারে গিয়েছি। এরপর মিঠামইন উঠেই আমরা অটো রিসার্ভ করে নিয়েছি অষ্টগ্রাম জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত। আসা যাওয়া ৩০০/- টাকায় ঠিক করেছি। মিঠামইন থেকে হাতের ডানে অষ্টগ্রাম আর বায়ে ইটনা। অটোচালক মামা বললো ইটনার রাস্তায় ঘরবাড়ি পাবেন আর অষ্টগ্রামের রাস্তায় শুধু হাওড় আর হাওড়। তাই আমরা ঠিক করলাম অষ্টগ্রামেই যাই। এরপর শুরু হলো ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে চলা। পুরো দৃশ্যটা স্বর্গীয় লাগছিলো। ক্ষণে ক্ষণে আকাশ রঙ বদলাচ্ছিলো, সেই সাথে হাওড়ের পানির ঢেউ। একদম অষ্টগ্রাম বাজারের আগের পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত গিয়ে আমরা ফিরে এসেছি। এখানে বলে রাখা ভালো আপনারা চাইলে ট্রলার নিয়েই আপনারা সম্পূর্ণ নিকলী-মিঠামইন-ইটনা-অষ্টগ্রাম ঘুরতে পারেন,একদম সারাদিন হাওড়ে কাটাতে খুব একটা খারাপ লাগবেনা। আমরা 2 in 1 ট্যুর করতে চেয়েছি তাই হাফ ট্রলার হাফ অটো নিয়ে ঘুরেছি। আর ছাতিরচর এ যেতে ভুলবেন না যেন! এটা অনেক টা রাতারগুলের মতন, সারি সারি করচের বন। আপনি নৌকা নিয়ে আগাবেন আর গলা ডোবানো গাছের সারি দেখতে দেখতে যাবেন।
খাবারঃ
নিকলীতে আসলে তেমন নামকরা কোন ভালো হোটেল নেই। ছোট ছোট খাবারের হোটেল আছে। হাওড়ের মাছ খেতে পারবেন তাতে। তাছাড়া জিরোপয়েন্ট গুলাতে ফুচকা-চটপটি-আইসক্রিম সহ স্ট্রীট ফুড পাবেন হালকার উপর ঝাপসা।
দর্শনীয় স্থানঃ
মূলত কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন গুলো হলো বাংলার বারো ভুঁইয়াদের অন্যতম ইশা খাঁর বাড়ি, প্রথম বাঙালি মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর শিবমন্দির, ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ, মহামান্য রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আবদুল হামিদ এর পৈতৃক নিবাস, ৪০০ বছরের পুরোনা পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট কুতুবশাহ মসজিদ আর হাওড়ের মধ্যে ছাতিরচর গ্রাম ইত্যাদি ঘুরতে পারবেন। হালের ফ্যাশনে মিঠামইনে চেয়্যারম্যান গেস্ট হাউজ আর হাওড়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট চালু হয়েছে। বলে রাখা ভালো শীতকালে যখন হাওড়ে পানি থাকেনা তখন প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট এ আপনি অটো করে যেতে পারবেন তবে পানির সিজনে ওখানে যেতে চাইলে নৌকা করে যেতে হবে।
তো এই ছিলো আমাদের হাওড় ভ্রমণ। একদিনের মধ্যেই দেখে ঘুরে ফিরে আসতে পারা যায় দেখে ভাবলাম বাসায় বসে শুয়ে বসে পার না করে একটু প্রকৃতির কাছে কাটিয়ে আসি। কারণ আমি বিশ্বাস করি যত আপনি প্রকৃতির সাথে সময় কাটাবেন তত মন সতেজ থাকবে,মনের মধ্যে পজিটিভিটি গ্রো করবে, ভালো কাজে মন বসবে আর খারাপ চিন্তা ভাবনা থেকে দূরে থাকতে পারবেন।❤️