24/10/2025
Indonesia Visa from Singapore ::
৩ দিনে সিঙ্গাপুর থেকে ইন্দোনেশিয়ার ভিসা পেলাম! ভিসা এপ্লিকেশন করতে যা যা লাগবে আমি এখানে বর্ননা করবো।
১। সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে 3.5 x 4.5 cm সাইজের ছবি ১ কপি
২। মূল পাসপোর্ট এবং পাসপোর্টের বায়োডাটা পেইজের ফটোকপি
৩। ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা অ্যাপ্লিকেশান ফরম পূরণ করে প্রিন্ট করতে হবে
৪। কনফার্ম রিটার্ন টিকেট (রিটার্ন টিকেট সিঙ্গাপুর থেকে হওয়া লাগবে)
৫। হোটেল বুকিং (আনপেইড হলেও চলবে, বুকিং ডট কম বা অন্য সাইট)
৬। এমব্যাসির এপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে তাদের সাইট থেকে (গেইটে ইমেইল দেখতে চায়)
৭। SG eArrival Card এর প্রিন্ট কপি (সিঙ্গাপুরে এন্ট্রি নেওয়ার পর ইমেইলে এটি পাঠিয়ে দেয় ইমিগ্রেশন)
৮। SG$88 PayNow অথবা ক্যাশ দিতে হবে
আমি এবং আমার ওয়াইফ কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া থেকে রাতের বাসে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রউনা দিয়ে ভোর ৪ টায় সিঙ্গাপুরে পৌঁছে যাই! একই দিন সকাল ১১ টায় আমাদের এপয়েন্টমেন্ট নেওয়া ছিল। হাতে অনেক সময় থাকায় সকালের নাস্তা খাওয়ার জন্য এবং কিছু সময় অপেক্ষা করার জন্য কাছের একটা ম্যাকডোনাল্ডে চলে যাই। সেখানে নাস্তা খেয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করে সকাল ১০ টায় এমব্যাসিতে চলে যাই। এমব্যাসির আসে পাশে কোন প্রিন্টের দোকান নেই তাই আগে থেকেই আমরা সব ডকুমেন্ট কুয়ালালামপুর থেকে প্রিন্ট করে নিয়ে গিয়েছিলাম তবুও SG eArrival Card সিঙ্গাপুর গিয়ে প্রিন্ট করতে হয়েছিল। এটি সিঙ্গাপুরে এন্ট্রি নেওয়ার পরই পাওয়া যায় তার আগে নয়। এপয়েন্টমেন্ট টাইম আসার আগেই গার্ড আমাদের ভিতরে নিয়ে যায়, গেইটে এপয়েন্টমেন্ট ইমেইল এবং ইনিশিয়াল ডকুমেন্ট চেক করে আমাদের একটি টোকেন দিয়ে দেয়। টোকেন নিয়ে আমরা চলে যাই মূল অফিসে, সেখানে কিছু সময় অপেক্ষা করার পর আমাদের ডাক আসে। সেখানে একজন কর্মকর্তা আমাদের সব ডকুমেন্ট চেক করে মূল পাসপোর্ট সহ সব ডকুমেন্ট জমা রাখেন। আমার পাসপোর্ট উনাদের মেশিন স্ক্যান করতে পারছিল না তাই উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন যে ইমিগ্রেশনেও এমন হয়েছিল কি না। আমি বললাম ইমিগ্রেশনে একবারেই আমার পাসপোর্ট স্ক্যান হয়ে গিয়েছিল। যাইহোক, একটু ঘসা মাজা করার পর আমার পাসপোর্ট ক্যান সম্পন্ন হয়। তারপর পেমেন্ট করার বেলায় আমাকে জিজ্ঞেস করলেন যে আমার PayNow আছে কি না, যদি না থাকে তাহলে ক্যাশে পেমেন্ট করতে পারবো। আমার কাছে PayNow বা ক্যাশ কোনটা না থাকায় উনি বললেন পাশেপাশে কোন এটিএম থেকে ক্যাশ তুলে নিয়ে আসার জন্য, ডকুমেন্ট উনার কাছেই রইলো। আমি বাহিরে বের হয়ে একটা ট্যাক্সি নিয়ে চলে গেলাম কাছের একটা ফুয়েল স্টেশনে, এখানে একটি স্টোরের ভিতরে এটিএম আছে, সেখান থেকে ডলার তুলে সেই ট্যাক্সি করেই আবার এমব্যাসিতে ফেরত আসলাম। এমব্যাসি কর্মকরতাকে যখন ক্যাশ দিতে গেলাম তখন উনি বললেন উনি সরাসরি ক্যাশে পেমেন্ট নিতে পারবে না। উনাদের আসলে সরাসরি ক্যাশ পেমেন্ট নেওয়ার সিস্টেম নাই। তাই আমি আমার মতো এমব্যাসিতে কাজে আসা অন্য একজন ইন্দোনেশিয়ান আপুর হেল্প নিয়ে তার PayNow দিয়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করি, সেই স্ক্রিনশন এমব্যাসি কর্মকরতাকে দেখালে আমাদের ভিসা কালেকশনের রিসিট দিয়ে দেন।
৩ দিন পর বিকাল ৩ টায় গিয়ে পাসপোর্ট কালেক্ট করেছি। পাসপোর্ট কালেকশনে তেমন বেশি মানুষ থাকে না তাই ১০ মিনিটের মধ্যে আমরা ভিসা সহ আমাদের পাসপোর্ট পেয়ে যাই। ✈️✈️✈️