30/10/2024
সতর্কতা :
সব বাচ্চার মায়েরা পড়বেন কষ্ট করে।
আজকে অনেক বড় দূর্ঘটনা থেকে আল্লাহ বাঁচিয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।
আমার সাড়ে চার বছরের ছেলে ও সাড়ে চার মাসের মেয়ে।ঢাকা থেকে ওদের দিদা ও ফুপ্পিরা এসেছে আমার বাসায়,,,আমিও এখানে নতুন বাসা নিয়েছি৷
হাসবেন্ড অফিসে,,মেয়েটাও বাইরে যেতে সারাক্ষণ কান্না করে,ছেলেটাও ঘুরতে যেতে চায়,,তো ওর ফুপ্পি বলছে চলেন বাইরে থেকে ওদের ঘুরিয়ে নিয়ে আসি,,তো বাসার কাছাকাছি একটা পার্কে যাই আমরা,,আমার দুই ননদ ও আমার ছেলে ও মেয়ে।
কিছুক্ষণ ঘুরার পর বাচ্চার বাবা ফোন করে বলছে বাসায় চলে যাও সন্ধা হয়ে এলো,তো আমিও ভাবলাম আমরা মেয়েরা একা বের হয়েছি চলে যায়,,কিন্তু বের হয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে আছি গাড়ি পাচ্ছি না,,,
এর মধ্যে এক পাগল মহিলা কি জানি বরবর করে বকছে আর আমাদের ঘুর ঘুর করে দেখছে,,প্রথমে ভেবেছি পাগল হয়তো,,পরে আমার মনে আসলো এরা মানুষকে ভুলিয়ে অনেক কিছু হাতিয়ে নেয়,,আমার গলায় চেইন,আংটি,কানের দুল সাথে তিনজনের তিনটা ফোন,,বিকাশে অনেক টাকাও আছে,,এটা ভেবে আমি অনেকটায় টেনশনে পরে যায়।
আমার ননদরাও অনেকটা ঘাবরে যায় মহিলার তাকানো দেখে, অনেকটা পুরুষের মতো দেখতে ,আমার ননদ খুব কেয়ারিং, সে আমার ছেলের হাত শক্ত করে ধরে দাড়িয়ে আছে। হঠাৎ আমার মনে হলো মহিলা কিছু দিয়ে আমার ভুলিয়ে যদি আমার বাচ্চা নিয়ে যায় তাই আমি নাক চেপে কোলে মেয়েকে শক্ত করে ধরে সাথে আমার ছেলের দিকে তাকিয়ে আছি,,,,এরা রাস্তার ঐ পাশে অটো দেখে তাকিয়ে আছে অটো ঘুরে এসে আমাদের নিয়ে যাবে৷৷
১০ সেকেন্ডের মধ্যে আমি খেয়াল করলাম আমার ছেলে ঐ মহিলার জামা ধরে তার সাথে হেটে চলে যাচ্ছে,,, আমি তাকিয়ে থেকেও বুজলাম না সে হাত ছাড়ালো কিভাবে,,তখন আমি চিৎকার করে ছেলেকে ডাক দিয়ে বলি বাবা তুমি ঐদিকে কোথায় যাচ্ছো,,,
ছেলে পিছনে থেকে হা করে তাকিয়ে থাকে,সেও কিছু টের পাচ্ছে না,,আমার ননদ তখনো বেভুলা হয়ে আছে সে বুজতেই পারে নি কখন তার হাত থেকে আমার ছেলে চলে যাচ্ছে,,আমার চিল্লানো শুনে ওর হুস ফিরেছে সে তাৎক্ষণিক আমার ছেলেকে জরায় ধরে ফেলে আর ঐ মহিলা পিছনে একবার তাকিয়ে আবার হেটে সামনে চলে যায় আর আমরা গাড়ি আসে তাতে উঠে পরি।
এখন বুজলাম কিছুক্ষণের মধ্যে ঐই মহিলা আমাদের তিনজনকেই ভুলিয়ে কোল থেকে আমার মেয়েটাকেও নিয়ে যেতো,,অথছ আমি দেখলাম ঐ মহিলা আমার ছেলেকে স্পর্শ ও করেনি, কি জানি করছে আমার ছেলে নিজেই ঐ মহিলার সাথে হাটা ধরেছে,,মহিলা এতো নোংরা ছিলো আমার ছেলের কখনো রুচি হতো না একে টাচ্ করার।
আমি সবসময় আমার ছেলেকে এসব নিয়ে শিক্ষা দিচ্ছি অপরিচিত কারো কাছ থেকে কিছু না নিতে,না যেতে এরা ভালো না,,আমার ছেলে এইদিক দিয়ে সচেতন।
আমি অনেক জায়গায় দেখেছি এভাবে ভুলিয়ে টাকাপয়সা, স্বর্ণালংকার নিয়ে যেতে,কিন্তু আজকে আমার বাচ্চা নিয়ে যাচ্ছিলো,,আল্লাহ মাবুদ।
আপনারা বাচ্চা নিয়ে বাইরে গেলে সবসময় সতর্ক থাকবেন,,পুরুষ মানুষ ছাড়া বের হবেন না। আল্লাহ বিপদ থেকে হেফাজত করুক।
আমার সন্তানদের জন্য দোয়া করবেন,,আমি আর কখনো এস পার্কে যাবো না ।
post