26/09/2022
আসসালামু আলাইকুম
আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো নাপিত্তাছড়া ট্রেইল ভ্রমণের বিস্তারিতঃ
নাপিত্তাছড়া ট্রেইল, যা চিটাগং এর মিরেরসরাই উপজেলার নয়দুয়ারিয়া নামক স্থানে অবস্থিত। ঢাকা থেকে যাওয়ার দুটি উপায় হলো ট্রেন বা বাস, তবে বাসে যাওয়াই উত্তম কারণ বাস ডিরেক্ট আপনাকে নয়দুয়ারিয়া বাজারে নামিয়ে দিবে। আর ট্রেনে করে গেলে কমলাপুর থেকে রাত সাড়ে ১০টায় চিটাগং মেইল ট্রেনে মিরেরসরাই বা বড়ো তাকিয়া রেল স্টেশনে নামতে হবে অথবা আন্তঃনগর ট্রেনে করে গেলে নামতে হবে ফেনী বা চিটাগং এ। ঢাকার টিটি পারা, মুগদা, সায়দাবাদ, ফকিরাপুল থেকে অনেক বাস প্রতিদিন যাওয়া আসা করে এ রুটে।
প্রথমত আমাদের যাত্রাটা ছিলো চিটাগং মেইল ট্রেনে করে কিন্তু ২২ই সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং বৃহস্পতিবার হওয়ায় যাত্রী চাপ অনেক বেশি। আর আমরা দেড়ি করে যাওয়ার ট্রেনে সীট পাওয়াটা অসম্ভব হয়ে যায়। এদিকে শাওন দা পাবনা থেকে জয়েন করবে, তিনিও তখন পাবনার বাস থেকে পৌছাতে পারেন নি। আতিক, সোহেল বিমানবন্দের স্টেশনের দিকে। অতঃপর সব বিবেচনা করে ট্রেন যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হলাম। তাই আপনারাও এ বিষয়টা ভেবে নিবেন যাত্রার পূর্বে। গন্তব্য টিটি পারার স্টার লাইন বাস কাউন্টারে, উদ্দেশ্য দুইভাগে মিরেরসরাই পৌছানো। ঢাকা - ফেনী - মিরেরসরাই, কিন্তু ভাগ্য এখানেও অসহায়, তাই বাসও পেলাম না। সময় তখন প্রায় সাড়ে ১১টা। আর বেশিকিছু কাউন্টারে দেখার পর, সবাই নিরাশ। আমি আর রিয়াদ ভাই তখনও হাল ছেড়ে দেই নি, ইভেন পেয়েও গেলাম কে কে ট্র্যাভেলস্ এর ফেনী পর্যন্ত টিকিট। বাকিরাও ততোক্ষণে এসে পৌঁছে গেছে। সবার মূখে কিছুটা হলে হাসি ফুটলো, এখন অপেক্ষা বাসের। আমাদের প্লান গুলো হুটহাট তাই বাসের টিকিট পূর্বে কাটা হয়নি, আপনারা যাওয়ার পূর্বে টিকিট কেটে নিতে পারেন। ছুটির দিনগুলোয় খেয়াল রেখেই। রাত ১টার বাস ছাড়লো, ফেনী মহিপালে নামলাম ভোর ৫টায়, তারপর দালালের খপ্পরে পড়তে গিয়েও না পরে ঈগল বাসে করে মিরেরসরাই নয়দুয়ারিয়া বাজার (গুগল ম্যাপ ফলো না করলে চেনার উপায় নাই)। এরপর সকালের নাস্তা সাড়ার সময়। ভোর ৬টা, টুরিস্ট শুণ্য নাপিত্তাছড়া ট্রেইলের পথ। বাজারে ফ্রেশ হওয়ার মতো কোন ব্যবস্থা পাবেন না। আপনাকে ট্রেইলের কাছাকাছি আসতে হবে।
আমাদের ৯জনের টিমের কারো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় একজন গাইড নিলাম অনেক দামাদামি করেই, এরপর যাত্রা। ট্রেইলের কাছাকাছি ইশরাত হোটেলে দুপুরের খাবার অর্ডার করে, সবার ব্যাগপত্র ও ফ্রেশ হয়ে নিলাম। এরপর নাপিত্তাছড়ায় প্রবেশের জন্য প্রবেশ মূল্য ও নাম ঠিকানা দিয়ে ভিতরের প্রবেশ। শুনেছি বর্ষার সিজনের এ পথে প্লাবিত হয়ে ভয়ংকর রূপধারণ করে। তখন ট্রেকিংও বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। ঝিরিপথ ধরে এগুতে থাকলাম, রোমান্সকর পথ। বেশ কিছুদিন হতে বৃষ্টি না হওয়া ঝিরিপথ ধরে হাঁটতে এক অন্যরকম অনুভুতি হচ্ছে প্রত্যেকের মধ্যে। ট্রেইলে সবার নিচে ঝর্ণায় খুব সহজে পৌঁছানোর পর বুঝতে পারলাম আজ ঝর্নায় পানি পাওয়া যাবে না, অনেকটা হতাশ সবাই। এরপর বিপদজনক কুপিকাটাকুম, যেখানে প্রায় অনেক মানুষ গোসল করতে গিয়ে মারা গেছে, কারণ ৭০ ফুটেরও বেশি গভীর এ কুম। তবে বর্তমানে বনবিভাগ থেকে এটিকে রেস্ট্রিকটেড করা। এখান থেকে এই ট্রেইলের সবচেয়ে দূর্গম খাড়া পথ পাড়ি দিতে হবে। একটা ছোট্ট ব্রেক নিলাম এ পথেই, লেবু ও ঝিরির বিশুদ্ধ পানির শরবত যেন সবার শুকিয়ে যাওয়া হৃদয়ে প্রাণের সঞ্জারণ ঘটালো। দোকানের পাশ দিয়ে বাম পথ ধরে সোজা চলে গেলাম বান্দর কুম ঝর্ণা। মূলত এটি নাপিত্তাছড়ার প্রধান দর্শনীয় ঝর্ণা। সবচেয়ে সুন্দর বর্ষায়। আমরা ২য় গ্রুপে হিসেবে ট্রেইলে প্রবেশ করায় খুব সুন্দরভাবে ফটোসেশান করতে পেরেছি। তাই চেষ্টা করবেন ছুটির দিনগুলোতে এসব স্পটে গেলে অবশ্য খুব তাড়াতাড়ি এন্ট্রি দেয়ার তাহলেই উপভোগ করতে পারবেন। ফিরতে পথের ডান দিকে বেশ কিছুটা পথে হাঁটার পর বাঘবিয়ানী ঝর্না। এখানে চাইলে গোসল করতে পারবেন, আমরা কিছুক্ষণ লাফালাফি করলাম তবে সময়টা খুব বেশি নয়। এরমধ্যে লোক সমাগম বেড়ে গেছে। বেলা ১১টার মধ্যে ট্রেইল থেকে ভিন্ন পথে ফিরলাম আমরা।
পাহাড়ি পথে উঠতে যতোটা কঠিন ও বিপদজনক হয় তারচেয়েও নামতে কঠিনতম হয়।
এ পর্যন্ত আমাদের খরচ সমূহঃ
ঢাকা টু ফেনী-৩৪২০/-
ফেনী টু নয়দুয়ারিয়া বাজার-৬৩০/-
সকালের নাস্তা(ডিম, পরোটা, সবজি, চা, পানি)-৩৯০/-
দুপুরের প্যাকেজ খাবার(মুরগি, ডিম, আলু ভর্তা, ডাল ভাত, পানি) - ১৬০০/- (গাইডসহ)
স্নাকস্ ও লেবুর শরবত - ৪০০/-
গাইড ও এন্ট্রি ফি- ৫৮০/-
জনপ্রতি খরচ ৭৮০ টাকা।
#নাপিত্তাছড়া #মহামায়া #মিরেরসরাই #চিটাগং #ডেট্যুর