The Vagrant-natural breath finder

The Vagrant-natural breath finder The act and process of spending time away from home in pursuit of recreation, relaxation & pleasure, while making use of the commercial provision of services.

আসসালামু আলাইকুম।  সকলের সুস্থতা কামনা করে শুরু করছি, এবং ভিন্ন একটি ট্যুরের গল্প বলবো আপনাদের। অফিসিয়ালি এটি আমাদের ২য় ...
11/10/2022

আসসালামু আলাইকুম।
সকলের সুস্থতা কামনা করে শুরু করছি, এবং ভিন্ন একটি ট্যুরের গল্প বলবো আপনাদের। অফিসিয়ালি এটি আমাদের ২য় ট্যুর। পূর্বেই বলেছিলাম, আমাদের ট্যুরগুলো হুটহাট করেই হয় আর একসাথে ৩দিন ছুটি পাওয়ায় আর বসে না থেকে বেরিয়ে পরা এবং ট্যুরগুলো কমার্শিয়াল নয়।

৬ টার অফিস শেষ করে বাসায় গিয়ে হালকা কিছুটা ব্যাকপ্যাক রেডি করেই রওয়ানা হলাম কমলাপুর টিটি পারার উদ্দেশ্যে। সময় ১০টা পেরিয়ে গেছে, প্রথমে স্টার লাইন কাউন্টারে টিকিট পেলাম না তবে গতবারের ন্যায় হতাশ নি কারণ এবার সংখ্যায় কম এবং হাতে সময় অনেক। কমলাপুর স্টেডিয়ামের একটু সামনে স্টার লাইনের ২য় কাউন্টার থেকে রাত ১১ঃ৩০ মিনিটের ৩টা টিকিট কেটে নিলাম। টিমমেটস্ এখনো এসে পৌঁছায় নি। এমনকি এখন পর্যন্ত জানিও না কোথায় যাচ্ছি। তবে সীতাকুণ্ড বা মিরেরসরাই এরিয়ায় থাকবো এটা নিশ্চিত।

বাসে উঠে ডিসিশন হলো কোথায় ঘুরবো। ১ম দিন চন্দ্রনাথ পাহাড় ও বাঁশবাড়িয়া সী বিচ, ২য় দিন খৈয়াছড়া ঝর্ণা। আজ ১ম দিনের গল্পটাই বলো আপনাদের। যদিও এর আগেই আমি চন্দ্রনাথ ঘুরে এসেছি তাই কিছুটা মনখারাপ। তবুও তারা নতুন বিধায় রওয়ানা হলাম।
টিটি পারা থেকে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে রওয়ানা দিয়ে ফেনি পৌঁছালাম ৩ঃ৩০ এর দিকে। চিটাগং রোড পর্যন্ত জ্যাম ছিলো অনেক যেহেতু পরের ৩দিন ছুটি ছিলো আর সবাই বেরিয়ে পড়েছে। এরপর অন্য একটি বাসে করে সীতাকুণ্ড। সময় তখন ৫টা পেরিয়ে গেছে। আঁধার এখনো আছে তারপরেও অসংখ্য টুরিস্ট পৌঁছে গেছে। সীতাকুণ্ড নামার বাজার থেকে খোঁজাখুঁজির পর একটা দোকান থেকে হালকা কিছু শুকনো খাবার নিলাম সাথে পানি। এরপর সিএনজি রিজার্ভ করে চন্দ্রনাথ।
পাহাড়ের নিচেই লাঠি কিনলাম পূর্বের দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র একটা ব্যাগে নিয়ে বাকি দুটোব্যাগ একটি দোকানে রেখে টোকেন নিলাম।
রোদ কম থাকা মাত্র ২ঘন্টার মধ্যেই নেমে পড়লাম। এবার লোকাল সিএনজি নিয়ে সীতাকুণ্ড বাজারে গিয়ে সকালে নাশতা করলাম। এরপর গন্তব্য সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের সহস্রধারা ঝর্না ১ ও সুপ্ত ধারা ঝর্না। লোকাল সিএনজিতে করে ইকো পার্কের হাইওয়ে গেট পর্যন্ত বাকিটা পথে হেঁটে। গ্রামীন পথ হওয়ায় উপভোগ্য ছিলো। টিকিট কেটে ভিতরে প্রবেশ করে একটু সামনে যেতে বেশকিছু সিএনজির দেখা, যারা আপনাকে উচু পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে সহস্রধারা ঝর্নায় নিয়ে যাবে তবে তার জন্য গুনতে হবে অধিক টাকা। প্রায় সাড়ে ৩ কিমি পথ হেঁটে সহস্রধারাতে আসলাম কিন্তু নামতে হবে আরও ৪৮০ সিঁড়ি বেয়ে নিছে। মোটামুটি খুব ক্লান্ত কারণ পুরো পথটাই খাড়া। তবে বেশকিছু জায়গায় থেমেছি, ছবি তুলেছি। আড্ডা দিয়েছি এবং দেড় কিমি পথ পাড়ি দিলেই সুপ্তধারা ঝর্ণার পথ, আরও ৪৮০ সিঁড়ি, খাড়া পথ। আমরা সহস্রাধারা ঝর্না দেখে আবারও হেঁটে হেঁটেই সুপ্ত ধারায় আসলাম ফিরতি পথে এবং এখানে সহস্রধারা থেকে বেশি পানি পেয়ে লাফালাফি করতে দ্বিধা করলাম না। সুপ্ত ধারা অনেক বেশি সুন্দর সহস্রধারার চাইতে।

পার্ক থেকে বের হয়ে দুপুরের খাবার খেলাম। ভেঙ্গে ভেঙ্গে পৌছে গেলাম বাঁশ বাড়িয়া সী বিচ, কিন্তু দূর্ভাগ্য যেন এখন ভাটা। দুপুরের আগে আসলে জোয়ারের সৌন্দর্য টা দেখতে পারতাম। যেহেতু সূর্য তখনও মাথার উপর বেলা গড়ানোর অপেক্ষা, তারপর সূর্যাস্ত দেখে চলে গেলাম মিরসরাই ইকোনমিক অঞ্চলে। রাতটা এখানেই থাকবো আতাহারুল বন্ধুর বাসায়। তবে পথটা অনেক দূরত্বের। বেশ রাতে ইকোনোমিক জোনের পাশের একটা সৈকতে গিয়ে পেলাম এ এক অন্য অনূভূতি। মৃদু হালকা বাতাস ও ঢেউয়ের গর্জন।

এ পর্যন্ত আমাদের ৩জনের খরচ সমূহ্ঃ

ঢাকা টু ফেনি- ১১৪০/-
ফেনি টু সীতাকুণ্ড-৩০০/-
সীতাকুণ্ড নামার বাজার টু চন্দ্রনাথ- ১০০/- রিজার্ভ
হালকা শুকনো খাবার-১৩৫/-
লাঠি-৯০/-
ব্যাগ লোকার-৪০/-
চন্দ্রনাথ টু নামার বাজার-৫০/- লোকাল
সকালের নাস্তা- ২৭০/-
নামারবাজার টু ইকোপার্ক হাইওয়ে গেট-৩০/-
ইকোপার্কের টিকিট ফি-৯০/-
দুপুরের খাবার- ৪৩০/- প্যাকেজ
ইকোপার্ক মেইন গেট টু হাইওয়ে গেট-৩০/- লোকাল
হাইওয়ে টু বাঁশবাড়িয়া বাজার টু সী বিচ- ১২০/-
সী বিচ টু বাঁশবাড়িয়া টু সীতাকুণ্ড -৬০+৪৫=১০৫/-
সীতাকুণ্ড টু বড়তাকিয়া বাজার-৯০/- বাস
বড়তাকিয়া টু মিরেরসরাই ইকোনমিক জোন জিরো পয়েন্ট- ২৫০/-
স্নাকস ও অন্যান্ন- ১৩০/-
৩জনের মোট খরচ একদিনে- ৩৪০০ টাকা।
জনপ্রতি খরচ- ১১৩৩ টাকা প্রায়।

যেখানে যান প্রকৃতির ক্ষতি করবেন না। নিরাপদে প্রকৃতি উপভোগ করুন।
ধন্যবাদ

#সীতাকুন্ড #চন্দ্রনাথ #সহস্রধারা #সুপ্তধারা #বাঁশবাড়িয়া #ট্যুর

মিরেরসরাই এর ১দিনের ট্যুরের ১ম পর্বের বিস্তারিত নাপিত্তাছড়া নিয়ে।
30/09/2022

মিরেরসরাই এর ১দিনের ট্যুরের ১ম পর্বের বিস্তারিত নাপিত্তাছড়া নিয়ে।

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল শেষ করে দুপুরের খাবারের পর বেশ কিছুটা সময় যে যার মতো রিল্যাক্স করে এবারের গন্তব্য আমাদের মহামায়া লেকে...
30/09/2022

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল শেষ করে দুপুরের খাবারের পর বেশ কিছুটা সময় যে যার মতো রিল্যাক্স করে এবারের গন্তব্য আমাদের মহামায়া লেকের উদ্দেশ্যে।

নয়দুয়ারিয়া বাজারের এসে লেগুনা বা সিএনজি পাবেন মহামায়া লেকে যাওয়ার জন্য। আমরা যেহেতু সংখ্যায় বেশি তাই অনেক দরদাম করে লেগুনা ঠিক করলাম মহামায়া লেকের মেইন গেট পর্যন্ত। বেশ অনেকটা পথ শান্ত চিটাগং হাইওয়ে, আর ছুটে চলছে আমাদের লেগুনা। প্রায় অনেকেই ঘুমে আচ্ছন্ন হালকা শীতল বাতাসে।
মহামায়া লেকে প্রবেশের পূর্বে অনেক রকমের দোকান পাবেন, চাইলে টুকটাক কেনাকাটা বা হালকা নাশতাও সেড়ে নিতে পারবেন। টিকিট কেটে ভিতরের প্রবেশ করলাম, যদিও আমাদের পূর্ব ধারণা অনুযায়ী ভেবে নিয়েছিলাম স্টুডেন্ট পাস হিসেবে ৫০% ডিসকাউন্ট পাবো কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত আজীবনের জন্য এ সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। তবে প্রত্যেক ভ্রমণ স্পট গুলোতে এ সুবিধা রাখা দরকার।
ভিতরে প্রবেশ করে মহামায়া ইকোপার্কের হাঁটা পথটা ধীরে ধীরে উঁচু হতে শুরু করেছে। ক্লান্ত থাকায় এই পথটা হাঁটতে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে আমাদের। তাই একটু বিশ্রাম নেবার সময়। বামের রাস্তা ধরে খানিক উঁচু স্থানে বসবার জায়গায় অনেকটা সময় আড্ডা দিলাম এবং কায়াকিং এর জন্য বেলা গড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করলাম। কারণ তখন সূর্য ঠিক মাথার উপর।

বিকাল ৪টা, সূর্য কিছুটা হেলে পড়েছে পশ্চিমে। আমরাও দলবল নিয়ে কায়াকিং গ্রাউন্ডে। দরদাম শুনে হতাশ। এতোটা বেশি হবে জানা ছিলো না, তবুও সবার ইচ্ছায় কায়াকিং শুরু। ৪টা ১৫ মিনিটে কায়াকিং শুরু করলাম ৩০ মিনিটের জন্য ভাড়া নিয়ে, প্রয়োজন অনুযায়ী লাইফ জ্যাকেট পরে নিলাম এবং আমাদের একজন কায়াকিং না করায় বেশ সুবিধা হলো কারণ সমস্ত ব্যাগপত্রের নিরাপত্তার জন্য। ৩০ মিনিটের জন্য নিলেও মহামায়া লেকের বাম দিকের সর্বশেষ একটা ছোট ঝর্ণা দেখতে যাওয়ায় ঘন্টা পেরুতে সময় লাগলো না। এর মধ্যেই ইঞ্জিন চালিত বোটগুলো চলাচল করায় বেশ সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়েছে আমাদের। তবে ঘন্টাখানেক কায়াকিং এর পর মনের মধ্যে কিছুটা তৃপ্তি পেয়েছি। সঙ্গে ছিলো সবার মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা মূলক কায়াকিং। কে কার আগে যায়। আমাদের মধ্যে রিয়াদ ভাই সাঁতার না জানায় খুবই সর্তক ভাবে কায়াকিং করতে হয়েছে। তাই সাঁতার না জানা কাউকে নিয়ে কায়াকিং করার পূর্বে ভেবে চিন্তে নিবেন। আরেকটা বিষয় বলে রাখি, বৈঠা যদি একবার আপনার হাত ফসকে পরে যায় তাহলে সেটা খুঁজে পাওয়া দুরূহ ব্যাপার এতো গভীর এই লেক। তাই সাবধান থাকবেন কারণ বৈঠা হারিয়ে গেলে ১২০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। একদিনের মধ্যে সুন্দর একটি ট্যুর শেষ করে ঢাকা ফেরা। যা মনে থাকবে আজীবন, সোনালি স্মৃতি হয়ে। মহামায়া লেক গেট থেকে এবার সিএনজি নিয়ে হাইওয়ে, আর সেখানে থেকে লেগুনা নিয়ে মিঠাছড়ি বাস কাউন্টার। বেশ কয়েকটা কাউন্টার ঘুরে দরদাম করে এন আর ট্র্যাভেলস্ এর শ্যামলী বাসে করে আমরা ফিরবো ঢাকা। বাস ছাড়ার সময় সন্ধ্যা ৭টা, আশা করি রাত ১২ টার মধ্যে টিটি পারায় পৌঁছাতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
সাথেই থাকবেন, আবার কোন ট্যুরের বিস্তারিত নিয়ে আসবো শীঘ্রই।

এ পর্যন্ত আমাদের খরচ

নয়দুয়ারিয়া বাজার টু মহামায়া লেক মেইন গেট- ৩১৫/-
মহামায়া এন্ট্রি ফি- ২৭০/-
কায়াকিং ফি (২জনের বোট-১ঘন্টা)-১২০০ টাকা
মহামায়া টু হাইওয়ে- ১৩৫/- সিএনজি
হাইওয়ে টু মিঠাইছড়ি- ৯০/- লেগুনা
মিঠাইছড়ি টু টিটিপারা (কমলাপুর) -৩৪২০/-

জনপ্রতি খরচ প্রায় ৬০০ টাকা।

তবে সম্পূর্ন্ন ট্যুর শেষ করতে আমাদের খরচ পরেছে জনপ্রতি প্রায় ১৪০০ টাকা।

আবারও দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।

#নাপিত্তাছড়া #মহামায়া #মিরেরসরাই
#ডেট্যুর

28/09/2022

Go Fast, Go Alone.
Go Far, Go Together.

27/09/2022

সবাইকে বিশ্ব পর্যটন দিবসে শুভেচ্ছা।

ভ্রমণই সুখ

আসসালামু আলাইকুম আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো নাপিত্তাছড়া ট্রেইল ভ্রমণের বিস্তারিতঃনাপিত্তাছড়া ট্রেইল,  যা চিটাগং এর মিরের...
26/09/2022

আসসালামু আলাইকুম
আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো নাপিত্তাছড়া ট্রেইল ভ্রমণের বিস্তারিতঃ

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল, যা চিটাগং এর মিরেরসরাই উপজেলার নয়দুয়ারিয়া নামক স্থানে অবস্থিত। ঢাকা থেকে যাওয়ার দুটি উপায় হলো ট্রেন বা বাস, তবে বাসে যাওয়াই উত্তম কারণ বাস ডিরেক্ট আপনাকে নয়দুয়ারিয়া বাজারে নামিয়ে দিবে। আর ট্রেনে করে গেলে কমলাপুর থেকে রাত সাড়ে ১০টায় চিটাগং মেইল ট্রেনে মিরেরসরাই বা বড়ো তাকিয়া রেল স্টেশনে নামতে হবে অথবা আন্তঃনগর ট্রেনে করে গেলে নামতে হবে ফেনী বা চিটাগং এ। ঢাকার টিটি পারা, মুগদা, সায়দাবাদ, ফকিরাপুল থেকে অনেক বাস প্রতিদিন যাওয়া আসা করে এ রুটে।

প্রথমত আমাদের যাত্রাটা ছিলো চিটাগং মেইল ট্রেনে করে কিন্তু ২২ই সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং বৃহস্পতিবার হওয়ায় যাত্রী চাপ অনেক বেশি। আর আমরা দেড়ি করে যাওয়ার ট্রেনে সীট পাওয়াটা অসম্ভব হয়ে যায়। এদিকে শাওন দা পাবনা থেকে জয়েন করবে, তিনিও তখন পাবনার বাস থেকে পৌছাতে পারেন নি। আতিক, সোহেল বিমানবন্দের স্টেশনের দিকে। অতঃপর সব বিবেচনা করে ট্রেন যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হলাম। তাই আপনারাও এ বিষয়টা ভেবে নিবেন যাত্রার পূর্বে। গন্তব্য টিটি পারার স্টার লাইন বাস কাউন্টারে, উদ্দেশ্য দুইভাগে মিরেরসরাই পৌছানো। ঢাকা - ফেনী - মিরেরসরাই, কিন্তু ভাগ্য এখানেও অসহায়, তাই বাসও পেলাম না। সময় তখন প্রায় সাড়ে ১১টা। আর বেশিকিছু কাউন্টারে দেখার পর, সবাই নিরাশ। আমি আর রিয়াদ ভাই তখনও হাল ছেড়ে দেই নি, ইভেন পেয়েও গেলাম কে কে ট্র্যাভেলস্ এর ফেনী পর্যন্ত টিকিট। বাকিরাও ততোক্ষণে এসে পৌঁছে গেছে। সবার মূখে কিছুটা হলে হাসি ফুটলো, এখন অপেক্ষা বাসের। আমাদের প্লান গুলো হুটহাট তাই বাসের টিকিট পূর্বে কাটা হয়নি, আপনারা যাওয়ার পূর্বে টিকিট কেটে নিতে পারেন। ছুটির দিনগুলোয় খেয়াল রেখেই। রাত ১টার বাস ছাড়লো, ফেনী মহিপালে নামলাম ভোর ৫টায়, তারপর দালালের খপ্পরে পড়তে গিয়েও না পরে ঈগল বাসে করে মিরেরসরাই নয়দুয়ারিয়া বাজার (গুগল ম্যাপ ফলো না করলে চেনার উপায় নাই)। এরপর সকালের নাস্তা সাড়ার সময়। ভোর ৬টা, টুরিস্ট শুণ্য নাপিত্তাছড়া ট্রেইলের পথ। বাজারে ফ্রেশ হওয়ার মতো কোন ব্যবস্থা পাবেন না। আপনাকে ট্রেইলের কাছাকাছি আসতে হবে।

আমাদের ৯জনের টিমের কারো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় একজন গাইড নিলাম অনেক দামাদামি করেই, এরপর যাত্রা। ট্রেইলের কাছাকাছি ইশরাত হোটেলে দুপুরের খাবার অর্ডার করে, সবার ব্যাগপত্র ও ফ্রেশ হয়ে নিলাম। এরপর নাপিত্তাছড়ায় প্রবেশের জন্য প্রবেশ মূল্য ও নাম ঠিকানা দিয়ে ভিতরের প্রবেশ। শুনেছি বর্ষার সিজনের এ পথে প্লাবিত হয়ে ভয়ংকর রূপধারণ করে। তখন ট্রেকিংও বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। ঝিরিপথ ধরে এগুতে থাকলাম, রোমান্সকর পথ। বেশ কিছুদিন হতে বৃষ্টি না হওয়া ঝিরিপথ ধরে হাঁটতে এক অন্যরকম অনুভুতি হচ্ছে প্রত্যেকের মধ্যে। ট্রেইলে সবার নিচে ঝর্ণায় খুব সহজে পৌঁছানোর পর বুঝতে পারলাম আজ ঝর্নায় পানি পাওয়া যাবে না, অনেকটা হতাশ সবাই। এরপর বিপদজনক কুপিকাটাকুম, যেখানে প্রায় অনেক মানুষ গোসল করতে গিয়ে মারা গেছে, কারণ ৭০ ফুটেরও বেশি গভীর এ কুম। তবে বর্তমানে বনবিভাগ থেকে এটিকে রেস্ট্রিকটেড করা। এখান থেকে এই ট্রেইলের সবচেয়ে দূর্গম খাড়া পথ পাড়ি দিতে হবে। একটা ছোট্ট ব্রেক নিলাম এ পথেই, লেবু ও ঝিরির বিশুদ্ধ পানির শরবত যেন সবার শুকিয়ে যাওয়া হৃদয়ে প্রাণের সঞ্জারণ ঘটালো। দোকানের পাশ দিয়ে বাম পথ ধরে সোজা চলে গেলাম বান্দর কুম ঝর্ণা। মূলত এটি নাপিত্তাছড়ার প্রধান দর্শনীয় ঝর্ণা। সবচেয়ে সুন্দর বর্ষায়। আমরা ২য় গ্রুপে হিসেবে ট্রেইলে প্রবেশ করায় খুব সুন্দরভাবে ফটোসেশান করতে পেরেছি। তাই চেষ্টা করবেন ছুটির দিনগুলোতে এসব স্পটে গেলে অবশ্য খুব তাড়াতাড়ি এন্ট্রি দেয়ার তাহলেই উপভোগ করতে পারবেন। ফিরতে পথের ডান দিকে বেশ কিছুটা পথে হাঁটার পর বাঘবিয়ানী ঝর্না। এখানে চাইলে গোসল করতে পারবেন, আমরা কিছুক্ষণ লাফালাফি করলাম তবে সময়টা খুব বেশি নয়। এরমধ্যে লোক সমাগম বেড়ে গেছে। বেলা ১১টার মধ্যে ট্রেইল থেকে ভিন্ন পথে ফিরলাম আমরা।

পাহাড়ি পথে উঠতে যতোটা কঠিন ও বিপদজনক হয় তারচেয়েও নামতে কঠিনতম হয়।

এ পর্যন্ত আমাদের খরচ সমূহঃ

ঢাকা টু ফেনী-৩৪২০/-
ফেনী টু নয়দুয়ারিয়া বাজার-৬৩০/-
সকালের নাস্তা(ডিম, পরোটা, সবজি, চা, পানি)-৩৯০/-
দুপুরের প্যাকেজ খাবার(মুরগি, ডিম, আলু ভর্তা, ডাল ভাত, পানি) - ১৬০০/- (গাইডসহ)
স্নাকস্ ও লেবুর শরবত - ৪০০/-
গাইড ও এন্ট্রি ফি- ৫৮০/-

জনপ্রতি খরচ ৭৮০ টাকা।

#নাপিত্তাছড়া #মহামায়া #মিরেরসরাই #চিটাগং #ডেট্যুর

Address

Rampura
Dhaka
1219

Telephone

+8801323400770

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Vagrant-natural breath finder posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to The Vagrant-natural breath finder:

Share