25/04/2026
মীকাত: হজ ও উমরাহর সেই সীমারেখা, যেখান থেকে শুরু হয় এক ভিন্ন যাত্রা। 🤍🕋
মক্কার চারপাশে নির্দিষ্ট কিছু স্থান রয়েছে, যেগুলোকে মীকাত বলা হয়। হজ বা উমরাহর নিয়তে যারা আসেন, তাদের এই সীমারেখা অতিক্রম করার আগেই ইহরামে প্রবেশ করতে হয়। নিয়ত করা, গোসল করা এবং সেলাইবিহীন সাদা পোশাক পরার মাধ্যমে একজন মানুষ নিজেকে এক ভিন্ন অবস্থায় নিয়ে যান যেখানে দুনিয়ার বাহ্যিকতা ছেড়ে আল্লাহর জন্য নিজেকে হাজির করা।
মোট পাঁচটি মীকাত রয়েছে। এর মধ্যে চারটি নির্ধারণ করেছিলেন রাসূল ﷺ, আর একটি নির্ধারণ করেন হযরত উমর (রা.) তাঁর খিলাফতের সময়। ইবন আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, মদিনাবাসীদের জন্য যুল হুলাইফা, শামবাসীদের জন্য আল-জুহফা, নাজদের জন্য কারন আল-মানাজিল এবং ইয়েমেনবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম নির্ধারণ করা হয়। (সহিহ বুখারি)
যুল হুলাইফা (আবিয়ার আলি):
মসজিদে নববী থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে এবং মক্কা থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। মদিনা থেকে আগত হাজিরা এখান থেকেই ইহরামে প্রবেশ করেন।
জাত ইর্ক:
মক্কার উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ৯৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইরাক, ইরান এবং ওই দিক থেকে আগত হাজিদের জন্য এটি নির্ধারিত। বসরা ও কুফা বিজয়ের পর হযরত উমর (রা.) এই মীকাত নির্ধারণ করেন। অন্য বর্ণনায় আয়েশা (রা.) থেকে জানা যায়, রাসূল ﷺ নিজেও এই স্থান নির্ধারণ করেছিলেন। এলাকাটির নামকরণ হয়েছে ইর্ক আসওয়াদ নামের একটি পাহাড় থেকে। বর্তমানে এখানে একটি মসজিদ নির্মাণাধীন, যেখানে পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
কারন আল-মানাজিল (আস-সাইল আল-কাবীর):
মক্কার পূর্বদিকে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নাজদ, তায়েফ, রিয়াদ এবং উপসাগরীয় দেশসহ দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আগত হাজিরা এই মীকাত ব্যবহার করেন। ১৯৮২ সালে এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়, যেখানে প্রায় ৩,০০০ মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন। এই এলাকাতেই তায়েফের ঘটনার পর রাসূল ﷺ-এর সামনে জিবরাইল (আ.) উপস্থিত হয়েছিলেন।
ইয়ালামলাম (সাদিয়্যাহ):
মক্কার দক্ষিণে প্রায় ৯২ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইয়েমেন এবং দক্ষিণ দিক থেকে আগত হাজিদের জন্য এটি নির্ধারিত। অতীতে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে সমুদ্রপথে আগত লোকেরাও এই মীকাত ব্যবহার করতেন। এখানে প্রায় ১,৫০০ মুসল্লির একটি মসজিদ রয়েছে।
আল-জুহফা:
মক্কার উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ১৮৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শাম, মিশর, তুরস্ক এবং ওই অঞ্চলের হাজিদের জন্য এটি নির্ধারিত। রাসূল ﷺ যখন মক্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে মদিনা থেকে রওনা দেন, তখন তাঁর চাচা আব্বাস (রা.) এই স্থানেই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
মীকাত শুধু একটি ভৌগোলিক সীমারেখা নয়, এটা এমন একটি মুহূর্ত, যেখানে একজন মানুষ নিজের ভেতরেও পরিবর্তনের শুরু অনুভব করে। এখান থেকেই হজের যাত্রা শুধু পথের নয়, বরং নিয়ত ও প্রস্তুতির দিক থেকেও শুরু হয়। 🤍🕋