Mufti Saiful Dhali

Mufti Saiful Dhali Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Mufti Saiful Dhali, Travel Service, ২২১, সিপাহিবাগ, খিলগাঁও ঢাকা।, Dhaka.

👤 মুফতি সাইফুল ইসলাম
চেয়ারম্যান :আস-সাইফ ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ
✨ বিভিন্ন কার্যক্রমের একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান

📞 ঢাকা অফিস (২৪ ঘন্টা সার্ভিস)
01898-881803
01898-881804
📢 অভিযোগ ও পরামর্শ
01898-881801
🤝 বিশ্বাস • সেবা • আন্তরিকতা

01/09/2026

আল্লাহ যে সাতটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারীদের জন্য জান্নাতুল ফিরদাউসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন..

#জান্নাতুল_ফিরদাউস
#জান্নাত
#কুরআন
#ইসলাম
#ইসলামিক_ভিডিও
#ইসলামিক_লেকচার
#কুরআনের_আলোকে
#ইসলামিক_শিক্ষা
#দ্বীন
#আমল
#মুমিন

তাওয়াফ কী? এটা কিভাবে করতে হয়?তাওয়াফ হল কাবা ঘরের চারপাশে ৭ বার প্রদক্ষিণ করা। এ তাওয়াফ করার নিয়মাবলী নীচে উল্লেখ করা হল...
31/08/2026

তাওয়াফ কী? এটা কিভাবে করতে হয়?
তাওয়াফ হল কাবা ঘরের চারপাশে ৭ বার প্রদক্ষিণ করা। এ তাওয়াফ করার নিয়মাবলী নীচে উল্লেখ করা হলঃ

(১) তাওয়াফ শুরু করার পূর্বেই তালবিয়াহ পাঠ বন্ধ করে দেয়া। এরপর মনে মনে তাওয়াফের নিয়ত করা। নিয়ত না করলে তাওয়াফ শুদ্ধ হবে না। নিয়ম হল প্রথমে ‘হাজারে আসওয়াদ (কাল পাথরের) কাছে যাওয়া, ‘‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’’ বলে এ পাথরকে চুমু দিয়ে তাওয়াফ কার্য শুরু করা। কিন্তু রমাযান ও হজ্জের মৌসুমে প্রচন্ড ভীড় থাকে। বয়স্ক, বৃদ্ধ ও মহিলাদের জন্য পাথর চুম্বনের কাজটি প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের ভীড় দেখলে ধাক্কাধাক্কি করে নিজেকে ও অন্য হাজীকে কষ্ট না দিয়ে পাথর চুমু দেয়া ছাড়াই ‘‘হাজরে আসওয়াদ’’ থেকে তাওয়াফ শুরু করে দিবেন। কাবাঘরের ‘‘হাজরে আসওয়াদ’’ কোণ থেকে মসজিদে হারামের দেয়াল ঘেষে সবুজ বাতি দেয়া আছে। এ রেখা বরাবর থেকে তাওয়াফ শুরু করে আবার এখানে আসলে তাওয়াফের এক চক্র শেষ হবে। এভাবে ৭ চক্র পূর্ণ করতে হবে। ভীড়ের পরিমাণ যদি আরো বেশী দেখতে পান এবং গ্রাউন্ড ফ্লোরে তাওয়াফ করা কঠিন মনে করেন তাহলে দু’তলা বা ছাদের উপর দিয়েও তাওয়াফ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে সময় একটু বেশী লাগলেও ভীড়ের চাপ থেকে রেহাই পাবেন। ছাদের উপর তাওয়াফ করলে দিনের প্রখর রৌদ্রতাপ ও প্রচন্ড গরমে না গিয়ে রাতের বেলায় করবেন। বেশী ভীড়ের মধ্যে ঢুকে মানুষকে কষ্ট দেবেন না। দিলে ইবাদত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

(২) কাবাঘরকে বামপাশে রেখে তাওয়াফ করতে হয়। তাওয়াফের প্রথম চক্রে ‘‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’’ বলে নীচের দোয়াটি পড়তে পারলে ভাল হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি করতেন। দোয়াটি হলঃ
اَللَّهُمَّ إِيْمَانًا بِكَ وَتَصْدِيْقًا بِكِتَابِكَ وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ وَاتِّبَاعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ مَحَمَّدٍ -صلى الله عليه وسلم-
অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার প্রতি ঈমান এনে, তোমার কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তোমার সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণের জন্য তোমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের অনুসরণ করে এ তাওয়াফ কার্যটি করছি।

(৩) প্রথম তিন চক্রে পুরুষগণ ছোট ছোট পদক্ষেপে দৌড়ের ভঙ্গিতে সামান্য একটু দ্রুত গতিতে চলতে চেষ্টা করবেন। আরবীতে এটাকে ‘রম্ল’ বলা হয়। বাকী চার চক্র সাধারণ হাঁটার গতিতে চলবেন। মক্কায় প্রবেশ করে প্রথম যে তাওয়াফটি করতে হয় শুধু এটাতেই প্রথম তিন চক্রের রম্লের এ বিধান। এরপর যতবার তাওয়াফ করবেন সেগুলোতে আর ‘‘রমল’’ করতে হবে না। মহিলাদের রমল করতে হয় না।

(৪) পুরুষেরা ইহরামের গায়ের কাপড়টির একমাথা ডান বগলের নীচ দিয়ে এমনভাবে পেঁচিয়ে দেবেন যাতে ডান কাঁধ, বাহু ও হাত খোলা থাকে। কাপড়ের বাকী অংশ ও উভয় মাথা দিয়ে বাম কাঁধ ও বাহু ঢেকে ফেলবেন। এ নিয়মটাকে আরবীতেও اضطباع (ইয্তিবা) বলা হয়। এটা শুধুমাত্র প্রথম তাওয়াফে করতে হয়। পরবর্তী তাওয়াফগুলোতে এ নিয়ম নেই, অর্থাৎ ডান কাঁধ ও বাহু খোলা রাখতে হয় না।

(৫) কাবাঘরের চারটি কোণের মধ্যে একটি কোণের নাম হল ‘‘রুকনে ইয়ামানী’’। হাজরে আসওয়াদ-এর কোণটিকে প্রথম কোণ ধরে তাওয়াফ শুরু করে আসলে ‘‘রুকনে ইয়ামানী’’ হবে চতুর্থ কোণ। এ ‘‘রুকনে ইয়ামানী’’র পাশে এসে পৌঁছলে ভীড় না হলে এ কোণকে ডান হাত দিয়ে ছুইতে চেষ্টা করবেন। কিন্তু সাবধান, এ রুকনে ইয়ামেনীকে চুমু দেবেন না, এর পাশে এসে হাত উঠিয়ে ইশারাও করবেন না এবং সেখানে ‘আল্লাহু আকবার’ও বলবেন না। ‘আল্লাহু আকবার’ বলবেন হাজরে আসওয়াদে পৌঁছে। তাওয়াফ শুরু করবেন ‘‘হাজরে আওয়াদ’’ থেকে এবং শেষও করবেন সেখানে গিয়েই।

(৬) রুকনে ইয়ামেনী ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে নিম্নের এ দোয়াটি পড়া মুস্তাহাবঃ
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ
অর্থঃ হে আমাদের রব! আমাদেরকে তুমি দুনিয়ায় সুখ দাও, আখেরাতেও আমাদেরকে সুখী কর এবং আগুনের আযাব থেকে আমাদেরকে বাঁচাও।[1]

(৭) তাওয়াফের প্রত্যেক চক্রেই হাজরে আসওয়াদ ছুঁয়া ও চুমু দেয়া উত্তম। কিন্তু প্রচন্ড ভীড়ের কারণে এটি খুবই দূরূহ কাজ। সেক্ষেত্রে প্রতি চক্রেই হাজ্রে আসওয়াদের পাশে এসে এর দিকে মুখ করে ডান হাত উঠিয়ে ইশারা করবেন। ইশারাকৃত এ হাত চুম্বন করবেন না। ইশারা করার সময় একবার বলবেন بسم الله الله أكبر ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’।

(৮) তাওয়াফরত অবস্থায় খুব বেশী বেশী যিক্র, দোয়া ও তাওবা করতে থাকবেন। কুরআন তিলাওয়াতও করা যায়। কিছু কিছু বইতে আছে প্রথম চক্রের দোয়া, ২য় চক্রের দোয়া ইত্যাদি। কুরআন হাদীসে এ ধরনের চক্রভিত্তিক দোয়ার কোন ভিত্তি নেই। যত পারেন একের পর এক দোয়া আপনি করতে থাকবেন। এ বইয়ের ২১ ও ২২ নং অধ্যায়ে কিছু দোয়া দেয়া আছে। এ দোয়াগুলো করতে পারেন। তাছাড়া আপনার নিজ ভাষায় আপনার মনের কথাগুলো আল্লাহর কাছে বলতে থাকবেন, মিনতি সহকারে চাইতে থাকবেন। দলবেঁধে সমস্বরে জোরে জোরে দোয়া করে অন্যদের দোয়ার মনোযোগ নষ্ট করবেন না। আরবীতে দোয়া করলে এগুলোর অর্থ জেনে নেয়ার চেষ্টা করবেন যাতে আল্লাহর সাথে আপনি কি বলছেন তা যেন হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারেন।

(৯) তাওয়াফের ৭ চক্র শেষ হলে দু’কাঁধ এবং বাহু ইহরামের কাপড় দিয়ে আবার ঢেকে ফেলবেন এবং ‘‘মাকামে ইব্রাহীমের’’ কাছে গিয়ে পড়বেনঃ

وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلّىً
অর্থঃ ইব্রাহীম (পয়গাম্বর)-এর দন্ডায়মানস্থলকে সালাত আদায়ের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো।[2]
অতঃপর তাওয়াফ শেষে এ মাকামে ইব্রাহীমের পেছনে এসে দু’রাকআত সালাত আদায় করবেন। ভীড়ের কারণে এখানে জায়গা না পেলে মসজিদে হারামের যে কোন অংশে এ সালাত আদায় করা জায়েয আছে। মানুষকে কষ্ট দেবেন না, যে পথে মুসল্লীরা চলাফেরা করে সেখানে সালাতে দাঁড়াবেন না। সুন্নত হলো এ সালাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর প্রথম রাকআতে সূরা কাফিরূন এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা ইখলাস পড়া।

(১০) এরপর যমযমের পানি পান করতে যাওয়া মুস্তাহাব। পান শেষে যমযমের কিছু পানি মাথার উপর ঢেলে দেয়া সুন্নাত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি করতেন। (আহমাদ)

(১১) মুস্তাহাব হলো পুনরায় হাজ্রে আসওয়াদের কাছে গিয়ে এটা স্পর্শ করা ও চুম্বন করা। সম্ভব হলে এটা করবেন। আর ভীড় বেশী থাকলে এ কাজটা করতে যাবেন না।

(১২) বেগানা পুরুষের সামনে মহিলারা হাজারে আসওয়াদ চুম্বনের সময় মুখ খোলা রাখবেন না। কাবার গা ঘেঁষে পুরুষদের মধ্যে না ঢুকে মেয়েদের একটু দূর দিয়ে তাওয়াফ করা উত্তম।

(১৩) তাওয়াফ করার সময় যদি জামা‘আতের ইকামত দিয়ে দেয় তখন সঙ্গে সঙ্গে তাওয়াফ বন্ধ করে দিয়ে নামাযের জামা‘আতে শরীক হবেন এবং ডান কাঁধ ও বাহু চাদর দিয়ে ঢেকে ফেলবেন। নামায রত অবস্থায় কাঁধ ও বাহু খোলা রাখা জায়েয না। সালাত শেষে তাওয়াফের বাকী অংশ পূর্ণ করবেন।

[1] (সূরা বাকারা ২০১)
[2](বাকারাঃ ১২৫

28/08/2026

বাইতুল মাজীদ জামে মসজিদের উদ্যোগে ইসলাহী মাহফিল
২৮ শে আগস্ট ২০২৬
স্থান: হুসাইন আহমদ রুম, পুলিশ লাইন, নারায়ণগঞ্জ

24/08/2026

আল্লাহ তাআলা যেসব গুণের অধিকারী মুমিনদের জন্য জান্নাতুল ফেরদৌসের সুসংবাদ দিয়েছেন।

আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি অত্যন্ত বিদ্বেষী ছিল। সে মানুষের মধ্যে নবীজি ﷺ-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচা...
23/08/2026

আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি অত্যন্ত বিদ্বেষী ছিল। সে মানুষের মধ্যে নবীজি ﷺ-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করত এবং নানা ধরনের কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করত।

আল্লাহ তাআলা সূরা লাহাবে তাকে “হাম্মালাতাল হাতাব” অর্থাৎ “লাকড়ি বহনকারী” বলে উল্লেখ করেছেন।

সে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর চলার পথে কাঁটাযুক্ত ডালপালা ও লাকড়ি ফেলে রাখত, যাতে নবীজি ﷺ কষ্ট পান। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ফিতনা ও অপপ্রচার ছড়াত।

সূরা লাহাব নাজিল হওয়ার পর একদিন উম্মে জামিল প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে উঠল। সে হাতে একটি পাথর নিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে খুঁজতে বের হলো। তার উদ্দেশ্য ছিল, সুযোগ পেলে সেই পাথর দিয়ে নবীজি ﷺ-কে আঘাত করা।

সে কাবা শরিফের কাছে এসে দেখল, রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত আবু বকর (রা.)-এর সঙ্গে বসে আছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দেখতে পেল না।

সে শুধু হযরত আবু বকর (রা.)-কে দেখতে পেল এবং জিজ্ঞেস করল,

“হে আবু বকর! তোমার সঙ্গী কোথায়? আমি শুনেছি, তিনি আমাকে নিয়ে কথা বলেছেন। আমি তাকে পেলে এই পাথর দিয়ে আঘাত করব!”

সে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নাম “মুহাম্মদ” না বলে ব্যঙ্গ করে “মুজাম্মাম” (নিন্দিত) বলছিল।

হযরত আবু বকর (রা.) চুপ করে রইলেন। তিনি অবাক হয়ে ভাবছিলেন, নবীজি ﷺ তো তার একেবারে সামনে বসে আছেন, অথচ সে তাঁকে দেখতে পাচ্ছে না!

উম্মে জামিল কিছুক্ষণ খুঁজে নবীজি ﷺ-কে না পেয়ে চলে গেল।

সে চলে যাওয়ার পর আবু বকর (রা.) বললেন,

“ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে কি আপনাকে দেখতে পায়নি?”

রাসূলুল্লাহ ﷺ মুচকি হেসে বললেন,

“না। আল্লাহ তাকে আমার থেকে আড়াল করে রেখেছিলেন।”

এরপর নবীজি ﷺ বললেন,

“তুমি কি শুনোনি, সে আমাকে কী নামে ডাকছিল? সে আমাকে ‘মুজাম্মাম’ বলছিল। অথচ আমি তো ‘মুহাম্মদ’। আল্লাহ আমাকে তার মুখের কথার অনিষ্ট থেকেও রক্ষা করেছেন।”

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবী ﷺ-কে শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেকে এভাবেই রক্ষা করতেন।

মানুষ যতই ষড়যন্ত্র করুক, আল্লাহ যাকে রক্ষা করেন, তাকে কেউ ক্ষতি করতে পারে না।

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিরুদ্ধে উম্মে জামিল ও তার স্বামী আবু লাহাব যতই অপমান ও ষড়যন্ত্র করেছিল, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছেন এবং নিজের নবীকে সম্মানিত করেছেন।

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

নবুওয়তের দশম বছর। এই বছরটি ইসলামের ইতিহাসে ‘শোকের বছর’ নামে পরিচিত। এ বছর হযরত খাদিজা (রা.) এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর চাচা আব...
20/08/2026

নবুওয়তের দশম বছর। এই বছরটি ইসলামের ইতিহাসে ‘শোকের বছর’ নামে পরিচিত। এ বছর হযরত খাদিজা (রা.) এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর চাচা আবু তালিব ইন্তেকাল করেন। তাঁদের ইন্তেকালের পর মক্কার কাফেরদের নির্যাতন আরও বেড়ে যায়।

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত যায়েদ বিন হারিসা (রা.)-কে সঙ্গে নিয়ে তায়েফে গেলেন। সেখানে তিনি সাকিফ গোত্রের নেতাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং তাদের কাছে সাহায্য ও আশ্রয় চাইলেন।

কিন্তু তারা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে আশ্রয় দেওয়া তো দূরের কথা, বরং কিছু বখাটে ছেলেকে তাঁর পেছনে লেলিয়ে দিল।

তারা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে পাথর মারতে শুরু করল। পাথরের আঘাতে তাঁর পবিত্র শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেল। শরীর থেকে রক্ত ঝরতে লাগল। হযরত যায়েদ (রা.) তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেও আঘাতপ্রাপ্ত হলেন।

অবশেষে রাসূলুল্লাহ ﷺ অত্যন্ত ক্লান্ত ও আহত অবস্থায় উতবা ও শাইবার বাগানে আশ্রয় নিলেন।

সেখানে তিনি আল্লাহর দরবারে সেই ঐতিহাসিক ফরিয়াদ জানালেন—

“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছেই আমার দুর্বলতা, অসহায়ত্ব এবং মানুষের কাছে আমার অপমানের অভিযোগ করছি। আপনি যদি আমার ওপর রাগান্বিত না হন, তাহলে আমি কোনো কিছুর পরোয়া করি না।”

কী গভীর ঈমান! কী অসীম ভরসা!

মক্কায় ফেরার পথে কারনুল মানাজিল নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ ﷺ কিছুটা স্বস্তি পেলেন।

এ সময় হযরত জিবরাঈল (আ.) এসে বললেন,

“আল্লাহ আপনার কওমের আচরণ দেখেছেন। তিনি পাহাড়ের ফেরেশতাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। আপনি যা হুকুম করবেন, সে তা-ই করবে।”

এরপর পাহাড়ের ফেরেশতা সালাম দিয়ে বললেন,

“হে মুহাম্মদ ﷺ! আপনি চাইলে আমি তাদের ওপর দুই পাহাড় চাপিয়ে দেব।”

কিন্তু দয়ার নবী ﷺ প্রতিশোধের পথ বেছে নিলেন না।

তিনি বললেন,

“না। বরং আমি আশা করি, আল্লাহ তাদের বংশধরদের মধ্য থেকে এমন মানুষ বের করবেন, যারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না।”

কী অসাধারণ দয়া!

যারা তাঁকে পাথর মেরে রক্তাক্ত করেছিল, তাদের ধ্বংস করার ক্ষমতা তাঁর সামনে ছিল। কিন্তু তিনি প্রতিশোধ নেননি। বরং তাদের বংশধরদের হেদায়েতের আশা করেছেন।

এটাই আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর মহান চরিত্র—অত্যাচারের জবাবও তিনি দয়া দিয়ে দিয়েছেন।

আজকের তায়েফ যেন সেই দয়ারই এক অনন্য সাক্ষী। যে ভূমিতে একদিন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর রক্ত ঝরেছিল, আজ সেই ভূমিতেই আকাশে ভেসে বেড়ায় আজানের সুমধুর ধ্বনি।

যাদের পূর্বপুরুষেরা একদিন নবীজি ﷺ-কে পাথর মেরেছিল, তাদেরই বংশধরেরা আজ তাঁর নাম শুনে ভালোবাসায় আপ্লুত হয়।

তায়েফ আমাদের শেখায়—অত্যাচারের জবাব সবসময় প্রতিশোধ দিয়ে দিতে হয় না। কখনো কখনো ক্ষমা, ধৈর্য ও দয়ার মাধ্যমেই সবচেয়ে সুন্দর জবাব দেওয়া যায়।

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

দোয়া কবুল হতে দেরি হলে...এক বুযুর্গ বলেন,তুমি যখন সংকটের সময় আন্তরিকভাবে দোয়া করো, আর দীর্ঘদিনেও যখন স্বস্তি বা মুক্তি আ...
18/08/2026

দোয়া কবুল হতে দেরি হলে...

এক বুযুর্গ বলেন,তুমি যখন সংকটের সময় আন্তরিকভাবে দোয়া করো, আর দীর্ঘদিনেও যখন স্বস্তি বা মুক্তি আসে না, তখন হয়তো মনে হতে থাকে,

“আমার ভুল-ত্রুটির কারণে আল্লাহ আমাকে শাস্তি দিচ্ছেন; আমার জন্য দোয়া কবুল হওয়ার দরজা হয়তো চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।”

এই কঠিন অনুভূতি ধীরে ধীরে তোমার আশা কেড়ে নেয়। একসময় তুমি দোয়া করা এবং চেষ্টা করাও ছেড়ে দাও।

কিন্তু আল্লাহ তোমার প্রতি এতটাই দয়ালু যে, তিনি তোমার সঙ্গে প্রতিশোধের মতো আচরণ করবেন, এমনটা ভাবা উচিত নয়।

যদি পাপের কারণে দোয়া কবুল হওয়া বন্ধ হয়ে যেত, তাহলে পৃথিবীতে এমন কেউ থাকত না, যে আল্লাহর অনুগ্রহে রিজিক পেত।

মুক্তি পেতে দেরি হওয়া তোমার বিশ্বাসের পরীক্ষা; একই সঙ্গে এটি তোমার হৃদয়কে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার একটি সুযোগ।

তাই হাত তুলে দোয়া করতে থাকো। কারণ যে সত্তা তোমার কষ্টের মাঝেও তোমার হৃদয়ে দোয়ার আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করেছেন, তিনিই তোমাকে দান করতে চান।

তিনি তোমার জন্য এমন সময়েই তোমার কষ্ট দূর করবেন, যে সময়টি তোমার জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর।

তোমরা হজ ও উমরাহ পরপর করতে থাকো। কারণ এগুলো দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে, যেমন কামারের হাপর লোহা, সোনা ও রূপার ময়লা দূর করে...
17/08/2026

তোমরা হজ ও উমরাহ পরপর করতে থাকো। কারণ এগুলো দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে, যেমন কামারের হাপর লোহা, সোনা ও রূপার ময়লা দূর করে।”
~ রাসূল ﷺ (জামে‘ আত-তিরমিজি)

হজের এই মহান ইবাদতের জন্য যাদের হজের নিয়ত আছে, তাদের জন্য প্রস্তুতির সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ।

📌 সরকারি হজ নিবন্ধনের শেষ সময়: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একবার এক মরুচারী বেদুইন বনী সুলাইম গোত্র থেকে আসছিল। সে একটি 'দব্ব' (মরুভূমির এক ধরনের বড় সরীসৃপ) ধরে তার কাপড়ের ভাঁজে ক...
13/08/2026

একবার এক মরুচারী বেদুইন বনী সুলাইম গোত্র থেকে আসছিল। সে একটি 'দব্ব' (মরুভূমির এক ধরনের বড় সরীসৃপ) ধরে তার কাপড়ের ভাঁজে করে নিয়ে যাচ্ছিল।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে দেখে সে তাঁর নবুওয়াত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করল এবং বলল, "লাত ও উয্যার কসম! আমি আপনার ওপর ততক্ষণ ঈমান আনব না, যতক্ষণ না এই প্রাণীটি আপনার ওপর ঈমান আনে"।

রাসূল (সা.) সরীসৃপটিকে লক্ষ্য করে ডাক দিলেন, "হে দব্ব!" অমনি আল্লাহর এক মহিমা প্রকাশ পেল। প্রাণীটি মানুষের মতো স্পষ্ট আরবি ভাষায় উচ্চস্বরে উত্তর দিল, "লাব্বাইক ওয়া সা'দাইক, হে বিশ্বজাহানের রবের রাসূল!"

নবীজি (সা.) তখন প্রাণীটিকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কার ইবাদত করো?" সে উত্তর দিল, "আমি সেই মহান সত্তার ইবাদত করি যার আরশ আসমানে এবং যার রাজত্ব জমিনে..."।

এরপর নবীজি ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, "আমি কে?" প্রাণীটি সাক্ষ্য দিয়ে বলল, "আপনি হলেন বিশ্বজাহানের রবের প্রেরিত রাসূল এবং সর্বশেষ নবী। যে আপনার কথা মেনে নিল সে সফল হলো, আর যে আপনাকে অস্বীকার করল সে ধ্বংস হলো"।

নিজের চোখের সামনে একটি বন্য প্রাণীর এই অবিশ্বাস্য সাক্ষ্য দেখে বেদুইন বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে যায়। সে তখনই কালিমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করে এবং বলে,

"আল্লাহর কসম! আমি যখন আপনার কাছে এসেছিলাম, তখন আপনি ছিলেন আমার কাছে সবচেয়ে অপ্রিয়। কিন্তু এখন আপনি আমার নিজের জীবনের চেয়েও বেশি প্রিয় হয়ে গেলেন"।

মহাবিশ্বের প্রতিটি ক্ষুদ্র সৃষ্টিও আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.)-এর সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে অবগত ছিল এবং আল্লাহর নির্দেশে তারা তাঁর সত্যতার সাক্ষ্য দিত।

সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ❤️

ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম মহিমান্বিত ও অলৌকিক ঘটনা হলো ‘আশহাবে ফিল’ (হস্তীবাহিনীর ঘটনা) । ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রিয় ন...
11/08/2026

ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম মহিমান্বিত ও অলৌকিক ঘটনা হলো ‘আশহাবে ফিল’ (হস্তীবাহিনীর ঘটনা) । ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর জন্মবর্ষ, অর্থাৎ ‘আমুল ফিল’-এ এই ঘটনা সংঘটিত হয়। এটি পবিত্র কাবা শরিফের মর্যাদা এবং মহান আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরতের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

ইয়েমেনের শাসক আবরাহা লক্ষ্য করল যে সমগ্র আরবের মানুষ কাবা শরিফের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পোষণ করে এবং সেখানে সমবেত হয়। তাই সে ইয়েমেনে একটি বিশাল গির্জা নির্মাণ করে কাবার বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইল। কিন্তু সে উদ্দেশ্যে ব্যর্থ হয়ে কাবা শরিফ ধ্বংস করার সংকল্পে এক বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে মক্কার দিকে অগ্রসর হয়। তার বাহিনীতে যুদ্ধের হাতি থাকায় এ ঘটনাটি ইতিহাসে **‘হস্তীবাহিনীর ঘটনা’ নামে পরিচিত।

সে সময় মক্কার নেতা এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব (রহ.) মক্কার অধিবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলেন। তিনি কাবা শরিফের রক্ষণাবেক্ষণের দায় মহান আল্লাহর ওপর সোপর্দ করে তাঁর সাহায্য কামনা করেন।

অতঃপর মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম কুদরতের প্রকাশ ঘটান। পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা ঝাঁকে ঝাঁকে আবাবিল পাখি প্রেরণ করেন। তারা সিজ্জিল (পোড়ামাটির) পাথর নিক্ষেপ করে এবং আল্লাহ তাআলা আবরাহার বাহিনীকে এমনভাবে ধ্বংস করে দেন যে তারা চিবানো শস্যের খড়ের মতো পরিণত হয়।

এই ঘটনার স্মরণে মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে সূরা আল-ফিল নাজিল করেছেন। এই ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয়— আল্লাহ তাআলাই তাঁর ঘরের প্রকৃত রক্ষক। মানুষের শক্তি, ক্ষমতা ও অহংকার কখনোই আল্লাহর ইচ্ছার ওপর বিজয়ী হতে পারে না।

Address

২২১, সিপাহিবাগ, খিলগাঁও ঢাকা।
Dhaka
1219

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mufti Saiful Dhali posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category