23/08/2026
আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি অত্যন্ত বিদ্বেষী ছিল। সে মানুষের মধ্যে নবীজি ﷺ-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করত এবং নানা ধরনের কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করত।
আল্লাহ তাআলা সূরা লাহাবে তাকে “হাম্মালাতাল হাতাব” অর্থাৎ “লাকড়ি বহনকারী” বলে উল্লেখ করেছেন।
সে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর চলার পথে কাঁটাযুক্ত ডালপালা ও লাকড়ি ফেলে রাখত, যাতে নবীজি ﷺ কষ্ট পান। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ফিতনা ও অপপ্রচার ছড়াত।
সূরা লাহাব নাজিল হওয়ার পর একদিন উম্মে জামিল প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে উঠল। সে হাতে একটি পাথর নিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে খুঁজতে বের হলো। তার উদ্দেশ্য ছিল, সুযোগ পেলে সেই পাথর দিয়ে নবীজি ﷺ-কে আঘাত করা।
সে কাবা শরিফের কাছে এসে দেখল, রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত আবু বকর (রা.)-এর সঙ্গে বসে আছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দেখতে পেল না।
সে শুধু হযরত আবু বকর (রা.)-কে দেখতে পেল এবং জিজ্ঞেস করল,
“হে আবু বকর! তোমার সঙ্গী কোথায়? আমি শুনেছি, তিনি আমাকে নিয়ে কথা বলেছেন। আমি তাকে পেলে এই পাথর দিয়ে আঘাত করব!”
সে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নাম “মুহাম্মদ” না বলে ব্যঙ্গ করে “মুজাম্মাম” (নিন্দিত) বলছিল।
হযরত আবু বকর (রা.) চুপ করে রইলেন। তিনি অবাক হয়ে ভাবছিলেন, নবীজি ﷺ তো তার একেবারে সামনে বসে আছেন, অথচ সে তাঁকে দেখতে পাচ্ছে না!
উম্মে জামিল কিছুক্ষণ খুঁজে নবীজি ﷺ-কে না পেয়ে চলে গেল।
সে চলে যাওয়ার পর আবু বকর (রা.) বললেন,
“ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে কি আপনাকে দেখতে পায়নি?”
রাসূলুল্লাহ ﷺ মুচকি হেসে বললেন,
“না। আল্লাহ তাকে আমার থেকে আড়াল করে রেখেছিলেন।”
এরপর নবীজি ﷺ বললেন,
“তুমি কি শুনোনি, সে আমাকে কী নামে ডাকছিল? সে আমাকে ‘মুজাম্মাম’ বলছিল। অথচ আমি তো ‘মুহাম্মদ’। আল্লাহ আমাকে তার মুখের কথার অনিষ্ট থেকেও রক্ষা করেছেন।”
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবী ﷺ-কে শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেকে এভাবেই রক্ষা করতেন।
মানুষ যতই ষড়যন্ত্র করুক, আল্লাহ যাকে রক্ষা করেন, তাকে কেউ ক্ষতি করতে পারে না।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিরুদ্ধে উম্মে জামিল ও তার স্বামী আবু লাহাব যতই অপমান ও ষড়যন্ত্র করেছিল, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছেন এবং নিজের নবীকে সম্মানিত করেছেন।
সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম