04/09/2026
চকরিয়ার ঘটনায় প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের প্রেক্ষিতে যাত্রীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ মারছা ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষের
গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী মারছা ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের একটি গাড়িতে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মাধ্যমে যেসব তথ্য প্রচারিত হয়েছে এবং হচ্ছে তাতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রতিফলিত হয়নি বলে মারছা কর্তৃপক্ষ মনে করছে। এতে সাধারণ যাত্রী ও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে ।
প্রকৃতপক্ষে এই ধরণের ঘটনা শোনার পরপরই মারছা কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বাসের অন্যান্য যাত্রীর সাথে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সরাসরি ও মুঠোফোনে কথা বলেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের এ.কে খান সেবা ফিলিং স্টেশনে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গাড়িটি জ্বালানি নেওয়ার জন্য থামে। সময় স্বল্পতার কারণে এই সময় যাত্রীদের গাড়ি থেকে না নামার অনুরোধ করা হয় এবং পরবর্তী নতুন ব্রিজ কাউন্টারে যাত্রাবিরতির সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে এ সময় একজন পুরুষ ও একজন নারী যাত্রী কর্তৃপক্ষের অগোচরে গাড়ি থেকে নেমে যান। বিষয়টি চালকের দৃষ্টিগোচর না হওয়ায় গাড়িটি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নতুন ব্রিজ কাউন্টারে পৌঁছে।
ওই দুই যাত্রী পরবর্তীতে সিএনজিযোগে নতুন ব্রিজ কাউন্টারে এসে চালকের সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে সিএনজি ভাড়া দাবি করলে বিষয়টি নিয়ে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় এবং বাসের অন্যান্য যাত্রীরাও এতে জড়িয়ে পড়েন। বাসের ভেতরে বসা A-2 সিটের একজন জনৈক যাত্রী এই ঘটনার জন্য নেমে যাওয়া ওই পুরুষ এবং মহিলাকে পুরোপুরি দোষারোপ করেন এবং তাদের চুপ থাকার পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে গাড়িটি পুনরায় কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়।
সাধারণ যাত্রীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিং স্টেশনে নেমে পড়া ওই দুই যাত্রী মুঠোফোনে তাদের পরিচিত লোকজনকে নির্দিষ্ট স্থানে থাকার নির্দেশ দেন।
সেই নির্দেশ অনুযায়ী গাড়িটি চকরিয়া এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি সংকেত দিয়ে গাড়িটি থামান এবং চালক ও সহকারীর ওপর আকস্মিকভাবে হামলা চালান।
একই সময়ে বাসের ভেতরে থাকা A-2 সিটের ওই যাত্রী কেন পূর্বে নেমে পড়া যাত্রীদের দোষারোপ করলেন তা উল্লেখ করে তার উপরও হামলা চালান।
হঠাৎ সৃষ্ট এ পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে সম্ভাব্য ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের আশঙ্কা করেন। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চালক দ্রুত গাড়িটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।
কিন্তু এই সময় বাসে থাকা ওই দুই যাত্রীর ভেতর মহিলা যাত্রীটি সিটে বসে থাকেন এবং পুরুষ যাত্রীটি হামলাকারীদের সাথে যোগ দেওয়ার কারণে নিচে নেমে পড়েন। পরবর্তীতে এই মহিলা যাত্রী এবং একজন হামলাকারীকে কোন ধরণের আঘাত ছাড়াই চকরিয়া মালুমঘাট টিকিট চেকারের জিম্মায় সুস্থভাবে তুলে দেন চালক এবং হেলপার। তাদেরকে আঘাত করে গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে -এই মর্মে যে তথ্য ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে তা মোটেও সত্য নয়।
মারছা ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের কাছে প্রতিটি যাত্রীর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় যাত্রীদের যে মানসিক চাপ, আতঙ্ক ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
একই সঙ্গে চলন্ত যানবাহনে চালক-সহকারীর ওপর হামলা এবং সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনার অসম্পূর্ণ বা একপাক্ষিক তথ্যের ভিত্তিতে মারছা ট্রান্সপোর্ট সম্পর্কে কোনো ভুল ধারণা তৈরি না করার জন্য সকলের প্রতি আমাদের বিনীত অনুরোধ।
আমরা বিশ্বাস করি, সত্য ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যই বিভ্রান্তি দূর করতে পারে।
কর্তৃপক্ষ
মারছা ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড