16/10/2018
্রেইল
বড় দারোগার হাট,সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম।
অসাধারণ, মুগ্ধকর এবং সেই সাথে রোমাঞ্চকর। সবগুলো কথার অর্থ এক সাথে আপনি খুঁজে পাবেন এই কমলদহ ট্রেইলে এসে এবং হারিয়ে যাবেন লোকালয় থেকে কয়েক ঘন্টার জন্য গহীন পাহাড়-পর্বত আর ঝর্ণায় ঘেরা সবুজ প্রকৃতির মাঝে। সীতাকুণ্ড থেকে মিরসরাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি।এই অঞ্চলের প্রকৃতি সত্যিই বিচিত্র খেয়ালে নিজেদের সাজিয়ে রেখেছে।মন ভোলানো আর অস্থির করা সব ঝর্ণার দেখা পাওয়া যায় এই অঞ্চলে।
শুরুতেই আপনি যে ঝর্নাটি দেখতে পাবেন তার নাম কমলদহ।এটি আসলে বড় একটি ক্যাসকেড।এই ক্যাসকেডের আপস্ট্রিমে অনেকগুলো ছোট বড় ঝর্না সহ অনেকগুলো ছোট বড় ক্যাসকেড দেখতে পাবেন।মূলত কমলদহর আপস্ট্রিমে গিয়ে যত ভেতরে প্রবেশ করবেন ততই মুগ্ধ হবেন।
কমলদহর প্রায় ৪৫/৫০ ফুট উপরে উঠে চড়াই উতরাই পেরিয়ে সোজা হেটে যাবেন ঝিরিপথ ধরে।১৫/২০ মিনিট হাটার পর ঝিরি পথের মুখ দেখতে পাবেন।সামনের ঝিরি পথ ধরে না গিয়ে বাম দিকের ঝিরি পথ ধরে যেতে হবে।কিছুদূর গেলে ডান দিকে আরেকটি ঝিরি পথের মুখ দেখতে পাবেন।কিন্তু ভাল হয় ফিরতি পথে এই ঝিরি পথে গেলে।তাই একদম সোজা যেতে থাকুন।কিছুক্ষন পর আপনি ছাগলকান্দা ঝর্ণায় পৌছে যাবেন।ফিরতি পথে যাওয়ার পথে ডান দিকের ঝিরি পথ এবার বাম দিকে দেখতে পাবেন।বাম দিকের ঝিরি পথ ধরে এগিয়ে যান।একটি ক্যাসকেড পাবেন।ক্যাসকেডের পাস দিয়ে উপরে উঠে পড়ুন।সামনে এগুলে আবারো ২টি ঝিরিপথের দেখা পাবেন।এই ২টি ঝিরিপথের শেষে পাবেন ২টি সুন্দর ঝর্ণা।ঝর্ণা দেখে ফিরে আসুন একদম প্রথম ঝিরি পথের মুখে।এবার যেতে হবে বাম দিকের রাস্তায়।ডান দিকে গেলে কমলদহের মুখ।
বামে ঝিরি পথ ধরে সামনে এগিয়ে যাবেন।যাবার পথে আপনাদের ডিংগাতে হবে অসংখ্য ছোট বড় অনেকগুলো ক্যাসকেড।কোথাও গিয়ে দেখবেন রাস্তা শেষ। তখন আবার পাহাড় বেয়ে রাস্তা বের করে এগিয়ে যেতে হবে।।যতই এগিয়ে যাবেন সামনে ততই উপরের দিকে উঠতে হবে আপনাদের।একদম শেষ ভাগে যে ক্যাসকেড পাবেন তার উপর উঠে বাম দিক দিয়ে উঠতে থাকবেন। এভাবেই অস্থির একটা ট্রেকিং শেষ করে পেয়ে যাবেন একটি চিপা ঝর্ণা। ঝিরি পথের মুখ থেকে আনুমানিক ৫০ মিনিট সময় লেগে যাবে এই ঝর্ণাটির কাছে আসতে।এই ঝর্ণার উচ্চতা প্রায় ৪০/৪৫ ফুটের মত।
ঝিরি পথের মাঝ দিয়ে যখন আপনারা হেঁটে যাবেন তখন পাহাড়ের অদ্ভুত নির্জনতা, পাখিদের কিচির মিচির ডাক তার সাথে ঝিরি পথে পানির কলকল সব্দ সব মিলেয়ে অনাবিল এক মায়াবিনী পরিবেশ আপনাদের অবশ্যই শিহরিত করে তুলবে।মুগ্ধতায় মেতে থাকবেন সারাটা পথ।
শেষ প্রান্তে পৌছাতে আপনার সাহসিকতার পরিচয় দিতে হবে।অনেক বেশি নির্জন তাই ৫/৭ জন এক সাথে যাওয়াটাই ভাল।
যেভাবে যাবেনঃ
ঢাকা থেকে গেলে চট্টগ্রামগামী যে কোন বাসে (ভাড়া মানভেদে ৪০০-১২০০টাকা) সীতাকুন্ডের বড় দারোগার হাট বাজারে নামতে হবে। এছাড়া ট্রেনে ফেনী বা চট্রগ্রাম থেকে বড় দারোগার হাট আসতে পারেন।মেইল ট্রেনে করে সীতাকুন্ডেও সরাসরি আসতে পারেন।
চট্রগ্রামের কদমতলি, বা অলংকার থেকে চয়েস বাসে যেতে পারেন, ভাড়া ৮০ টাকা।লোকাল বাস, লেগুনা,রাইডারে করেও যেতে পারেন।ভাড়া নিবে ৩০/৪০ টাকা। বড় দারোগার হাট নেমে পূর্ব দিকের ইট ভাটার রাস্তা ধরে রেললাইন পেরিয়ে বাম দিকে হাটতে থাকবেন।বামদিকের রাস্তার শেষ প্রান্তে ছরা ধরে ১৫ মিনিট এগিয়ে গেলেই পৌছে যাবেন প্রথম সুন্দরীর কাছে।
কোথায় থাকবেনঃ
মিরসরাইতে থাকার জন্য ভালো কোন আবাসিক হোটেল নেই, তাই আপনাকে সীতাকুন্ডে থাকতে হবে। যদিও সীতাকুন্ডেতেও তেমন ভালো মানের আবাসিক হোটেল নেই। বাজারের ভিতরে কয়েকটি আবাসিক হোটেল আছে।
হোটেল সাইমুন, ভাড়া ৩০০-৫০০ টাকা। যোগাযোগঃ ০১৮২৭৩৩৪০৮২, ০১৮২৫১২৮৭৬৭।
সরকারী প্রতিষ্ঠানের ডাকবাংলো আছে। এছাড়া বারৈয়ারহাট থাকতে পারবেন । গোল্ডেন নামে একটি আবাসিক হোটেল ও জাহেদ নামে একটি বোর্ডিং আবাসিক আছে। একটু ভাল মানে থাকতে চাইলে ভাটিয়ারী থাকতে পারবেন। এখানে দুইটি আবাসিক হোটেল আছে। সিঙ্গেল রুম নন এসি ৬০০ টাকা। দুই বিছানার এসি রুম ১২০০ টাকা।
কোথায় খাবেনঃ
সীতাকুন্ডে কয়েকটি খাবার হোটেল আছে। আল আমীন হোটেলটির খাবারের মান ভাল।
#ভ্রমনের_জায়গাটিতে_ময়লা_আবর্জনা_ফেলে_এসে_এর_পরিবেশ_এবং_সৌন্দর্য_নষ্ট_করবেন_না।