Shahjahan Chy

Shahjahan Chy i love to visit new places always

08/11/2025

জীবনের সন্ধিক্ষণে.......
🗣সময় খুব দ্রুতই চলে যাচ্ছে এভাবেই কখন যে আমাদের দুনিয়ার সময়টুকু শেষ যাবে তা মহান আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানি না।
স্বার্থের জুয়াখেলায় মত্ত এই বিচিত্র পৃথিবীতে আমরা এতটাই ব্যস্ত যে জীবনের জন্য ধ্রুব মৃত্যুর কথাটাই ভুলে গেছি, এমনকি সামনে দিয়ে মৃত মানুষের লাশ নিয়ে গেলেও মনে হয় না মরব! অথচ ঠিক আগামী কালই আমাদের সবাইকে নিম্ন মানের সেলাই বিহীন কাপড় নিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। এর পরও আমরা ............।

আল্লাহর কাছে দোয়া করুন আল্লাহরই শেখানো ভাষায়
১) .... হে আমাদের প্রতিপালক, এ দুনিয়ায়ও তুমি আমাদের কল্যাণ দান করো, পরকালেও তুমি আমাদের কল্যাণ দাও; (সর্বোপরি) তুমি আমাদের আগুনের আযাব থেকে নিস্কৃতি দাও। (সূরা বাকারা : আয়াত ২০১)

২) .... হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের সবরের তাওফীক দান করো, দুশমনের মোকাবেলায় আমাদের কদম অটল রাখো এবং অবিশ্বাসী কাফেরদের মোকাবেলায় তুমি আমাদের সাহায্য করো; (সূরা বাকারা : আয়াত ২৫০)

৩) .... হে আমাদের মালিক, যদি আমরা কিছু ভুলে যাই, (কোথাও) যদি আমরা কোনো ভুল করে বসি, তার জন্যে তুমি আমাদের পাকড়াও করো না, হে আমাদের মালিক, আমাদের পূর্ববর্তী (জাতিদের) ওপর যে ধরনের বোঝা তুমি চাপিয়েছিলে তা আমাদের ওপর চাপিয়ো না, হে আমাদের মালিক, যে বোঝা বইবার সামর্থ আমাদের নেই তা তুমি আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ো না, তুমি আমাদের ওপর মেহেরবানী করো । তুমি আমাদের মাফ করে দাও । আমাদের ওপর তুমি দয়া করো । তুমিই আমাদের (একমাত্র আশ্রয়দাতা) বন্ধু, অতএব কাফেরদের মোকাবেলায় তুমি আমাদের সাহায্য করো । (সূরা বাকারা : আয়াত ২৮৬)

৪) .... হে আমাদের মালিক, আমরা আমাদের নিজেদের ওপর যুলুম করেছি, তুমি যদি আমাদের মাফ না করো তাহলে অবশ্যই আমরা চরম ক্ষতিগ্রস্তদের দলে শামিল হয়ে যাবো । (সূরা আল আ’রাফ : আয়াত ২৩)

৫) .... হে আমাদের মালিক, (তুমি) আমাদের এ যালেম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করো না । (সূরা আল আ’রাফ : আয়াত ৪৭)

৬) .... হে আমাদের মালিক, আমাদের এবং আমাদের জাতির মাঝে তুমি (সঠিক একটা) ফয়সালা করো দাও, কারণ তুমিই হচ্ছো সর্বোত্তম ফয়সালাকারী । (সূরা আল আ’রাফ : আয়াত ৮৯)

৭) .... হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা দাও এবং (তোমার) অনুগত বান্দা হিসেবে তুমি আমাদের মৃত্যু দিয়ো । (সূরা আল আ’রাফ : আয়াত ১২৬)

৮) ... হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের যালেম সম্প্রদায়ের অত্যাচারের শিকারে পরিণত করো না । এবং তোমার একান্ত রহমত দ্বারা তুমি আমাদের (ফেরাউন ও তার) কাফের সম্প্রদায়ের হাত থেকে মুক্তি দাও । ( সূরা ইউনুস : আয়াত ৮৫-৮৬)

৯) হে আমাদের মালিক, আমরা যা কিছু গোপন করি এবং যা কিছু প্রকাশ করি, নিশ্চয়ই তুমি তা সব জানো; আসমানসমূহে কিংবা যমীনের (যেখানে যা কিছু ঘটে এর) কোনোটাই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না । (সূরা ইবরাহীম : আয়াত ৩৮)

১০) হে আমার মালিক, তুমি আমাকে নামায প্রতিষ্ঠাকারী বানাও, আমার সন্তানদের মাঝ থেকেও (নামাযী বান্দা বানাও), হে আমাদের মালিক, আমার দোয়া তুমি কবুল করো । হে আমাদের মালিক, যেদিন (চূড়ান্ত) হিসাব কিতাব হবে, সেদিন তুমি আমাকে, আমার পিতা মাতাকে এবং সকল ঈমানদার মানুষদের (তোমার অনুগ্রহ দ্বারা) ক্ষমা করে দিয়ো । (সূরা ইবরাহীম : আয়াত ৪০-৪১)

১১) .... হে আমাদের মালিক, একান্ত তোমার কাছ থেকে আমাদের ওপর অনুগ্রহ দান করো, আমাদের এই কাজকর্ম (আঞ্জাম দেয়ার জন্যে) তুমি আমাদের সঠিক পথ দেখাও । (সূরা আল কাহফ : আয়াত ১০)

১২) .... হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের মাফ করে দাও, আমাদের আগে আমাদের যে ভাইয়েরা ঈমান এনেছে তুমি তাদেরও মাফ করে দাও এবং আমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে, তাদের ব্যাপারে আমাদের মনে কোনো রকম হিংসা বিদ্বেষ রেখো না, হে আমাদের মালিক, তুমি অনেক মেহেরবান ও পরম দয়ালু । ( সূরা আল হাশর : আয়াত ১০)

১৩) .... হে আমাদের মালিক, আমরা তো কেবল তোমার ওপর ভরসা করেছি এবং আমরা তোমার দিকেই ফিরে এসেছি এবং (আমাদের) তো তোমার দিকেই ফিরে যেতে হবে । হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের (জীবনকে) কাফেরদের নিপীড়নের নিশানা বানিয়ো না, হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের গুনাহ্ খাতা ক্ষমা করে দাও, অবশ্যই তুমি পরাক্রমশালী ও পরম কুশলী । (সূরা আল মোমতাহানা : আয়াত ৪-৫)

১৪) .... হে আমাদের মালিক, আমাদের জন্যে আমাদের (ঈমানের) জ্যোতিকে (জান্নাতের জ্যোতি দিয়ে তুমি) পূর্ণ করে দাও, তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও, অবশ্যই তুমি সব কিছুর ওপর একক ক্ষমতাবান । (সূরা আত তাহরীম : আয়াত ৮)

হে আল্লাহ, তুমি আমাদের দোয়া কবুল করে নাও।
হে আল্লাহ এই করোনা মহামারী থেকে আমাদের রক্ষা করো। #আমীন

ঈদ আনন্দ -২০২৫Shahjahan Chy Shahjahan Chy
04/04/2025

ঈদ আনন্দ -২০২৫
Shahjahan Chy
Shahjahan Chy

04/04/2025

"নিরবতার হল প্রভুর ভাষা, বাকি সব দূর্বল অনুবাদ"
-হযরত জালালুদ্দিন রুমি

বিজয়ের অগ্রিম শুভেচ্ছা ❤❤️❤️❤️❤️
15/12/2024

বিজয়ের অগ্রিম শুভেচ্ছা ❤❤️❤️❤️❤️

জীবনটা তেজপাতা চেয়ের কম না! সব জায়গায় আর  সবএ গিরগিটির ন্যায় সৃষ্টির সেরা জীব নামে খ্যাত  মানুষ নামের অ.....নুষ ゚       ...
10/12/2024

জীবনটা তেজপাতা চেয়ের কম না!
সব জায়গায় আর সবএ গিরগিটির ন্যায় সৃষ্টির সেরা জীব নামে খ্যাত মানুষ নামের অ.....নুষ
゚ ゚viralシ

No caption
29/11/2024

No caption

সঞ্চয়ের নে*শায় জীবনের স্বাদ হারাবেন না!☑💢চাকরি শুরু করতে না করতেই একদল সহকর্মী তাদের ব্যাংক-ব্যালেন্স, বিত্ত-বৈভবের গল্প...
19/11/2024

সঞ্চয়ের নে*শায় জীবনের স্বাদ হারাবেন না!☑💢
চাকরি শুরু করতে না করতেই একদল সহকর্মী তাদের ব্যাংক-ব্যালেন্স, বিত্ত-বৈভবের গল্প শোনাবে। শুনতে শুনতে আপনারও লোভ হবে! তাদের সম্পদের সমপরিমাণ সম্পদ গড়ার জন্য আপনার বেতনের অধিক জমা করার ইচ্ছা জাগবে! যেহেতু আপনারও সুযোগ আছে! তাদের অমুক হয়েছে, তমুক হবে! এবার আপনিও পাল্লা দিয়ে শখ হ*ত্যা করে, পরিবারের সময় ছিনিয়ে নিয়ে সম্পদ জমা করতে শুরু করেছেন! শুধু এটুকু মনে রাখবেন, সামর্থ্যরে অধিক সঞ্চয়ের মনোবৃত্তি জীবনকে সহজ করে না বরং আরো জটিল করে। মানসিক দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা বাড়ায়। মাত্রাতিরিক্ত সঞ্চয়ের ইচ্ছা মানুষকে কঞ্জুস ধরনের কৃপণ করে।

যার কাছ থেকে আপনি সঞ্চয়ের গল্প শুনেছেন তার কাজের বয়স ১৫-২০ বছর। তার শখ ম*রে গেছে। তাকে টাকার নে*শায় ধরেছে। আপনার সীমিত আয়ের সবটাই যদি সঞ্চয়ে মনস্থির করেন তবে মোটামুটিভাবে আপনিও মরে গেছেন। সাধ্যের মধ্যে শখ পূরণের বাসনা যদি না থাকে, নিজেকে সম্পদ জড়ো করার গুদাম মনে হয়, তবে আপনি ঘুষ খাবেন, দুর্নীতি করবেন! মোটকথা নীতিহীন সব কাজের পক্ষে আপনার অবস্থান ও উপস্থিতি থাকবে। কেবল সঞ্চয়ের মনোভাব ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করে না বরং আরো ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এই সঞ্চয় সঞ্চয় খেলায় মানুষ হাশরও হারায়! কারো সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে সঞ্চয় করা মানেই মানুষ বাছ-বিচারের বোধ হারায়।

এখনো জীবন শুরুই হয়নি অথচ শুধু সঞ্চয় করার নে*শায় পেলে এই জীবনটার রং-রস, গন্ধ স্পর্শ করা হবে না। প্রিয়জন সময়-সঙ্গ পাবে না। অধিকাংশের সঞ্চয় সন্তানদের জন্য। কেননা যারা সঞ্চয় করে তাদের খুব কম মানুষেই নিজের সঞ্চয় ভোগ করতে পারে। ওষুধ-পথ্যে কিছুটা কাজে আসে হয়তো! সন্তানের জন্য সম্পদ সঞ্চয়ের চেয়ে শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। সন্তান মানুষ হলে তার চেয়ে বড় সঞ্চয় আর নেই।

নীতিপদ্ধতি ভুলে অর্থ কামাই করে তা সন্তানের জন্য সঞ্চয় করলে সেই সন্তান দুঃখের কারণ হবে। এক জীবনে কত অর্থ লাগে? আমাদের যে পরিমাণ লোভ তার সিকিভাগও সুখী জীবনের জন্য লাগে না। অথচ মনুষ্যত্ব খুইয়ে, সামাজিকতা ভুলে, ধর্ম-প্রথা ভেঙে আমরা সম্পদের জন্য শ*য়তানের সঙ্গে রোজ প্রতিযোগিতা করছি। পরিমাণ ভাবছি কি না জানি না। যে সম্পদ রেখে যাচ্ছি, যে সন্তান আমাদের উত্তরাধিকারী তা কিংবা তারা আদৌ কাজে আসবে কি না তা নিশ্চিত না। দুর্নীতিবাজ অভিভাবকদের সন্তানরা বিপথগামী সমাজ সাক্ষ্য দিচ্ছে। যেহেতু ভবিষ্যৎ আছে সেহেতু সঞ্চয় প্রয়োজন। তবে সেটা আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে। মাত্রা অতিক্রম করা ঠিক হবে না। সৎভাবে সম্মান নিয়ে জীবিকা নির্বাহের পরে, অপচয় রোধ করে উদ্বৃত্ত অঙ্ক সঞ্চয় করা জরুরি। তবে সেই উৎসে যদি কারো বঞ্চনার হাহাকার থাকে, কারো চোখের পানির মিশেল থাকে কিংবা লেগে থাকে কারো দীর্ঘশ্বাস- তবে তা ধ্বংসের দরজা উন্মুক্ত করবে। বিত্ত-বৈভবের অভাব নেই অথচ সন্তান মানুষ হয়নি- এই জীবনের সব আয়োজন বৃথা। ত্যাগ করে যাদের ভোগের জন্য সম্পদ রেখে যাওয়া হচ্ছে তাদের ধ্বংসের কাজেও এই সঞ্চয় জ্বালানি হতে পারে।

ভো*গবাদীরা টাকাকে দ্বিতীয় ঈ*শ্বর বানিয়েছে। পুঁজিবাদীরা তাতে ঢেলেছে ফুয়েল। অথচ চাহিদার সঙ্গে সক্ষমতা ও নৈতিকতা মিল থাকা জরুরি ছিল। নৈতিকভাবে দেউলিয়া সমাজব্যবস্থা সে সুযোগ রাখেনি। তারা শিখিয়েছে, যেভাবে পার কামাই করো এবং জমাও। দেখিয়েছি, টাকার কাছে ক্ষমতা ও সততা অসহায়। অথচ মানুষের বিচার গুণে-মনে হওয়া উচিত ছিল; টাকাতে নয়।

রাজু আহমেদ: লেখক।
সংগৃহীত ©

পীর/মোর্শেদ এর বিষয়ে কোরআন, হাদীস, ইজমা, কিয়াসে কি উল্লেখ আছে?হযরত ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্নিত রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ...
13/11/2024

পীর/মোর্শেদ এর বিষয়ে কোরআন, হাদীস, ইজমা,

কিয়াসে কি উল্লেখ আছে?
হযরত ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্নিত রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেন- যে ব্যক্তি যেমন লোককে ভালবাসে পরকালে সে তেমন লোকের সাথেই থাকবে (বুখারী ও মুসলিম) ।
সে জন্য ইসলামি শরীয়াতে সর্বস্তরের মুসলমানদের জন্য নেককার কামেল ওলী আউলিয়া, পীর মাশায়েখদের সঙ্গ লাভ করা ও তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করাকে ইসলামী শরীয়াত ফরজ করে দিয়েছে । (খোতবায়ে ছালেহিয়া)
শাহ্‌ সুফী সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (রহঃ) বলেন- নাকেছ (ভন্ড) পীরের হাতে হাত দিলে পীর-মুরীদ উভয়েই জাহান্নামী। তাই কামেল-মোকাম্মেল পীর চিনিয়া পীর ধরা আবশ্যক।
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ফরমান – “নেককার লোকদের সাহচার্য লাভ ফাছেক ও বদকার লোকের সাহচার্যের দৃষ্টান্ত যথাক্রমে কস্তরী বিক্রেতা ও কামারের হাঁফর ফুঁকদানকারীর ন্যায় । কস্তরী বিক্রেতার কাছে তুমি সুঘ্রাণ পাবেই । পক্ষান্তরে কামারের হাঁফরের অগ্নির ফুল্কি তোমার জামা কাপড় জ্বালিয়ে দিবে । অথবা তার দুর্গন্ধ তো তুমি পাবেই । ঠিক তেমনি নেককার ও বদকার লোকের সোহবত সঙ্গতা লাভের অবস্থাও অনুরূপ । (বুখারী ও মুসলিম)
নেককারদের সঙ্গতা লাভ ও তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ সম্ভব । কারন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর প্রিয়জন নেককার ওলি আউলিয়াগনই হলেন আল্লাহ পাক ও তার দ্বীনের পথের অভিসারীদের মধ্যে একমাত্র মাধ্যম ও যোগসূত্র।
এই সম্পর্কে কোরআনে উল্লেখ আছে-
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَٱبۡتَغُوٓاْ إِلَيۡهِ ٱلۡوَسِيلَةَ وَجَـٰهِدُواْ فِى سَبِيلِهِۦ لَعَلَّڪُمۡ تُفۡلِحُونَ
“হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহর নিকট অর্জন করার জন্য মাধ্যম অন্বেষণ কর ও তাঁহার উদ্দ্যেশে সংগ্রাম কর যাহাতে তোমরা সফলকাম হইতে পার।” (৫ নং সূরা মায়েদা আয়াত নং ৩৫)
এই আয়াতের তাফসীর সমূহ নিম্নরূপ –
হযরত আবুল ফিদা ইমাদুদ্দীন ইসমাইল ইবনে উমার ইবনে কাসীর (রহঃ) সাহেব কর্তৃক রচিত তাফসীরে ইবনে কাসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন,
তাফসীরের ব্যপারে সর্বজনস্বীকৃত তাফসীরের বিষয়ে অত্যাধিক জ্ঞানী সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ وسيلة অর্থ হচ্ছে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য মাধ্যম।
হযরত মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ শফী উখাড়ভী (রহঃ) সাহেব কর্তৃক রচিত তাফসীরে মা’আরেফুল কোরআন গ্রন্থে আছে যে-
وسيلة শব্দের আভিধানিক ব্যাখ্যা সাহাবী ও তাবেয়ীদের তাফসীর থেকে জানা যায় যে, যে বস্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যম হয়, তাই মানুষের জন্য আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার মাধ্যম।
হযরতুল আল্লামা জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে আবী বকর আস সুয়ুতী (রহঃ) সাহেব কর্তৃক রচিত তাফসীরে জালালাইন ও হযরত মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ শফী উখাড়ভী (রহঃ) সাহেব কর্তৃক রচিত তাফসীরে মা’আরেফুল কোরআন উভয়ে গ্রন্থে উল্লেখ আছে-
وابتغوا اليه الو سيلة – আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম অন্বেষণ কর।
وسيلة শব্দটি وسل ধাতু থেকে উদ্ভুত। এর অর্থ সংযোগ স্থাপন করা। এ শব্দটি ص س উভয় বর্ণ দিয়ে প্রায় একই অর্থে আসে। পার্থক্য এতটুকু যে, وصل এর অর্থ যে কোন রূপে সাক্ষাৎ করা ও সংযোগ করা এবং وسل এর অর্থ আগ্রহ ও সম্প্রীতি সহকারে সাক্ষাৎ করা। তাই وصلة ও وصيله ঐ বস্তুকে বলে, যা দুই বস্তুর মধ্যে মিলন ও সংযোগ স্থাপন করে- তা আগ্রহ ও সম্প্রীতির মাধ্যমে হোক অথবা অন্য কোন মাধ্যমে। পক্ষান্তরে وسيلة ঐ বস্তুকে বলা হয়, যা একজনকে অপরজনকে সাথে আগ্রহ ও সম্প্রীতি সহকারে সংযুক্ত করে দেয়া। (ছিহাহ, জওহরী, মুফরাতুল কোরআন, লিসানুল আরব)
وسيلة শব্দটির সম্পর্ক আল্লাহর সাথে হলে ঐ বস্তুকে বলা হবে, যা বান্দাকে আগ্রহ ও মহব্বত সহকারে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়।
হযরত মহিউদ্দীন হোসাইন কাদরী (রহঃ) কর্তৃক রচিত তাফিসীরে কাদরী গ্রন্থে উল্লেখ আছে-
নবী-রসুল, সিদ্দিকীন, সালেহীনদেরকে মাধ্যম করিয়া অর্থাৎ তাঁহার আনুগত্য স্বীকার করিয়া যে সৎকার্য করিবে সে সফলকাম হইবে অন্যথা সফলকাম হইবে না।
হযরতুল আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী (রহঃ) সাহেব কর্তৃক রচিত তাফসীরে রুহুল বয়ানের ১ম খন্ড ৫৬০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
وسيلة ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয় না। আর এই وسيلة হল শরীয়াতের ওলামা হক্কানি এবং তরিকতের পীর মাশায়েখগন। শরীয়তে এই وسيلة ধরার হুকুম হল ওয়াজিব । (ছালেহিয়া ২১৮)
শায়েখ শাহ্‌ আবদুল আজীজী মোহাদ্দেসে দেহলভী (রহঃ) সাহেব কর্তৃক রচিত তাফসীরে আজিজি গ্রন্থে উল্লেখ আছে,
“যাদের আদেশ পালন করা আল্লাহর হুকুম মতে ফরজ, তারা হলেন শরীয়তে মুজতাহিদ ইমামগন এবং তরিকতের শায়েখ বা পীর/মোর্শেদ ইমামগণ। তাদের যে কোন একজনের আদেশ পালন করা সাধারণ উম্মাতের প্রতি ওয়াজিব । (আনওয়ারে মুকাল্লেসীন ১৮ পৃঃ,
হযরতুল আল্লামা শিহাবুদ্দীন আলুসী (রহঃ) সাহেব কর্তৃক রচিত তাফসীরে রুহুল মায়ানী, হযরতুল আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী (রহঃ) সাহেব কর্তৃক রচিত তাফসীরে রুহুল বয়ান, হযরত মাওলানা কেরামত আলী (রহঃ) সাহেব কর্তৃক রচিত মেশকাত শরীফের শরাহ মোজাহেরে হক এবং হযরত মাওলানা কেরামত আলী (রহঃ) সাহেব কর্তৃক রচিত নূরুন আলা নূর গ্রন্থেদ্বয়ে উল্লেখ্য আছে যে-
وسيلة শব্দের অর্থে পীর ধরা ওয়াজিব বলা হইয়াছে।
হযরত মাওলানা শাহ ওয়ালিউল্লাহ মোহাদ্দেছে দেহলভী (রহঃ) সাহেব কর্তৃক রচিত কাওলুল জামীল নামক গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন-
কামেল পীরের নিকট আল্লাহ প্রাপ্তির জন্য মুরিদ হওয়া উক্ত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়। কারণ এখানে وسيلة শব্দের অর্থ পীর/মুর্শিদের কাছে বায়াআত গ্রহণ করা। প্রথমত এখানে وسيلة ঈমান অর্থে প্রযোজ্য নয়। কারণ-
يا يها الذين امنوا
দ্বারা মুমিনগণকে সম্বোধন করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত এর অর্থ নেক/সৎকাজও হতে পারে না। কারণ تقوى শব্দ দ্বারা নেক/সৎকাজ উল্লেখ করা হয়েছে। শব্দের تقوى অর্থ আদেশ পালন করা এবং নিষিদ্ধ কাজ হতে বিরত থাকা। তাই وسيلة শব্দের অর্থ জিহাদও হতে পারে না। কারণ ইহাও تقوى শব্দের মধ্যে নিহিত রয়েছে। ফলে وسيلة শব্দের অর্থ মুর্শিদ হওয়াই যুক্তিসঙ্গত।
শায়েখ শাহ্‌ ইসমাইল (রহঃ) সাহেব কর্তৃক রচিত ছেরাতোল মোস্তাকীম নামক গ্রন্থে লিখিয়াছেন যে-
খোদা প্রাপ্তির পথের ওছিলা হচ্ছেন মুর্শিদ বা পীর। হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং তাহার নিকট পৌঁছিবার জন্য ওছিলা (মুর্শিদ/পীর) তালাশ কর ও উক্ত পথে কঠোর সাধনা করিতে থাক অবশ্য ইহাতে মুক্তির আশা আছে। সুরা মায়েদা আয়াত নং ৩৫ অর্থাৎ, উক্ত আয়াতে খোদার নৈকট্য লাভের পথের পাথেয় স্বরূপ ৪টি বস্তুর বিশেষ প্রয়োজন-ঈমান, ভয়, ওছিলা ও সাধনা। আল্লাহ প্রেমিকগণ এই আয়াতকে প্রেমিকের ঐশী পথের ইশারা মনে করেন এবং ওছিলা দ্বারা মুর্শিদকেই বুঝেন। সুতরাং মুক্তি জন্য কঠোর সাধনা করার পূর্বেই পথ প্রদর্শক (মুর্শিদ/পীর) সংগ্রহ করা অবশ্য কর্তব্য।
জামনার মোজাদ্দেদ হযরত মাওলানা শাহ্‌ সুফী সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (রহঃ) হুজুর পাক বলেন- প্রত্যেক নর-নারী জন্য কামেল-মোকাম্মেল মোর্শেদ ধরা আদর্শ ফরজ।
কামেল পীরের মুরীদ হওয়া ওয়াজেব। (তাফছিরে জালালাইন, তাফছিরে আজিজী, তাফছিরে রুহুল বয়ান, কওলুল জামীল, ছেরাতোল মোস্তাকীম)।
জামানার মোজাদ্দেদ হযরত মাওলানা শাহ্‌ সুফী সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (রহঃ) হুজুর কেবলাজান কর্তৃক রচিত নুরুল আসরার (নূর তত্ত্ব) নামক গ্রন্থে আছে উল্লেখ করেন যে- যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে উঠা-বসা করার অর্থাৎ নৈকট্য লাভের ইচ্ছা করে, তাহার উচিৎ তাসাউফ/তরীকত পন্থীগনের সঙ্গ লাভ করা।
হযরত ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) সাহেব কর্তৃক রচিত এহইয়া উল উলুম নামক গ্রন্থে উল্লেখ্য আছে যে-
মুরীদের পথ নির্দেশের জন্য নিঃসন্দেহে একজন শায়েখ বা পীর/মুর্শিদ গ্রহণ করা আবশ্যক।
জামানার মোজাদ্দেদ হযরত মাওলানা শাহ্‌ সুফী সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (রহঃ) হুজুর সাহেব কর্তৃক রচিত নুরুল আসরার (নূর তত্ত্ব) নামক গ্রন্থে কামেল-মোকাম্মেল মোর্শেদ এর লক্ষণ উল্লেখ করিয়াছেন। সেখান থেকে অল্প কয়েকটি এখানে উল্লেখ করছি-
যাহাকে দেখিলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়, তিনিই অলীয়ে কামেল। ইহা সকলের জন্য নয়।যাহাদের দিলে আল্লাহর জেকের জারী নাই অর্থাৎ যাহাদের দিলে আল্লাহ আল্লাহ জেকের হয় না, তাহারা ইহা বুঝিতে পারিবে না। যাহাদের দিলের অলসতা দূর হইয়াছে অর্থাৎ যাহাদের আত্মা জিন্দা হইয়াছে, তাহারাই উহা বুঝিতে সক্ষম হইবে। যিনি কামেল মোকাম্মেল পীর/মোর্শেদ হইবেন কোরআন, হাদীস, ইজমা, কিয়াস, তাফসীর, ফিকহ ইত্যাদিতে তাহার জ্ঞান থাকিবে। শরীয়তের বিধানসমূহ ভালরূপে জানা থাকিবে এবং এলমে লাদ্দুনীতে তাহার পূর্ণ অধিকার থাকিবে। শরীয়তের আদেশ-নিষেধ পালন ও তদনুযায়ী কাজ করিবেন। শরীয়ত বিরুদ্ধ কাজ হইতে দূরে থাকিবেন। খোদাকে ভয়কারী লোক ও পরহেজগার হইবে। কামেল-মোকাম্মেল পীরের ভিতর তিনটি গুণ থাকা একান্ত আবশ্যক-
১। পীরের নিকট হইতে ছবকসমূহ আয়ত্ব করা,
২। ফায়েজ হাছেল করা,
৩। মুরিদদিগকে ফায়েজ পৌঁছানোর ক্ষমতা থাকা।
যিনি কামেল-মোকাম্মেল হইবেন তিনি লোভ শুন্য হইবেন। কেননা লোভী ব্যক্তি কখনও কামেল-মোকাম্মেল হইতে পারে না।
হযরত কাযী সানাউল্লাহ পানিপথী (রহঃ) সাহেব কর্তৃক রচিত তাফসীরে মাযহারী গ্রন্থে উল্লেখ আছে,
অন্তরের কাঠিন্যই হচ্ছে সমস্ত গোনাহের ভিত্তি । নফসের গোলামী এবং অসৎ ধারনার উৎপত্তি এখান থেকেই হয়। যা হিংস্রতা ও পাশবিকতার দিকে নিয়ে যায়।
তাই রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেন –“মানুষের শরীরে একপিণ্ড মাংস আছে তা যখন সুস্থ থাকে তখন সমস্ত দেহ সুস্থ থাকে, আর যখন তা অসুস্থ হয় তখন সমস্ত দেহই অসুস্থ হয়ে যায়। সেই মাংসপিণ্ডের নামই হল ক্কালব।”
ক্কাল্‌বের একাগ্রচিত্ততা না হওয়া পর্যন্ত পাপমুক্ত অন্যায়মুক্ত হওয়া অসম্ভব। নামাজের পবিত্রতাও হুজুরী ক্কাল্‌বের উপর নির্ভরশীল। আর তরিকার (ভণ্ড পীর/মোর্শেদ নয় কেননা ভন্ড পীর/মোর্শেদ এর হাতে হাত দিলে পীর-মুরীদ উভয়েই জাহান্নামী।পীর চিনিয়া পীর ধরা আবশ্যক।) খাঁটি পীর মোর্শেদের মাধ্যমে আল্লাহর পথে অগ্রসর হবার সাধনায় লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত একাগ্রচিত্ত বা হুজুরী ক্কাল্‌ব হওয়া সম্ভব নয়। সে জন্য তোমরা কামিল মোর্শেদের তরীকাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো। তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা ইহা ওয়াজিব।
হযরত মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ শফী উখাড়ভী (রহঃ) সাহেব কর্তৃক রচিত তাফসীরে মা’আরেফুল কোরআন গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে-
ঈমান ও সৎকর্ম যেমন আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্তর্ভুক্ত তেমনি পয়গাম্বর এবং নেককার কামিল বান্দাদের সংসর্গ ও মুহাব্বাত আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্তর্ভুক্ত। কারন পয়গাম্বর ও নেককার কামেল লোকদের সংসর্গ ও মুহাব্বাত আল্লাহর সন্তষ্টি লাভের উপায়-মাধ্যম বা অসিলা।
হযরত মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ শফী উখাড়ভী (রহঃ) সাহেব কর্তৃক রচিত তাফসীরে মা’আরেফুল কোরআন গ্রন্থে সূরা তওবা ১১৯ আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করেছেন- “যাদের ক্কাল্‌বে আল্লাহর জিকির দ্বারা প্রভাবান্বিত নয় এবং হারাম মাকরুহ কাজ করে এমন নাফরমানদের সাহচার্য ত্যাগ কর, সাদেকীন অর্থাৎ হক্কানি ওলামা মাশায়েখ কামেল নেককার বান্দাগণের সাহচার্য অবলম্বন করা ওয়াজিব ।এরা আলেমে জাহের ও বাতেন নিয়ত-ইচ্ছা, কথা ও আমলে–এলেমে এক সমান।
হযরত মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ শফী উখাড়ভী (রহঃ) সাহেব কর্তৃক রচিত তাফসীরে মা’আরেফুল কোরআন গ্রন্থে সূরা নেসার ৫৯ আয়াতে ৫ পারায় আছে এরাই উলুল আমর, আলেম ফকীহ্‌ মাশায়েখে তরীকত নায়েবে নবী। তাদের হাতেই দীনি ব্যবস্থার দায়িত্ব অর্পিত। এজন্য তাদের হুকুম মান্য করা ওয়াজিব।
#পীর/মুর্শিদ/কোরআন-হাদিসের আলোকে।

Address

Raozan
Chittagong
4340

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shahjahan Chy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share