05/06/2026
১. জাহাজের ইতিহাস: মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই নদী ও সমুদ্রে যাতায়াতের জন্য নৌকা ব্যবহার করে আসছে। তবে আধুনিক বড় জাহাজের সূচনা হয় শিল্প বিপ্লবের পর, যখন কাঠের বদলে লোহা এবং পালের বদলে বাষ্পীয় ইঞ্জিন (Steam Engine) ব্যবহার শুরু হয়।
২. জাহাজের প্রকারভেদ: ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে জাহাজ বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। যেমন:
কার্গো বা মালবাহী জাহাজ: পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয় (যেমন: কনটেইনার জাহাজ, অয়েল ট্যাঙ্কার)।
যাত্রীবাহী জাহাজ (Cruise Ship): বিলাসবহুল ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এগুলো চলন্ত শহরের মতো, যেখানে হোটেল, সুইমিং পুল, থিয়েটার সবই থাকে।
যুদ্ধজাহাজ: নৌবাহিনীর প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয় (যেমন: বিমানবাহী রণতরী বা Aircraft Carrier)।
৩. পানির ওপর ভেসে থাকার রহস্য: জাহাজ লোহা বা ইস্পাতের মতো ভারী জিনিস দিয়ে তৈরি হলেও এটি পানিতে ডুবে যায় না। এর কারণ হলো আর্কিমিডিসের সূত্র। জাহাজের ভেতরের অংশটি ফাঁপা থাকে এবং এর বিশাল আকৃতির কারণে এটি প্রচুর পরিমাণ পানি অপসারণ করে। এই অপসারিত পানির ওজন জাহাজের ওজনের সমান বা বেশি হওয়ায় এটি পানিতে ভেসে থাকে।
৪. বিশ্ব বাণিজ্যের মেরুদণ্ড: বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৮০% থেকে ৯০% আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সমুদ্রপথের মাধ্যমে জাহাজে করে সম্পন্ন হয়। এটি অন্য যেকোনো মাধ্যমের চেয়ে সাশ্রয়ী।
৫. দিকনির্ণয় পদ্ধতি: আধুনিক জাহাজগুলো পথ চলার জন্য রাডার (Radar), জিপিএস (GPS), এবং স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেমের ওপর নির্ভর করে। ফলে গভীর সমুদ্রেও জাহাজগুলো নিখুঁতভাবে পথ চলতে পারে।