09/05/2021
আলতো মাখা এই ছবি তে-একটু ঝাপসায় দেখতে পাওয়া যায়। বাড়ির পেছনের আঙ্গিনায় ছিলাে একটি কলা গাছ।ছোট বয়স দুষ্টুমির ছলেই বসালাম রসের হাঁড়ি।টপ টপ করে করে রস পড়তেছে দেখেই হাসি তে মনটা ভরে গেলাে।সেকালের গোয়ালিনি পটের প্রায় এক পট রস নিয়ে বাড়ি ডুকার পর যখন দুপুরে শীত মৌসুমে কান টেনে পুকুরে নিয়ে গোসর করিয়ে ঘুম পাড়ালাে মা।চিৎকার চেঁচামেচি করেই আবার ঘুম থেকে উঠালাে।হাতে একটি গাছের ডাল-ঘুম চোখে যখন উঠে দাঁড়ালাম। পিঠের উপর হাত লুঙ্গি রেখেই যখন দৌড় দিলাম-খুঁজে পায়নি আর মা।সন্ধা পেরিয়ে যখন সূর্য মামা বাসায় যাবে,ঠিক তখন ই ফিরছি।দেখেই বললাে।আজ নেই ঘরে তোর ঠাঁই।কলা গাছের রসের হাঁড়ি কেন বসালি।তোদের জন্য ই আজ অন্যদের কথা শুনতে হয়। শুধু সেই রাত নয়।এমন অসংখ্য রাত ই কিছু সময় বাহিরে দাঁড়িয়ে রােজ ছােট বেলার অন্যায় শাস্তি মাথায় নিতে হতাে।প্রচন্ড রাগ হতো।একদিন তো রাগে রাতের তিনটায় বাসায় ফিরছি পাশের বাসার রিক্সা ওয়ালার সাথে।তিনবার রিক্সা টেলে ১০ টাকা পেয়ে ৫ টাকা দিয়ে মায়ের জন্য পান নিয়ে আসি।প্রশ্নের জবাব দিয়ে সে দিন ঘরে ডুকতে হলাে।সেই সময় টুকু শুধু বাঘ নয়,বাঘের চেয়ে বেশি হুংকার ছিলাে মায়ের।পুরাে সংসার কেঁপে উঠতো।হাসি খুশিতে ভরপুর। ৭ টাকা ধরে তিন কেজি চাল কিনে খাওয়া অসংখ্য সংসারের সেই নারী গুলাে আজ হারিয়েছে তাদের সেই হুংকার। বাঘের মত গর্জন দেওয়া তারাই আজ কাছে গিয়ে আলতো করে বলে বাবা-
শরীর টা ভালো নারে।
সেই মা গুলাে আজ ছেলের হুংকারের ভয়ে গলা নিচু করে আওয়াজ তোলে।সেই মা গুলাে ই আজ শুধু অপ্রয়ােজনীয় বস্তুর মত কখনাে স্থান পেয়ে যায় বৃদ্ধাশ্রমে।
শুধু বৃদ্ধাশ্রমে থাকা আমাদের মা গুলাে যদি জানত একদিন এই হুংকার দেওয়ার মত বয়স কিংবা শক্তি থাকবে না।তাহলে নিশ্চয় কিছু হুঙ্কার তখন জমা রাখতো ভবিষ্যতে ছেলের হুংকার এর বিপরীতে হুঙ্কার দেওয়ার জন্য।
আজ থেকে শপথ করি, মায়ের সেই হুঙ্কার থাকুক শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত।
এই শাসন গুলাে প্রতিষ্টিত সমাজে কখনােই কিশােরগ্যাং কিংবা মাফিয়া হবে না। — feeling loved.