19/08/2026
২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার Calling Visa বন্ধ হওয়ার
পর দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে ২০২২ সালের জুলাইয়ে আবার শ্রমবাজার চালু হয়েছিল।
এরপর সিন্ডিকেট নিয়ে নানা আলোচনা, মিটিং, সংবাদ সম্মেলন—অনেক কিছুই হয়েছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সমাধান আসেনি। বরং লাভের চেয়ে ক্ষতিই হয়েছে বেশি।
এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অপেক্ষায় থাকা মালয়েশিয়ার অনেক কোম্পানি শেষ পর্যন্ত নেপাল, মিয়ানমারসহ অন্য দেশের দিকে ঝুঁকেছে। আর আমাদের কর্মীরা যখন শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখন নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। অথচ দোষের বড় অংশ এসে পড়েছে যারা কর্মী পাঠিয়েছে, তাদের ওপর।
পেছনের বাস্তব কারণগুলো নিয়ে খুব কমই কথা হয়েছে। কিন্তু এই অনিশ্চয়তার মধ্যে কয়েকজনের সিদ্ধান্ত ও স্বার্থের খেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজারো মানুষের ভাগ্য।
আজও আমরা যেন সেই পুরোনো জটিলতার মধ্যেই আটকে আছি—
“সিন্ডিকেট হতে দেওয়া হবে না”, “শূন্য খরচে কর্মী যাবে”, “BOESL-এর মাধ্যমে হবে”— নানা যুক্তি ও প্রতিশ্রুতি শুনছি।
কিন্তু দিনশেষে প্রশ্ন হলো—মালয়েশিয়ায় যেতে অপেক্ষায় থাকা কর্মীদের কী হবে?
অভিবাসন ব্যয় নিয়ে এত আলোচনা শুধু মালয়েশিয়াকে ঘিরেই কেন? অন্য দেশগুলোতে কর্মীরা কি বিনা খরচে যাচ্ছে?
সৌদি আরবে ৫০০ রিয়াল বেতনের চাকরির জন্য যখন কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত অভিবাসন ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে, তখন সেখানে এত নীরবতা কেন?
মালয়েশিয়ায় তুলনামূলক ভালো বেসিক বেতন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নিজেদের স্বার্থ ও নানা অজুহাতে যদি আমরা এই বাজার হারাতে থাকি, তাহলে ক্ষতি হবে বাংলাদেশের কর্মীদেরই। আমাদের জায়গা অন্য দেশ দখল করবে, আর বাড়বে দেশের বেকারত্বের বোঝা।
তাই আর কোনো নাটকীয়তা নয়।
মালয়েশিয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকা মানুষগুলোকে একটি পরিষ্কার বার্তা দিন।
যদি সত্যিই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু করার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে সময়সীমা ও প্রক্রিয়া স্পষ্ট করুন। আর যদি না থাকে, সেটিও পরিষ্কারভাবে জানান।
মানুষকে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলিয়ে রাখবেন না। তারা যেন বিকল্প কর্মসংস্থান, ব্যবসা কিংবা অন্য দেশের সুযোগ নিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারে।
আপনারা ঠিকই মালয়েশিয়ার Calling Visa চালু করবেন—কিন্তু ততদিনে যেন খুব বেশি দেরি হয়ে না যায়।
— আরিফ হারেজ রনি
#মালয়েশিয়া #শ্রমবাজার #অভিবাসন #প্রবাসী #কর্মসংস্থান #বাংলাদেশি_কর্মী