18/07/2026
জিলানী আমার মায়ের কনিষ্ঠ সন্তান, আর আমি তাঁর প্রথম। আমাদের জন্মের মাঝে সময়ের ব্যবধান প্রায় ১৯ বছর, জীবনের পথও হয়তো আমাদের নিয়ে গেছে ভিন্ন ভিন্ন দিকে, তবু আমরা একই মায়ের সন্তান। এই একটি বন্ধনের চেয়ে গভীর, আপন আর মায়াময় সম্পর্ক পৃথিবীতে আর ক’টাই বা আছে!
আমাদের মা এখন সিডনিতে। এবারের ইউরোপ সফরের আগে মা খুব সহজ করে একটি আবদার করেছিলেন— “প্রতিবার বাইরের কাউকে সফরসঙ্গী করো, এবার না হয় নিজের ছোট ভাইটাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে এসো।” মায়ের আবদার কি কখনো ফেলা যায়!
তাই এবার ছোট ভাই জিলানী ও তার পরিবারকে সঙ্গে নিয়েই পথে নেমেছি। দেশ থেকে দেশে, শহর থেকে শহরে ঘুরছি দু’ভাই। পথের ক্লান্তি আছে, ব্যস্ততা আছে—কিন্তু তার চেয়েও বেশি আছে গল্প, হাসি, খুনসুটি আর একসঙ্গে কাটানো কিছু অমূল্য সময়। মনে হচ্ছে, জীবনের ব্যস্ত স্রোতে কোথাও হারিয়ে যাওয়া শৈশবটাকেই যেন আবার একটু একটু করে ফিরে পাচ্ছি।
গতকাল এসে পৌঁছেছি ইতালির স্বপ্নময় জলনগরী ভেনিসে। চারদিকে জল, শত শত বছরের পুরোনো স্থাপত্য, সরু গলি আর নৌকার শহরের অপার সৌন্দর্যের মাঝেও আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি—পাশে আমার ছোট ভাই জিলানী। মনে হলো, দূরে সিডনিতে বসে থাকা মায়ের সেই ছোট্ট আবদারটিই আজ আমাদের দু’ভাইয়ের জীবনে একদিন অনেক বড় একটি স্মৃতি হয়ে থাকবে।
আগামীকাল, ১৯ জুলাই রবিবার বিকেলে আমাদের পথ নিয়ে যাবে ইতিহাসের অমর নগরী রোমে।
এই সফর তাই আমার কাছে শুধু ইউরোপ দেখা নয়, শুধু নতুন নতুন শহরের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলাও নয়। এ এক মায়ের ইচ্ছার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা, ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের দায়িত্ব আর একই রক্তের মানুষগুলোর সঙ্গে জীবনের কিছু সুন্দর মুহূর্ত জমিয়ে রাখার গল্প।
জীবন আমাদের পৃথিবীর যত দূরেই নিয়ে যাক, যত দেশ-শহরই দেখাক—দিন শেষে ফিরে তাকালে বুঝি, সবচেয়ে আপন গন্তব্যটির নাম পরিবার, THE FAMILY.
মা ভালো থাকুন, দীর্ঘজীবী হোন। ভাইবোনের এই মায়ার বন্ধন অটুট থাকুক আজীবন। কারণ পৃথিবীর সব পথ একদিন ফুরিয়ে যায়, কিন্তু মা আর ভাইবোনের প্রতি ভালোবাসার পথ কখনো ফুরায় না। ❤️