16/06/2026
আজ হৃদয়টা বড় ভারাক্রান্ত। ৩৪ বছরের দীর্ঘ পথচলার এক প্রিয়জন, এক আত্মার আত্মীয়, আমাদের অতি ঘনিষ্ঠ পারিবারিক বন্ধু জনাব ইয়ার সাঈদ আর আমাদের মাঝে নেই।
তিনি ছিলেন একজন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক, কিন্তু হৃদয়ের টানে ও কর্মের প্রয়োজনে অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন প্রিয় জন্মভূমি ঢাকায়। ঢাকা বসুন্ধরা সিটি মলের সন্নিকটে প্রতিষ্ঠিত তাঁর সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান AIMS-এর মাধ্যমে তিনি অসংখ্য মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন টক শোতেও অনেকেই তাঁকে দেখে থাকবেন। জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সৌম্য ব্যক্তিত্বের এক অনন্য সমন্বয় ছিলেন তিনি। তিনি রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র।
জীবনের শেষ লড়াই লড়তে তিনি এসেছিলেন অস্ট্রেলিয়ায়। কিন্তু নিয়তির নির্মম বিধানকে পরাজিত করা কারও পক্ষে সম্ভব হয় না। অবশেষে শনিবার, ১৩ জুন, ভোর ৫টায় তিনি আমাদের সকলের মায়া, ভালোবাসা ও স্মৃতির ভুবন ছেড়ে অনন্তের পথে পাড়ি জমালেন।
শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে গত ২২ এপ্রিল আমি হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে উড়ে গিয়েছিলাম কুইন্সল্যান্ডে। দেখা হয়েছিল, কথা হয়েছিল, আর ছিল সেই চিরচেনা হাসিমাখা মুখ। অমলিন হাসিতে তিনি বলেছিলেন, “চলুন, দুজনে খেতে খেতে দুটো ছবি তুলি।” তাঁর সাথে গত ৩৪ বছরে শত শত ফটো আমার আছে, তবে এই দুটি ছিল শেষ ছবি, ২২ এপ্রিল ২০২৬
কে জানত, সেই ছবিগুলোই একদিন হয়ে উঠবে স্মৃতির শেষ আশ্রয়! কে জানত, হাসিমুখের সেই মানুষটি এত দ্রুতই ছবির ফ্রেমে বন্দি হয়ে যাবেন!
প্রিয় ভাই, আপনি আজ সত্যিই ছবি হয়ে গেলেন, স্মৃতি হয়ে গেলেন, অথচ আমাদের হৃদয়ে আপনার স্থান কখনো শূন্য হবে না। আপনার স্নেহ, আপনার আন্তরিকতা, আপনার অমায়িক হাসি এবং আমাদের দীর্ঘ ৩৪ বছরের অগণিত স্মৃতি আমৃত্যু বয়ে বেড়াবো।
যেখানেই থাকুন, পরম করুণাময়ের অসীম রহমতে শান্তিতে থাকুন। আল্লাহ আপনার কবরকে নূরে পরিপূর্ণ করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসকে আপনার স্থায়ী ঠিকানা করুন।
আমার জন্যও অপেক্ষা করবেন প্রিয় ভাই। আজ না হয় কাল, কাল না হয় কোনো একদিন—আমিও সেই অনিবার্য কাফেলায় আপনারই কাতারে এসে দাঁড়াবো। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।