08/04/2026
রাজনীতি: ক্ষমতার নয়, মানুষের সেবার আদর্শে ফিরে আসার আহ্বান।
*********
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক সময় নেতা হওয়ার অর্থ ছিল ত্যাগ, আদর্শ, সততা এবং মানুষের সেবা। আজ অনেক ক্ষেত্রেই সেই আদর্শের জায়গায় ক্ষমতার প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিস্বার্থ এবং প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা বেশি চোখে পড়ে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও বড় যোগ্যতা হলো মানুষের জন্য কাজ করার আন্তরিক ইচ্ছা। প্রকৃত নেতা তিনি নন, যিনি ক্ষমতা অর্জন করেন; প্রকৃত নেতা তিনি, যিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেন।
স্বামী বিবেকানন্দের বাণী— "জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।"
বহুদলীয় গণতন্ত্র গণতন্ত্রের একটি স্বীকৃত কাঠামো। কিন্তু যখন রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব বা তথাকথিত "সেটিং"-এর মাধ্যমে আইনকে পাশ কাটিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ এবং দুর্বল হয় আইনের শাসনের প্রতি বিশ্বাস। একটি সুস্থ গণতন্ত্রে নাগরিকের অধিকার নির্ভর করবে আইন ও ন্যায়বিচারের ওপর, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই চিরন্তন প্রার্থনা আজও প্রাসঙ্গিক—
"চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,
জ্ঞান যেথা মুক্ত..."
নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, "একজন নেতার প্রথম কর্তব্য হলো মানুষের সেবা করা; নিজের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা নয়।"
আসুন, আমরা এমন এক সমাজ গড়ার চেষ্টা করি যেখানে রাজনীতি হবে জনসেবার অঙ্গীকার, নেতৃত্ব হবে নৈতিকতার প্রতীক, আর মানুষের পরিচয় হবে নাগরিক হিসেবে—কোনো দলের অনুসারী হিসেবে নয়।
দেশের শক্তি ক্ষমতায় নয়, মানুষের চরিত্র, সততা এবং ন্যায়বোধে।
দ্বীপেন্দু ধর
#জনসেবা #গণতন্ত্র #নৈতিক_নেতৃত্ব #আইনের_শাসন #ভারত