30/09/2024
📝খোলা কলম
"...পরিশেষে .... বিশ্রী সমালোচনা ও জঘন্য লেখালেখি করা থেকে প্লিজ বিরত থাকুন।.... "
১.
একটি পরিবারে মাতা পিতার মাঝখানে যদি ঝগড়া লাগে তাহলে সন্তানদের কি কি করনীয় বা সন্তানরা কি করে থাকেন বা?
অবশ্যই চেষ্টা করবে ঘরের ভিতরেই মা-বাবাকে বুঝিয়ে সমস্যার সমাধান করে ফেলতে। বুদ্ধিমান সন্তানরা কখনোই মা বাবার সমস্যার কথা প্রতিবেশীদেরকে বা রাস্তার মানুষদেরকে জানতে দিবে না ।
অন্যদিকে মা-বাবারাও চেষ্টা করবে তাদের ভিতরের মনোমালিন্য বা ছোটখাটো সমস্যার কথা তাদের সন্তানদেরকেও বুঝতে না দিতে প্রতিবেশীদেরকে জানতে দেওয়া তো অনেক অনেক দূরের কথা।
এবং এটাই একটি শিক্ষিত পরিবারের মা বাবা এবং সন্তানদের করণীয় উচিত ।
২.
স্কুল-কলেজে যারা লেখাপড়া করে তাদের জন্য তাদের প্রতিষ্ঠান কতটুকু মহব্বতের জায়গা এবং সেখানে শিক্ষকরা ছাত্রদের মনে অথবা ছাত্রদের মনে শিক্ষকরা কতটুকু স্থান করে নিতে পারে, সে কথার উত্তর দিতে একটু চিন্তা করতে হবে।
কিন্তু মাদ্রাসাতে যারা পড়ে তাদের কাছে তাদের তাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান তাদের ঘরের চাইতেও যে অধিক বেশি প্রিয়, সেখানের ওস্তাদরা যে তাদের মাতা পিতার চাইতেও অনেক বেশি সম্মানের এবং শিক্ষকদের কাছেও ছাত্রদের স্থান যে ক্ষেত্রবিশেষ নিজ সন্তানের চাইতেও অনেক বেশি আদরের - একথা বলতে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না।
অর্থাৎ মাদ্রাসাটা প্রত্যেক ছাত্রদের জন্য পরিবারের মতই এবং ওস্তাদরা মাতা পিতার মতই এ বিষয়ে কারোই দ্বিমত থাকার কথা নই।
তাহলে, নিজের ঘরে মাতা পিতার মাঝখানের কোন মনোমালিন্য বা ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা যদি সন্তানরা বাইরে কাউকে না বলে বা কারো সাথে শেয়ার না করে নিজের পরিবারের সম্মান ক্ষুন্ন হবে এই ভয়ে, তাহলে মাদ্রাসার ভিতরের তাদের ওস্তাদদের মাঝখানের মধ্যকার ছোটখাটো মনোমালিন্যের বিষয় বাইরে কেন বলতে যাবে???
অন্যদিকে ভদ্র মা বাবা যেমন নিজেদের ভেতরের ছোটখাটো সমস্যার কথা সন্তানদেরকে বুঝতে না দিয়ে নিজেদের ভিতরে সমাধান করে ফেলে তেমনি ভাবে মাদ্রাসার শিক্ষকরাও যখন মাতা পিতার মতোই তাহলে উনারও নিজেদের ভিতর ছোটখাটো সমস্যা নিজেদের ভিতরেই সমাধান করে ফেলবে। পাড়া প্রতিবেশীদের কে বা বাইরের লোকদেরকে জানতে দেওয়া দূরের কথা ছাত্রদেরকেও বুঝতে দিবেনা
আবার মাতা পিতার মাঝখানের মাঝখানের ছোটখাটো সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে সন্তানরা যেমন মা-বাবাকে গালমন্দ করবে না খারাপ কথা বলবে না এবং অথবা শুধু মায়ের পক্ষে অথবা শুধু বাবার পক্ষে হয়ে কথা বলবে না।
তেমনি ভাবে ছাত্ররাও ওস্তাদদের মাঝখানের সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে(যদি ছাত্ররা পর্যন্ত এটি পৌঁছে যায়) কারো পক্ষ নিতে পারবে না। এক শিক্ষকের হয়ে অন্য শিক্ষককে গালমন্দ করবে না।। এক শিক্ষককে সম্মান করতে গিয়ে অন্য শিক্ষককে অসম্মান করতে পারবে না।
মনে রাখতে হবে ,এটা যদি আমরা করতে যাই তাহলে আমরা আমরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিব নিজের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মারবো কারণ আমরা ছাত্র। উনারা হয়তো ইনশাল্লাহ একদিন ঠিক হয়ে যাবে তখন আমি আপনি ছাত্র হিসেবে আমাদের কি হবে?
৩.
অন্যদিকে আপনি যে ওস্তাদের বিরুদ্ধে অবস্থা নিয়েছেন ওই ওস্তাদের তো আপনি ছাড়া আরো অনেক ছাত্র আছে যারা ওনাকে শুধু ওস্তাদ হিসেবেই ভালোবাসেন।
তাহলে আপনি ওই ওস্তাদের বিপক্ষে অবস্থান করতে গিয়ে যে ছাত্ররা ঐ ওস্তাদ কে ভালবাসেন শুধু উনি শিক্ষক হওয়ার কারণেই, আপনি ওই ছাত্রদের বিপক্ষেও অবস্থান নিয়ে নিয়েছেন।
তো স্বাভাবিকভাবেই মানুষ যেমন তার সম্মানের পাত্রকে কেউ অসম্মান করুক এটা কেউ বরদাশত করে না এমনিভাবে ঐ ওস্তাদ কে যারা ভালোবাসেন বা ঐ ওস্তাদকে সম্মানের পাত্র মনে করেন এমন ছাত্ররাও আপনার এই অহেতুক বেয়াদবি বিরুদ্ধাচারণ কখনোই মেনে নিবে না কখনোই না।
৪.
উপরোক্ত কথাগুলো বললাম সাধারণভাবে ( عام)যা পৃথিবীর সব প্রতিষ্ঠানে, সকল ছাত্র শিক্ষকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
এখন যদি একটু নির্দিষ্ট(خاض) করে বলি তাহলে বলতে চাই ; বিগত কয়েকদিনে প্রাণপ্রিয় জামিয়াতে ; ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃতভাবে সজ্ঞানে হোক বা অজ্ঞানে, বুঝে হোক বা না বুঝে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে প্লিজ ওগুলোকে ওখানেই ওখানে স্টপ হতে দিন ।
মাদ্রাসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বা মাদ্রাসাকে "বিবেকহীন"ভাবে ভালবাসতে গিয়ে ,আপনি আমার মাধ্যমেএমন কিছু না হোক যার ধারা আমাদের সবার এই প্রিয় শিক্ষার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন হবে বা লেখাপড়ার ক্ষতি হবে অথবা এমন আরো অনেক কিছু হবে যা কল্পনা করলেই নয়নযুগল অশ্রুতে ভরে উঠে।
ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তায়া’লা এর কোন একটা উত্তম ফায়সালা করে দিবেন।
তবে হ্যাঁ আপনার /আপনাদের নাম যেন এই মাদ্রাসার ক্ষতিকারীদের,উস্তাতদের মাঝে ফাটল সৃষ্টিকারীদের লিষ্টে না থাকে।
তাহলে ,দুনিয়াতে যেমন আপনি/আপনাদের ব্লাকলিষ্ট তৈরি হবে হাশরের ময়দানে আল্লাহর কাছে কালপ্রিট হিসেবে ,দু'মুখি হিসেবে দাড়াতে হবে।
পরিশেষে, আপনি বা আপনারা যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসাগুলোতে,বিভিন্ন অজুহাতে ফাটল সৃষ্টি করে দিচ্ছেন আপনাদের কু'নজর /বদ নজর থেকে প্রিয়া জামিয়া কুরআনিয়া ইউনুছিয়াকে দূরে রাখুন প্লিজ। এবং আমাদের মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিষয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে দেখতে দিন।এবং আমাদের মাদ্রাসার যে কোন ওস্তাদ কে নিয়ে অনলাইনে বিশ্রী সমালোচনা ও জঘন্য লেখালেখি করা থেকে প্লিজ বিরত থাকুন।
আবু হামদান
রিয়াদ।