20/04/2025
সালটা 2017 , একদিন সকালের নরম আলোয় আমি বাইক নিয়ে ছুটলাম দুধিয়ার পথে। ঘড়িতে তখন ঠিক সাতটা। দুধিয়ায় বাইক রেখে শুরু হলো ট্রেকিং—মুক্তিখোলার পিকনিক স্পট পেরিয়ে নুলদারার মাথির দিকে প্রায় আট কিলোমিটারের পথ। এই অচেনা অজানা পথে কখনো ভাঙা পাথরে পা হড়কেছে, কখনো ঝর্নার পাশ দিয়ে জঙ্গলের ঘন সবুজ ঝোঁপ পরিষ্কার করতে করতে এগিয়েছি। জঙ্গলের মাঝে লেপার্ডের গুঞ্জন কানে এসেছে, ভয়ের সঙ্গে মিশেছে অদ্ভুত এক উত্তেজনা ।
অবশেষে নুলদারার মাথিতে পৌঁছে দুই টাওয়ার এর মাঝে বসে একটু বিশ্রাম নিলাম । Then একটা স্থানীয় বাড়িতে গরম নুডলসের প্লেট হাতে , পাথরের ওপর বসে পাহাড়ের নৈঃশব্দ্য উপভোগ করলাম।
খাওয়ার পর একটু নিচে নেমে নুলদারা গ্রামে পৌঁছলাম। সেখানে একজন প্রবীণ দাদুর সঙ্গে কিছুক্ষন কথপকথন চলল। সেখানের মানুষদের হাসি-মুখ আর সরল কথাবার্তায় মন ভরে গেল। গ্রামে একটা ছোট্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় চোখে পড়ল—নুলদারা মডেল প্রাইমারি স্কুল। জানলাম, এটি স্থাপন করেছিলেন সুভাষ ঘিসিং। স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে ভাবলাম, এই পাহাড়ের বুকে শিক্ষার আলো জ্বালানোর এমন প্রয়াস কতটা মহৎ!
ফিরতি পথে ঝর্নার কলতান আর জঙ্গলের সবুজের মাঝ দিয়ে দুধিয়ায় ফিরলাম। সেখানে কয়েকজন চারপায়ে সাথী—কিছু টমির সঙ্গে দেখা। তাদের লেজ নাড়া আর বন্ধুত্বর ভঙ্গি আমার মন জয় করে নিল। পকেট থেকে মোবাইল বের করে তাদের সঙ্গে কিছু মজার ফটোশুট করলাম, যেন তারাও আমার এই অ্যাডভেঞ্চারের অংশ। এদিকে সূর্য পাহাড়ের পিছনে ঢলে পড়েছে। তাই দেরি না করে হাসিমুখে, মনে অজস্র স্মৃতি নিয়ে বাড়ির পথ ধরলাম ।
📸 : Nokia 6 (2017)