06/02/2026
Explorer... লাদাখ
🛫 🛤️ প্রথম দিন : কোলকাতা/হাওড়া থেকে দিল্লী
🚄 ✈️ হাওড়া বা শিয়ালদা থেকে রাজধানী এক্সপ্রেসে দিল্লী পর্যন্ত যাত্রা।
দ্বিতীয় দিন : দিল্লী থেকে কাটরা।
🚂 সন্ধ্যা ৭.০৫ মিনিটে শ্রীশক্তি এক্সপ্রেসে চড়ে কাটরা।
তৃতীয় দিন : কাটরা থেকে শ্রীনগর।
🚝 সকাল ৫.৪০ মিনিটে কাটরা থেকে শ্রীনগরগামী বন্দে ভারতে চড়ে বিশ্বের উচ্চতম রেলসেতু 🌁 চেনাব ব্রীজের উপর দিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে এগিয়ে চলুন শ্রীনগরের।
🚘 সকাল ১১.১০ মিনিটে শ্রীনগরে নেমে হোটেলে।
🏞️ দুপুরের খাবার গ্রহণ করে একটু বিশ্রাম করে বিকেলে নিজের খরচে সিকারা চড়ে ডাল লেক ঘুরে দেখতে পারেন।
🚗 চতুর্থ দিন : শ্রীনগর থেকে জোজিলা পাস হয়ে কার্গিল (৩০০ কিমি)।
🏔️ নৈসর্গিক যাত্রাপথে প্রথমে সোনমার্গ, কাশ্মীর অঞ্চলের উচ্চতম পাশ জোজিলা (৩২৫৮ মিটার) থেকে দ্রাস ক্রশ করার পর পৌঁছাবো কার্গিল ওয়ার মেমোরিয়ালে। ১৯৯৯ সালের ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধের সৌর্য-বীর্য ও স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
🏡 সেখান থেকে কার্গিল হোটেল।
🚗 পঞ্চম দিন : কার্গিল থেকে লামায়ুরু হয়ে লে। (২২০ কিমি)
🏤 লে শহর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত হিমালয় রাজ্যের রাজা।
🗻 পথে যেতে যেতে দেখে নেব অন্যতম শান্ত নিরিবিলি নৈসর্গিক ভূমি লামায়ুরু (৩৫১০ মিটার), ঝংস্কার ও সিন্ধু নদীর সঙ্গম স্থান - যাকে সংস্কার ভ্যালীর সঙ্গমও বলে। দেখে নেব ম্যাগনেটিক হিল (চুম্বকীয় পাহাড়)।
🏤 লে তে পৌঁছে হোটেলে আশ্রয় নেব।
🏤 ষষ্ঠ দিন : লে দর্শন।
🏢 লে প্যালেস
🏯 থিকসে মনাস্ট্রী
🏯 স্পিতুক মনাস্ট্রি
🏫 র্যাঞ্চো স্কুল লেহ-এর রাঞ্চো স্কুলটি আসলে দ্রুক পদ্ম কারপো স্কুল, যা ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমা থেকে বিখ্যাত হয়েছে এবং এটি লেহ-এর কাছে শে গ্রামেই অবস্থিত; এটি একটি অনন্য স্থাপত্য, শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে দর্শনার্থীরা একটি বাস্তব বৌদ্ধ স্কুল হিসেবে এর কার্যক্রমকে সম্মান জানিয়েই আইকনিক “রাঞ্চো ওয়াল” এবং ক্যাম্পাসটি দেখতে পারেন।
🚘 সপ্তম দিন : লে থেকে কার্দুংলা পাশ হয়ে নুব্রা ভ্যালী।
🏔️ যাওয়ার পথে Highist Motorable Road খারদুংলা (১৮৩৬০ ফুট) অতিক্রম করে দুপুরের মধ্যে পৌঁছে যান নুব্রা ভ্যালীর হোটেলে। ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার গ্রহণ করে ঘুরে দেখুন ডিসকিট মনাস্ট্রি, স্যাণ্ড-ডিউনস্ দুই কুঁজওয়ালা উঁটের পিঠে চড়ে। এছাড়া সময় থাকলে কিছু অ্যাডভ্যাঞ্চার রাইডও করে নিতে পারেন।
🚗 অষ্টম দিন : নুব্রা থেকে সিয়াচেন বেস ক্যাম্প হয়ে নুব্রা। (২২০ কিমি)
🏪 ভারতীয় সৈনিকদের কাছে স্বর্গের সিঁড়ির প্রথম ধাপ এই সিয়াচেন যুদ্ধক্ষেত্র। একদিকে চীন অন্যদিকে পাকিস্তানের শত্রুদৃষ্টি থেকে ভারতকে রক্ষা করার জন্য এখানে সদাপ্রস্তুত আমাদের সেনবাহিনী।
🗻 সিয়াচেন ঢোকার মুখে দুদিকে উঁচু উঁচু পাহাড় লাদাখের নৈসর্গীক রাজ্যে আপনাকে স্বাগত জানাবে।
⛺ এখান থেকে ফিরে এসে নুব্রার হোটেলেই আমাদের আজকের রাত্রিবাস।
🏘️ নবম দিন : নুব্রা থেকে সায়ক, দুরবুক হয়ে প্যাঙ্গন লেক। (১৪০ কিমি)
🏞️ এদিন সকালে নুব্রা থেকে বেরিয়ে সায়ক নদীর পাশ দিয়ে কখনো বা নদীর মাঝে বানানো রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যান দুরবুক শহরের দিকে। তারপর টাংস্টে ভিলেজ। ডানে-বামে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ছাউনিকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যান প্যাঙ্গন লেকের দিকে।
♻️ একটু পরেই দেখা যাবে সেই চিরাকর্ষনীয়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৪০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত রং-বেরংগের ন্যাড়া পাহাড়ের মাঝে নীল জলের ছলাত ছলাত ধ্বনির বিশাল প্যাঙ্গন লেক।
⭕ এখানে সঙ্গী বা সঙ্গিনীদের সঙ্গে নিয়ে ছবি তুলুন, ভিডিও করুণ, লেকের অস্তিত্বকে অনুভর করুন। সঙ্গীদের নিয়ে বা একা একা ‘থ্রী ইডিয়েট’ পয়েন্টে আইকনিক পোজে ছবি তুলুন, হেঁটে বেরান ছবির সেই তারকাদের ফ্রুটপ্রিন্টে... আরো কত কি !
🛵 প্যাংগন লেকের সমগ্র অস্তিত্বকে আত্মীকরণ করে লেকের ধার বরাবর এগিয়ে চলুন আরো ১২ কিমি দূরে মান ভিলেজে। ‘মান ভিলেজ’ ওই লেকের পারেই সুন্দর একটি গ্রাম।
🏯 মান ভিলেজ প্যাঙ্গন লেক ভিউ পয়েন্ট-এ আমাদের আজকের রাত্রিবাস।
🚍 দশম দিন : মান ভিলেজ থেকে চুসুল হয়ে হানলে। (১৫৫ কিমি)
⛱️ লেকের ধার বরাবর আরো কিছুটা এগিয়ে চলুন রুক্ষ পাথুরে মারুভূমির মাঝদিয়ে তৈরি রাস্তা বরাবর।
♣️ চলার পথে চোখে পড়বে দিগন্ত বিস্তৃত ন্যাড়া পাহাড় আর তার মাথায় জমে থাকা সাদা বরফের ওড়না। নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারবেন না – প্রকৃতি এমনও সুন্দরও হয় !
📴 এই ছবিকে ক্যামেরা বন্দী করতে করতে এগিয়ে চলুন চুসুলের দিকে।
✴️ চুসুল পেরনোর কিছু সময় পরেই পাবেন ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের স্মৃতি সৌধ রেজাংলা ওয়ার মেমোরিয়াল।
❇️ এরপর লোমা ব্রীজ পেরিয়ে ঢুকে পরুন আরেক নান্দনিক রুক্ষ মরুভূমির রাজ্যে।
🌁 লোমা ব্রীজ থেকে হানলে পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিমি রাস্তার শুষ্ক মরুভূমির নান্দনিক সৌন্দর্য আপনাকে মোহিত না করে ছাড়বে না।
⛺ হানলে হোটেলে পৌঁছে রাত্রের খাবার গ্রহণ করে সারারাত বিশ্রাম করুন।
🚘 একাদশ দিন : হানলে থেকে উমলিং লা থেকে হানলে।
🗻 খুব সকালে প্রতরাশ সেরে বেরিয়ে পরুন উমলিং লা (১৯০২৪ ফুট) – পৃথিবীর অন্যতম উচ্চতম পাশের পথে। যাওয়ার পথে পাবেন অন্যতম উচ্চতম পাশ ফোটি লা (১৮১২৪ ফুট)।
⛰️ ফোটি লা যাওয়ার পথে দেখে নিন ৩৬০ ডিগ্রী ভিউ এর পাহাড়ের সেই নয়নাভিরাম দৃশ্য। দিগন্ত বিস্তৃত লাল-নীল-সবুজ পাহাড় আর তার মাথার উপর সাদা মুকুট আর আঁকাবাঁকা শরীরে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য মায়াজাল।
🏚️ উমলিং লা থেকে ফিরে আসুন হানলতে।
🏜️ বিকেলে দেখে নিন Indian Astronomical Observatory. যেখান থেকে রাতের আকাশের আকাশ-গঙ্গা (Milky Way) স্পষ্ট দেখা যায়। আপনি খালি চোখেও দেখে নিতে পারেন সেই আশ্চর্য সৃষ্টিকে।
🏡 আজও আমাদের রাত্রিবাস এই হানলেতে।
🚗 দ্বাদশ দিন : হানলে থেকে পুগা ভ্যালী হয়ে সো মোরির। (১৭০ কিমি)
🏞️ ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে অবস্থিত সবচেয় বড়ো এই Tso Morir লেক। যার দৈর্ঘ প্রায় ২৯ কিমি এবং প্রস্ত প্রায় ৮ কিমি। এই লেকটির অফিশিয়াল নাম Tso Morir Wetland and Conservation Reserve. এখানে আপনি দেখা পেতে পারেন বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি, মারমেট, তিব্বতী নেকরের মতো হিমালয়ের প্রাণীদের।
🌠 যাওয়ার পথে দেখতে পাবেন পুগা ভ্যালীর। সবুজ গালিচা বিছানো একটি সমতল ভূমিরূপ সঙ্গে উষ্ণ প্রশ্রবন।
⛅ সো মোরিরতে আজকে আমাদের রাত্রিবাস।
🚍 ত্রয়োদশ দিন : সো মোরির থেকে জিসপা (৩২০ কিমি)
⛰️ যেতে যেতে দেখে নেবেন সারচু – যেখানে লাদাখ ও হিমাচল প্রদেশের সিমানা এসে মিলেছে।
🗻 হিমাচল প্রদেশের লাহুল জেলার অন্তর্গত বারালাচ্ছা পাশ (কিমি)
🏞️ সুরজ তাল (লেক) - সমুদ্রপৃষ্ঠ থকে যার উচ্চতা প্রায় ৪৯৫০ মিটার এবং ভারতের তৃতীয় উচ্চতম লেক।
🍀 জিং জিং বার
🏞️ দীপক তাল (লেক)
🚗 চতুর্থ দিন : জিসপা থেকে মানালি (৯০ কিমি)
🏞️ যাওয়ার পথে প্রথমেই দেখে নেবেন চন্দ্র নদীর তীরে ও লাহুল উপত্যকায় অবস্থিত ছোট্ট একটি গ্রাম শিশু। শিশু গ্রামকে খাগলিং বলেও ডাকা হয়।
🚍 অটল টালেনটি লে-মানালি হাইওয়ের উপর অবস্থিত একটি দীর্ঘ (৯.০২ কিমি) এক টিউবের একটি টানেল যেটা রোটাং পাশের নিচ দিয়ে গিয়েছে। এটি পৃথিবীর একমাত্র টানেল যেটা ১০০০০ ফুট উচ্চতায় তৈরি হয়েছে।
🏯 এরপর সোলাং ভ্যালী হয়ে মানালি হোটেলে।
🚘 পঞ্চম দিন : মানালি থেকে চণ্ডীগড় বা আম্বালা
🚉 সকালে প্রাতরাশ সেরে চণ্ডীগড় বা আম্বালার উদ্দেশ্যে।
🚊 ষ্টেশনে পৌঁছে নির্ধারিত ট্রেনে উঠে বসুন।
🚈 ষোড়শ দিন : লে – লাদাখ ভ্রমণের সুখস্মৃতি রোমন্থন করতে করতে সারাটা
দিন ট্রেনে কাটান।
🚄 সপ্তদশ দিন : হাওড়া বা কোলকাতায় নেমে ভ্রমণের স্মৃতি মনে করতে
করতে বাড়ি ফিরুন।
প্যাকেজের অন্তর্গত :
🚆 3AC ট্রেন টিকিট (কোলকাতা/হাওড়া থেকে কোলকাতা/হাওড়া)
💒 ট্রিপল শেয়ারিং রুম / ফ্যামিলি মতো।
🔶খাবার : আমিশ / নিরামিশ (প্রতরাশ, দুপুর ও রাত)
🔶 পিক আপ, ড্রপ ও সমস্ত দর্শনীয় স্থান টেম্পু ট্রাভেলার গাড়িতে। পাহাড়ে চড়ার সময় AC বন্ধ থাকবে।
🔶 সমস্ত রকমের পারমিট।
প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত নয় :
🔷 ট্রেনের খাবার।
🔷 সমস্ত রকমের দর্শনীয় স্থানের প্রবেশ মূল্য।
🔷নিজস্ব প্রয়োজনের যা কিছু।
🔷 সবকিছুই যা প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত নয়।
থাকা :
🏡 শ্রীনগর – ১ রাত
🏠 কার্গিল – ১ রাত
🏚️ লে – ২ রাত
🏘️ নুব্রা – ২ রাত
🏠 মান ভিলেজ – ১ রাত
⛺ হানলে – ২ রাত
⛺ সো মোরির – ১ রাত
💒 জিসপা – ১ রাত
🏯 মানালি – ১ রাত
🚃 ট্রেন – ৪ রাত্রি