14/05/2026
ওয়ান্ডারলাস্ট ইকো এডভেঞ্চারের নতুন উদ্যোগ -
*কলকাতা আনকনভেনশনাল মিউজিয়াম ট্যুর*
কলকাতা, এই শহরটা আমাদের সবার কাছেই খুব আবেগের, খুব ভালোবাসার শহর। সেই ভালোবাসার টানে আমরা প্রত্যেকেই বারংবার এই শহরের পথে নেমেছি। এই শহরকে ছুঁয়ে দেখেছি। প্রতিবার শহরটাকে নতুন করে চিনেছি। জেনেছি। তবু জানার তো কোনো শেষ নেই। তাই চেনা ছকের বাইরে বেরিয়ে এই শহরটাকে একটু অন্য ভাবে চিনতে, এর ইতিহাসকে আর একটু একান্ত ভাবে উপলব্ধি করতেই আমাদের এবারের এই আনকনভেনশোনাল মিউজিয়াম ট্যুরের আয়োজন।
আমার কাছে মিউজিয়াম আসলে একটা গোটা উপন্যাস। প্রত্যেকটা ঘর যেন এক একটা বিরাট রত্ন ভান্ডার। ইতিহাস বিষয়টা আমার কাছে বরাবরই অপছন্দের তালিকায় ছিল। তবে ইতিহাস যে এত বৈচিত্র্যময়, এত রঙিন, এই ব্যাপারটা বইয়ের পাতায় পড়ে ততটা উপলব্ধি করতে পারিনি যতটা না এইসব জায়গায় চাক্ষুস দেখে উপলব্ধি হয়। প্রতিবারই মনে হয়েছে এই সংগ্রহশালা গুলোর ইট, কাঠ, পাথরে, কড়ি বরগায়, কাঁচের আলমারিতে রাখা জিনিসপত্রের মধ্যে, পুরোনো ছবির ফ্রেমে কিংবা দেওয়ালে লেখা জীবনীতে, সর্বত্র আজও ইতিহাসের ফিসফিসানি রয়েছে, লুকিয়ে আছে কত অজানা তথ্য। অচেনাকে চেনা আর অজানাকে জানা, সেটাই তো আসলে জীবন - সংগ্রহশালার চার দেওয়াল জুড়ে বারংবার এই কথাই প্রতিধ্বনিত হয়। বুঝিয়ে দিয়ে যায়, এই আমাদের একটা জীবন, সবকিছুকে জেনে নেওয়ার জন্য বড়ই ক্ষুদ্র। তবু এই ক্ষুদ্র জীবনে যতটুকু অজানার স্বাদ পাওয়া যায়, তাই বা লুটেপুটে নিতে অসুবিধা কোথায়?
আগামী *30শে মে 2026*, সারাদিন ধরে আমরা তাই এইসব প্রায় অজানা বা স্বল্পজানা সংগ্রহশালা গুলো ঘুরে দেখবো। সমস্ত *সংগ্রহশালার প্রবেশমূল্য আমদের দায়িত্ব*। আমাদের পুরো যতায়াতটাই *এসি গাড়িতে* হবে, তাই গরম নিয়ে কোনো চিন্তা নেই।
দুপুরে লাঞ্চেও থাকছে একটা দারুণ চমক। বেশ পুরোনো একটা *হেরিটেজ রেস্তোরাঁতে* আমরা মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করেছি। সঙ্গে কিছু *রিফ্রেশমেন্ট এবং মন ভালো করা কিছু পানীয়র* ব্যবস্থাও থাকছে।
ব্যাস সবই মোটামুটি বলে দিয়েছি। বাকি কোথায় কোথায় যাব, সেটা আগেরবার গুলোর মতোই সারপ্রাইজ থাক। তবে আমি এটুকু হলফ করে বলতে পারি, এবারেও আমরা আপনাকে হতাশ হতে দেব না। ও ভালো কথা, বাড়ির বাচ্চাদেরও এই সময় স্কুলে গরমের ছুটি চলবে তাই তাদেরকেও সঙ্গে নিতে পারেন। সংগ্রহশালা দেখতে বাচ্চা থেকে বৃদ্ধ কার না ভালো লাগে। তাই না?