20/01/2026
♣ গিনেস ছিল একটি কালো বিড়াল, যে লন্ডনের একটি আকাশচুম্বী ভবনের ৩০ তলার একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকত। সে ছিল পুরোপুরি ঘরের ভেতরের বিড়াল, কখনো বাইরে যেত না।
♦ কিন্তু তার একজন সেরা বন্ধু ছিল।
♦ তার সেরা বন্ধুটি ছিল স্টিফেন নামে এক জানালা পরিষ্কারকারী।
♦ প্রতি মঙ্গলবার স্টিফেন তার প্ল্যাটফর্ম নামিয়ে ভবনের গা বেয়ে নিচে নামত। যখন সে ৩০ তলায় পৌঁছাত, গিনেস তখন অপেক্ষা করে থাকত।
♦ গিনেস কাঁচের ভেতর থেকে স্টিফেনের স্কুইজি তাড়া করত। জানালায় থাবা মারত। লাফাত, ঘুরে ঘুরে খেলত।
♦ স্টিফেনও পাল্টা খেলত। সে মজার মুখভঙ্গি করত। সাবানের ফেনায় বিড়ালের জন্য হাসিমুখ এঁকে দিত। প্রতি সপ্তাহে তারা প্রায় ১০ মিনিট খেলত। এটি ছিল দু’জনেরই জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত।
♦ এক মঙ্গলবার স্টিফেন আর এল না।
♦ গিনেস জানালার পাশে বসে অপেক্ষা করল। সে মিউ মিউ করল। অস্থিরভাবে এদিক-ওদিক হাঁটতে লাগল।
♦ আরেকজন জানালা পরিষ্কারকারী নিচে নামল। গিনেস কাঁচের কাছে দৌড়ে গেল, কিন্তু নতুন লোকটি তাকে উপেক্ষা করে শুধু জানালা পরিষ্কার করল। গিনেস লেজ ঝুলিয়ে চলে গেল।
♦ ছয় মাস ধরে স্টিফেন আর এল না। সে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল এবং একটি গুরুতর সংক্রমণের সঙ্গে লড়াই করতে হাসপাতালে ভর্তি ছিল।
♦ স্টিফেন যখন অবশেষে সুস্থ হলো, সে আবার কাজে ফিরে এল। সে তখনো দুর্বল ছিল, কিন্তু সে তার বন্ধুটিকে দেখতে চেয়েছিল।
♦ সে প্ল্যাটফর্ম নামাতে লাগল। তার মনে ভয় ছিল—বিড়ালটা কি আমাকে মনে রাখবে? ওরা কি বাসা বদলে ফেলেছে?
♦ সে ৩০ তলায় পৌঁছাল।
♦ গিনেস সোফায় ঘুমিয়ে ছিল। স্টিফেন কাঁচে টোকা দিল।
♦ গিনেস সঙ্গে সঙ্গে মাথা তুলে তাকাল। সে স্টিফেনকে দেখল।
♦ বিড়ালটি ঝাঁপিয়ে জানালার দিকে ছুটে এল। সে এত জোরে মিউ মিউ করল যে পুরু কাঁচের ওপার থেকেও স্টিফেন তা শুনতে পেল। সে কাঁচে মুখ ঘষতে লাগল, গরগর করে শব্দ করছিল।
♦ ৩০ তলা উঁচুতে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে স্টিফেন কেঁদে ফেলল। সে কাঁচের ওপর হাত রাখল। গিনেস তার থাবা স্টিফেনের হাতের সঙ্গে মিলিয়ে দিল।
♦ বিড়ালের মালিক সেই মুহূর্তের একটি ছবি তুললেন। ছবিটি ভাইরাল হয়ে গেল। এটি প্রমাণ করল—বন্ধুত্বের কোনো বাধা নেই, এমনকি মাটি থেকে ৩০০ ফুট উঁচুতে থাকা একটি কাঁচের দেয়ালও নয়।
♦ স্টিফেন ও গিনেসের এই আবেগঘন পুনর্মিলন আমাদের হৃদয় উষ্ণ করে দিয়েছে।
♦ তাদের এ বন্ধন সব বাধা পেরিয়ে লাখো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।”