27/05/2026
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক নক্ষত্রপতন ঘটল। প্রখ্যাত এবং অত্যন্ত প্রতিভাবান চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্ত আর আমাদের মধ্যে নেই। বুধবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার হিন্দুস্তান পার্কে নিজের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাটিকে ঘিরে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে কলকাতা গোয়েন্দা পুলিশের হোমিসাইড শাখা ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
তাঁর এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণে শোকবার্তা জানিয়ে একটি সুন্দর গুছিয়ে লেখা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিচে দেওয়া হলো:
নক্ষত্রপতন! স্মৃতির ফ্রেমে বাঁধা রইলেন অনীক দত্ত
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম উজ্জ্বল এবং ব্যতিক্রমী এক অধ্যায়ের অবসান ঘটল। আজ এক চরম বেদনার দিন। হিন্দুস্তান পার্কে নিজের বাসভবনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে ঢাকুরিয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রখ্যাত পরিচালক অনীক দত্ত। ঘটনার আকস্মিকতায় স্তব্ধ গোটা টলিউড এবং তাঁর অগুনতি অনুরাগী। পুলিশ এই রহস্যমৃত্যুর অন্তরালে থাকা আসল সত্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে, তবে এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনো তদন্ত বা সান্ত্বনায় মুছে যাওয়ার নয়।
অনীক দত্ত মানেই ছিল বাংলা সিনেমায় বুদ্ধিমত্তা, সূক্ষ্ম সমাজচেতনা, তীব্র ব্যঙ্গাত্মক হাস্যরস এবং এক ভিন্ন ধারার গল্প বলার জাদুকরী শৈলী। তিনি ছক ভাঙা সিনেমা দিয়ে বারবার আপামর বাঙালি দর্শককে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছিলেন। তাঁর সৃষ্টিশীলতার হাত ধরেই আমরা পেয়েছি কালজয়ী সব চলচ্চিত্র:
ভূতের ভবিষ্যৎ: সমকালীন সমাজ ও রাজনীতির ওপর এক অনবদ্য এবং তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক চাবুক, যা বাংলা সিনেমার ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
আশ্চর্য প্রদীপ: আধুনিক মানুষের তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও লোভের এক মনস্তাত্ত্বিক রূপকথা।
মেঘনাদবধ রহস্য: রহস্য ও সাহিত্যের এক বুদ্ধিদীপ্ত যুগলবন্দি।
ভবিষ্যতের ভূত: সমাজ ব্যবস্থার অসঙ্গতিকে তুলে ধরার নির্ভীক এক সাহসী প্রয়াস।
বরুণবাবুর বন্ধু: এক প্রবীণ মানুষের আদর্শ ও একাকীত্বের সংবেদনশীল দলিল।
অপরাজিত: বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের জীবন এবং তাঁর কালজয়ী সৃষ্টির নেপথ্য কাহিনীকে শ্রদ্ধার সঙ্গে রুপোলি পর্দায় ফুটিয়ে তোলা এক মাস্টারপিস।
কলকাতার আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি তাঁর প্রতিটি ফ্রেমে ধরে রেখেছিলেন বাঙালি সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মননের গভীর মেলবন্ধন। তিনি কেবল সেলুলয়েডে গল্প বুণতেন না, প্রতিটি ছবির সংলাপে ও চশমার আড়ালে থাকা প্রখর দৃষ্টিতে সমাজকে এক অদ্ভুত আয়না দেখাতেন।
"একজন শিল্পী কখনও শুধু মানুষ নন, তিনি এক অনুভূতির নাম।"
অনীক দত্ত আজ শারীরিকভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেও, তাঁর সৃষ্টিশীল ভাবনা, তীক্ষ্ণ মেধা এবং চিরকালীন সিনেমাগুলো দর্শকদের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে। বাংলা সিনেমা যতদিন থাকবে, তাঁর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে।
পরিচালকের আত্মার চিরশান্তি কামনা করি। ওপারে ভালো থাকবেন সৃজনের জাদুকর।
🕊️ বিনীত শ্রদ্ধাঞ্জলি 🕊️