06/06/2026
আজ ভারতের রাজপথে যে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র উত্থান ঘটেছে, তাকে কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ আন্দোলন হিসেবে দেখলে চরম ভুল হবে। এটি আসলে পুরো উপমহাদেশের এক বিশাল ‘জেন জি মুভমেন্ট’-এরই একটি অংশ।
তারা আরশোলা নামটাকে গর্বের সাথে গ্রহণ করেছে। কারণ তারা বোঝাতে চায়..."হ্যাঁ, আমরা আরশোলা। তোমরা আমাদের যতবারই পিষে মারার চেষ্টা করবে, আমরা ততবারই ফিরে আসব।"
শ্রীলঙ্কায় যখন রাজাপাকসে পরিবারের দুর্নীতি আর অত্যাচারে দেশের অর্থনীতি ধসে পড়েছিল, তখন এই জেন জিরাই রাষ্ট্রপতির প্রাসাদে ঢুকে সুইমিং পুলে সাঁতার কেটেছিল।
পাকিস্তানে যখন সামরিক এস্টাবলিশমেন্ট তাদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে চেয়েছিল, তখন এই জেন জিরাই রাস্তায় নেমে পুরো এস্টাবলিশমেন্টকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
বাংলাদেশে তারা যা করেছে, তা তো এখন বিশ্ব ইতিহাসের এক নতুন পাঠ্যক্রম।
আর এখন ভারতে, যেখানে ধর্মের নামে মানুষকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছিল, সেখানেও এই জেন জিরা সংবিধান হাতে রাজপথে নেমে এসেছে। তারা গোদী মিডিয়াকে বয়কট করছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলছে, আর বিভাজনের রাজনীতির মুখে থুতু ছিটিয়ে দিচ্ছে।
অনেক হয়েছে সিস্টেমের বড় বড় কথা। অনেক হয়েছে গদি বাঁচানোর খেলা। এখন সময় এসেছে সিস্টেম গদি ছাড়া করার।
রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে সবকিছু আছে। তাদের কাছে পুলিশ আছে, সেনাবাহিনী আছে, মিডিয়া আছে, গোয়েন্দা সংস্থা আছে। ভারত বা পাকিস্তানের মতো দেশের কাছে তো পারমাণবিক বোমাও আছে।
কিন্তু এই সবকিছু আজ জেন জি’র সামনে চরম অসহায়।
আপনি পারমাণবিক বোমা দিয়ে হয়তো একটি শহর ধ্বংস করতে পারবেন, কিন্তু একটি আইডিয়াকে ধ্বংস করবেন কীভাবে? একটি আদর্শকে কীভাবে গুলি করবেন?
জেন জি আজ শুধু একটি প্রজন্ম নয়, এটি একটি অদম্য আইডিয়া। তারা এমন এক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা কোনো নির্দিষ্ট নেতার ওপর নির্ভরশীল নয়। তাদের কোনো রাজনৈতিক হেডকোয়ার্টার নেই, যাকে পুলিশ গিয়ে সিলগালা করে দেবে। তাদের আন্দোলনগুলো হয় অর্গানিক, বিকেন্দ্রীভূত এবং প্রযুক্তিনির্ভর। আপনি একজনের ইন্টারনেট কাটবেন, দশজন ভিপিএন দিয়ে প্রক্সি সার্ভার খুলে বসবে। আপনি একজনকে জেলে ভরবেন, হাজার জন রাজপথে নেমে আসবে।
হাসিনার পুলিশ সেদিন ওয়ারলেসে ঠিকই বলেছিল..."যায় না, স্যার, যায় না!"
এই কথাটি আজ পুরো উপমহাদেশের শাসকদের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন।
জয় ককরোচদের জয়। বিপ্লবের এই নতুন অধ্যায়ে স্বাগতম!